শ্যামনগরে নিত্য পন্যের মূল্যে খড়গ


প্রকাশিত : আগস্ট ১০, ২০১৭ ||

শ্যামনগর সদর প্রতিনিধি: উচ্চ দরে চাউল কিনে সংসার চালানোই যেখানে হিমসিম, তারপর মড়ার উপরে খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে হঠাৎ পেয়াজ, রসুন ও আদা সহ সব ধরণের সবজির দাম বৃদ্ধিতে। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষের দৈন্যন্দিন সংসার চালাতে নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন জনে কথা বলে এমন আভাষ পাওয়া যায়।
সূত্র মতে সরকার চাউল আমদানির উপরে ১৮% শতাংশ শুল্ক হার কমানোর ঘোষনা দেওয়ার পরেও বাজারে এর তেমন কোন প্রভাব পড়েনি। চাউলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বজির মূল্য বৃদ্ধিতে খেটে খাওয়া মানুষ দূর্বিসহ জীবন কাটাছ্ছে। চাউলের মূল্য বৃদ্ধির জন্য সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা জড়িত বিশিষ্ট জনদের অভিমত। শ্যামনগর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম বলেন, সরকার দেশ ব্যাপী ১৬০০ মিল মালিক তালিকা ভুক্ত ঘোষনা করেছে। এদের বিরুদ্ধে আইননাুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বন্যা আর বৃষ্টির অজুহাত দেখিয়ে শ্যামনগর সদর সহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের সব বাজারে ব্যবসায়ীরা নিত্যা পন্যের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। গতকাল স্বরজমিনে শ্যামনগর সদরে নকিপুর বাজারে দেখাযায়, ঢেঁড় স ৪৫, পটল ৫০, করলা ৮০, মিষ্টি কুমনা ৪০, পেপে ৪০ ও বরবটি ৪২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত ১৫ দিনের ব্যবস্ধানে ওই সমস্ত সবজিদে কেজি প্রতি ২০-২২ টাকা দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। চন্ডিপুর গ্রামে আফজাল হোসেন ও ভুরুলিয়া গ্রামে জিয়া সহ অনেকে জানা, আমাদের এ অঞ্চলে কোন বন্যা হয়নি তার পরেও ব্যবসায়ীরা বন্যার অজুহাত দেখিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের জিম্মি করে অধিক দামে নিত্য পন্য বিক্রি করছে। বাজার তদারকি ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীরা যা ইচ্ছা তাই করছে এটা তাদের অভিযোগ। নুরনগর গ্রামের আকবর আলী সহ অনেকে জানান, শহরের তুলনায় শ্যামনগরে অধিকাংশ বাজারে তুলনা মূলক সব পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি। তদারকি ও জবাব দিহিতা না থাকায় এটার প্রধান কারণ সুশীল সমাজের মত।
ঈশ্বরীপুর গ্রামে গোলাম মোস্তফা ও আজগার আলী জানান, আমাদের এ অঞ্চলে অধিকাংশ কাঁচামাল সরবরাহ হয় পাটকেলঘাটা, ঝাউ ডাঙ্গা, বেলেডাঙ্গা, কলারোয়া ও যশোরের বিভিন্ন এলাকা থেকে। ওই সমস্ত এলাকায় কোন বন্যা হয়নি। কিন্তু ব্যবসায়ীরা ঠিকই বন্যার দোহাই দিয়ে মানুষের ঠকাচ্ছে। শ্যামনগর সদর বাজারে কাঁচামাল ব্যবসায়ী হাফিজুর ও রব্বানী সহ অনেকেই বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় হঠাৎ মালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
অপর দিকে কুরবানী ঈদের এখনও মাসখানি বাকী। ঈদের গন্ধ পেয়ে মুদি ব্যবসায়ীরা অভিনব কৌশল অবলম্বন করে নিত্য পন্যের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। ঈদের মুখমুখি সময়ে মূল্য বৃদ্ধি করলে হৈ চৈ পড়ে যাবে সেকারণে ব্যবসায়ীরা আগ ভাগেই দাম বাড়িয়েছে। ভুক্তাদের অন্ধকারে রেখে ব্যবসায়ীরা এ কাজটা করেছে। যেন কেউ বুঝতে না পারে। ব্যবসায়ীরা বুঝাতে চাচ্ছে পণ্যের দাম ঈদের আগেই বৃদ্ধি পেয়েছে। ঈদ উপলক্ষ্যে নয়। ইতিমধ্যে প্রতিকেজি পেয়াজে ২০-২২ টাকা, রসুন- ১৫, আদায়- ২০ ও শুকনা মরিচে- ১৮ টাকা দাম বৃদ্ধি পেয়েছে মুদি ব্যবসায়ী সুমন নন্দী জানান। সার্বিক বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি শুনেছি। দেখি কি করা যায়। ভোক্তা অধিকার আইনে যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষন করার দায়িত্ব সরকারের।