শহরের নাথুয়ারডাঙ্গীর বাগানবাড়িতে বৃদ্ধ আবুল হোসেন হত্যাকান্ডের গুরুত্বপূর্ণ আসামী লাভলু আটক!


প্রকাশিত : আগস্ট ১৩, ২০১৭ ||

এম জিললুর রহমান: শহর উপকণ্ঠের নাথুয়ারডাঙ্গীর পারভেজের বাগানবাড়িতে বৃদ্ধ কেয়ার টেকার মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার ৪ বছর পর সিআইডি পুলিশ শনিবার আরও এক আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার পর থেকে সে পুলিশের ধরা ছোয়ার বাইরে ছিল। ধৃতের নাম লাভলু, সে সদর উপজেলার খানপুর গ্রামের আজিবার নাটার ছেলে।
সিআইডি’র সাতক্ষীরা জোনের পরিদর্শক শেখ মেজবাহ উদ্দীন জানান, বিগত ২০১২ সালের ২৭ অক্টোবর ঈদুল আজহার রাতে অজ্ঞাত দু:স্কৃতিকারিরা বৃদ্ধ আবুল হোসেনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। ওইদিন ঈদের নামাজের পর নিহতের ছেলে আরাফাত হোসেন খাবার নিয়ে বাগান বাড়িতে এসে পিতার লাশ পড়ে থাকতে দেখে। স্থানীয়দের সহতায় পুলিশ লাশ উদ্ধার পূর্বক বাগান বাড়ির মালিক শেখ শফিকুজ্জামান পারভেজ ও পরদিন সদরের আলিপুর ঢালি পাড়ার ওয়াদুদের ছেলে রাজমিস্ত্রি মনিরুলকে গ্রেপ্তার করে। এঘটনায় বাগানবাড়ির মালিক পারভেজকে ৩দিনের রিমা-ে এনে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
সূত্রমতে, কুয়েত প্রবাসী শফিকুজ্জামান পারভেজ দেশে ফিরে শহর উপকন্ঠের নাথুয়ার ডাঙ্গী এলাকায় ১২ বিঘা জমি ক্রয় পূর্বক সেখানে ৪টি পুকুর খননসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন করার পাশাপাশি বাড়িও নির্মাণ করছিল। সেগুলো দেখাশুনার জন্য আবুল হোসেনকে ৪ হাজার টাকা বেতনে কেয়ার টেকার হিসেবে চাকুরি দেয়। দিনভর আবুল হোসেন বাগান বাড়িতেই দায়িত্ব পালন করতো।
তবে স্থানীয়সহ অন্যান্য একাধিক সুত্র জানায়, উক্ত বাগান বাড়ির পাশেই শহরের বিভিন্ন নেশাখোর যুবকরা যেত ফেনসিডিল খেতে। সময়ে সময়ে উক্ত বাগান বাড়ির মধ্যেই ফেনসিডিল খাওয়ার চেষ্টা করলে কেয়ার টেকার আবুল হোসেন কর্তৃক বাধা দেওয়া নিয়েই ফেনসিডিল ব্যবসায়ী ও সেবনকারিদের সাথে বিরোধের সূত্রপাতে এহত্যাকা- হতে পারে বলে অভিযোগ উঠে। তৎকালিন সময়ে আবুল হোসেন হত্যাকা-ের ক্লু উদঘাটন করতে খুলনা থেকে গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডির ক্রাইম টিম সাতক্ষীরায় আসে। সিআইডির ক্রাইম টিমের প্রধান ইন্সেপেক্টর সচিন্দ্রনাথসহ ৪ সদস্যের এ টিম তদন্ত করে। তারা অত্যাধুনিক মেশিনারিজ সহ বিভিন্ন ক্যামিক্যাল এনে ঘটনাস্থলে প্রয়োগ করে হত্যাকা- সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করলেও তদন্তে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি।
ঘটনার এক বছর পর তৎকালিন সদর থানার ওসি শাহজান খান আদালতে মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করে। এরপর বাদির নারাজি আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি পুন তদন্তের জন্য সিআইডির উপর ন্যস্ত করেন।
বর্তমানে মামলাটি সিআইডি সাতক্ষীরা জোনের পরিদর্শক শেখ মেজবাহ উদ্দীন তদন্ত করছিলেন। মাস দুই আগে জনৈক কামরুল ও শনিবার লাভলুকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। তদন্তকারি কর্মকর্তার দাবী আটক লাভলু আবুল হোসেন হত্যাকান্ডের পর থেকে পলাতক ছিল। দীর্ঘদিন ভারতে থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এমামলার সে গুরুত্বপূর্ণ আসামী। জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার রহস্য উন্মোচন হবে বলে মনে করেন তিনি। একই সাথে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করতে পারলে মামলাটির চুড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।