আত্মসমর্পণকারী ১৩২ দস্যুকে এক কোটি বত্রিশ লাখ টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী


প্রকাশিত : আগস্ট ২২, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সুন্দরবনে দস্যুতাবৃত্তি ছেড়ে সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা ১২ বনদস্যু বাহিনীর ১৩২ জন সদস্যকে স্বাবলম্বী করতে অর্থ সাহায্যের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক খন্দকার রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। আগামীকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের টাকা বিতরণ করতে বাগেরহাটে আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক আরো জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে বাগেরহাটের শেখ হেলাল উদ্দিন স্টেডিয়ামে ওই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হকসহ সরকারের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
২০১৬ সালের ৩১ মে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সুন্দরবনের বনদস্যু ‘মাস্টার বাহিনী’ প্রধান ও তার নয় সহযোগীর আত্মসমর্পণের মধ্যে দিয়ে সুন্দরবনের বনদস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরা শুরু হয়।
এরপর ১৩ জুলাই বনদস্যু মজনু এবং ইলিয়াস বাহিনীর সদস্যরাও আত্মসমর্পণ করেন। এনিয়ে গত প্রায় এক বছরে ১২ বনদস্যু বাহিনীর ১৩২জন সদস্য দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তারা বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদও জমা দেন।
এসব দস্যুর আত্মসমর্পণে মূল ভূমিকা পালন করেন বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভির বিশেষ প্রতিনিধি মোহসিন উল হাকিম। তার একান্ত সহযোগীতায় দস্যুরা র‌্যাব-৮ এর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
এব্যাপারে সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জের সুন্দরবন বনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক খান জাহান আলী বলেন, ‘মৌসুম আসলেই সুন্দরবনের বনদস্যু বাহিনীগুলো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গত এক বছরে যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক মোহসিন ভাই ও রাজীব ভাইয়ের সহযোগীতায় সাতক্ষীরা রেঞ্জের শীর্ষ বনদস্যু বাহিনী মজনু, আলম, নোয়া, আলিফ, খোকাবাবু সহ সুন্দরবনের মোট ১২টি বাহিনী সরকারে নিকট আত্মসমর্পণ করার পর থেকে দুই বছর সুন্দরবন ও সাগরে চাঁদাবাজি ও অপহরণ অনেকাংশে কমে গেছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় নতুন করে কেউ বাহিনী গড়ে তুলতে পারছে না।
এ বিষয়ে র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আনোয়ার উজ জামান বলেন, ‘উপকূলীয় জেলা বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পটুয়াখালীর কয়েক লাখ মানুষ সুন্দরবন ও সাগরের উপর নির্ভরশীল। মাছ, শুটকি, মধু, গোলপাতা, কাঁকড়া ও কাঠ সংগ্রহ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। এসব পেশার মানুষ সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব দিয়ে থাকেন। অথচ কিছু বিপথগামী ব্যক্তি নিজ নিজ নামে বাহিনী গড়ে তুলে এই পেশাজীবীদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি, অপহরণসহ নানা অপরাধ করে আসছিল। সুন্দরবন ও সাগরের উপর নির্ভরশীল মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব-৮ দস্যু দমনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।’
কর্নেল আনোয়ার উজ জামান আরো বলেন, ‘সুন্দরবনে র‌্যাবের বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকি রয়েছে। গত সাত বছরে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় বনদস্যু বাহিনীর সঙ্গে র‌্যাবের অসংখ্য গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গত চার বছরে সুন্দরবনে র‌্যাব বরিশাল-৮ এর সঙ্গে দস্যুদের বন্দুকযুদ্ধে ১৬৭ জন জলদস্যু-বনদস্যু নিহত হয়েছেন। নিহত ওই দস্যুদের মধ্যে ৩৮ জন রয়েছে বাহিনী প্রধান।