কলারোয়ায় স্কুলে টাকা নিয়ে পাতানো নিয়োগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন


প্রকাশিত : আগস্ট ১১, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: নিয়োগ বিধির সকল নিয়ম নীতি ভঙ্গ করে কলারোয়ার হিজলদি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে কম্পিউটার অপারেটর পদে এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার লোক দেখানো কায়দায় পাতানো নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে আলি হোসেন ওরফে আলি ডাক্তারকে এই অবৈধ নিয়োগ দিতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেছেন চাকরির জন্য আবেদনকারীদের কয়েকজন। তারা বলেন, প্রধান শিক্ষক চাকরি দেওয়ার নামে আলি ডাক্তারের কাছ থেকে ছাড়াও প্রার্থী মাহমুদুল আলমের কাছ থেকেও নিয়েছেন দেড় লাখ টাকা।
তবে হিজলদি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমিরুল ইসলাম আগাম টাকা গ্রহন এবং পাতানো পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, তাদের অভিযোগ মিথ্যা। বিধি মোতাবেক নিয়োগ দানের প্রক্রিয়া চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে প্রার্থী আবদুল কাদের বলেন, হিজলদি উচ্চ বিদ্যালয়ে নি¤œমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগের জন্য প্রধান শিক্ষক বিজ্ঞপ্তি দেন। সে অনুযায়ী ৮জন প্রার্থী আবেদন করেন। আজ শুক্রবার সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এই নিয়োগ পরীক্ষা হবার কথা রয়েছে।
অভিযোগ করে তিনি বলেন, এরই মধ্যে ওই পদে নিয়োগের কথা বলে প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম প্রার্থী আলি ডাক্তারের কাছ থেকে ১২ লাখ এবং মাহমুদুল আলমের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়েছেন। তবে আলি ডাক্তারকে নিয়োগ দেওয়ার সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, মাস্টার্স পাস এবং কম্পিউটার চালনায় বিশেষ পারদর্শী প্রার্থী ইমদাদুল হক প্রধান শিক্ষকের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। তারা আরও বলেন, গোপনে চুক্তিবদ্ধ হয়ে প্রার্থী আলি ডাক্তারকে প্রথমস্থান অধিকারী করার জন্য তার হাতে এরই মধ্যে প্রশ্নপত্র পৌছে দেওয়া হয়েছে। এমনকি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের জন্য ইস্যুকৃত প্রবেশপত্রে প্রার্থীর ছবি থাকার নিয়ম থাকলেও এক্ষেত্রে তা করা হয়নি। ফলে আলি ডাক্তারের সাথে কয়েকজন ভাড়াটিয়া পরিক্ষাথীকে বসিয়ে ফলাফল তৈরির পাঁয়তারা চলছে। এই অবৈধ নিয়োগকে তারা প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন।
এ সময় তারা আরও বলেন, ২০১৬ সালে একইভাবে ওই বিদ্যালয়ে মোটা অংকের টাকা নিয়ে দপ্তরী নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রতিবাদের মুখে থেমে যায়। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা বিষয়টি জেলা প্রশাসক এবং জেলা শিক্ষা অফিসারের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। তবে প্রধান শিক্ষক তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন একইভাবে বিদ্যালয়ের একজন দপ্তরি নিয়োগ প্রক্রিয়াও থেমে আছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রার্থী ইমদাদুল হক, ইকরামুল হোসেন, মাহমুদুল আলম, ইলিয়াস হোসেন,মিলন হোসেন ও মো. আলি হোসেন।