বিটিএমসিকে গুণতে হচ্ছে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি কোনো ক্রমেই লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারছে না সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলস্


প্রকাশিত : আগস্ট ১৩, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: কোনো ক্রমেই লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারছে না সাতক্ষীরার সুন্দরবন টেক্সটাইলস্ মিল। আর উৎপাদন টিকিয়ে রাখতে বিটিএমসি গুণতে হচ্ছে প্রতি মাসে মোটা অংকের ভর্তুকি।
মিল কর্তৃপক্ষ বলছে উৎপাদন খরচের চেয়ে বাজারে সুতার দাম কম, শ্রমিক সংকট ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কারণে অব্যাহতভাবে লোকসান যাচ্ছে সাতক্ষীরার একমাত্র ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠান সুন্দরবন টেক্সটাইলস্ মিলে।
সুন্দরবন টেক্সটাইলস্ মিলের জেনারেল ম্যানেজার মো. শফিউল ইসলাম খান মিলের লোকসানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমান এক বেল সুতা উৎপাদন করতে খরচ পড়ে ১২ হাজার ৫৫০ টাকা। সেখানে বিক্রি মূল্য পাওয়া যাচ্ছে প্রতি বেল ৮ হাজার ৪০০ টাকা। ফলে প্রতি বেলেই লোকসান যাচ্ছে ৪ হাজার ১৫০ টাকা। এছাড়া চড়া মূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে। রয়েছে শ্রমিক সংকট। তিনি বলেন, এখানে দু’টো ইউনিটে ৩৫০জন শ্রমিক কাজ করে। এরমধ্যে নারী শ্রমিক হচ্ছে ৮০ শতাংশ। এসব শ্রমিকদের দৈনিক ১৬০ থেকে ২০০ টাকা করে মজুরী দেয়া হয়। কিন্তু এতো কম মজুরীতে শ্রমিক বাড়ানোও সম্ভব নয়। তিনি আরো বলেন, এই মিলটিতে প্রতি মাসে উৎপাদন ব্যয় হয় ৪০ লাখ টাকা। সেখানে মাসে আয় হয়ে থাকে সর্বসাকুল্যে ২৯ থেকে ৩০ লাখ টাকা। ফলে বিটিএমসি মাসে ১০ লাখ টাকা ভর্তুকি দিয়ে থাকে বলে জানান তিনি।
সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলের মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৩ সালে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসকের পাশে তালতলা এলাকায় ৩০ একর জমির উপর প্রতিষ্টিত হয় সুন্দরবন টিক্সটাইলস্ মিল। এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই মিলটি ব্যাপক লাভে চলে যায়। এরপর নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে চরম লোকসানে পতিত হয় এ সম্ভাবমনায় মিলটি। একপর্যায়ে কয়েক দফা বন্দ হয়ে যাওয়ার পর সর্বশেষ ২০১২ সালের দিকে নারায়নগঞ্জের সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স শোমা ইয়ার্ন ট্রেডার্স সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলের নীলকমল ইউনিটটি চুক্তিভিত্তিক চালু করে। বিটিএমসি কাছ থেকে তারা কিছু শর্ত সাপেক্ষে উৎপাদন শুরু করে। একপর্যায়ে ২০১৫ সালে মিলের মূল সুন্দরবন ইউনিটও উৎপাদনে ফিরিয়ে আনে। কিন্তু দুটি ইউনিটই চালু হওয়ার পর থেকে অদ্যবধি মিলটি লাভের মুখ দেখতে পারেনি। অব্যাহত ভাবে লোকসানই করে যাচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাসেম মো. মহিউদ্দিন জানান, খুবই সম্ভাবমনাময় একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান সুন্দরবন টেক্সটাইলস্ মিল। তবে লোকসানের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ইতিমধ্যে মিলটি পরিদর্শক করে এসেছেন। তিনি আরো জানান, অতি শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তিনি আরো বলেন, বিদ্যমান যে সব সমস্যা রয়েছে তা সমাধান করে পূর্বের ন্যায় যাতে মিলটি লাভজনক অবস্থানে যেতে পারে সেই চেষ্টাই করা হবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।