পুলিশ লাইন্স স্কুলে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও চুরি!


প্রকাশিত : আগস্ট ২২, ২০১৭ ||

আসাদুজ্জামান সরদার: পুলিশ লাইন্স স্কুল থেকে চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ১৯ আগস্ট রাতে প্রধান শিক্ষক আমিনা হকের রুম থেকে এই চুরি হয়। চোরেরা এসময় সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ ও পেনড্রাইভ চুরি করে নিয়ে যায়। এঘটনায় প্রাথমিকভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে স্কুলের আওতায় থাকা দুই জনকে আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, সাতক্ষীরা শহরের সবচেয়ে নিরাপত্তা বেস্টনির মধ্যে অবস্থিত পুলিশ লাইন্স স্কুলে শনিবার রাতে চোরেরা ঢুকে প্রধান শিক্ষকের রুম থেকে এসব জিনিপত্র নিয়ে যায়। বিষয়টি অতি গোপনে পুলিশকে জানানোর পর রোববার রাতে স্কুলের ক্যান্টিনম্যান মাহাবুব হোসেন ও পিওন আবুল হায়াতকে সাতক্ষীরা সদর থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতেই ছেড়ে দেয়। এঘটনায় স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক জানান, চব্বিশ ঘন্টা যেখানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা। সার্বক্ষনিক পুলিশ ডিউটি। এরপরও কিভাবে এখানে চুরি হয়। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে সংশ্লিষ্টদের।

অপরদিকে অভিযোগ রয়েছে, চুরি হওয়ার পর এসব জিনিসপত্র ক্রয়ের জন্য ছাত্র ছাত্রীদের নিকট থেকে চাঁদা উত্তোলন পূর্বক তা ক্রয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ লাইন্স স্কুলে কোচিং বাণিজ্য বেশ জমজমাট আকার ধারণ করেছে। ওই স্কুলের শিক্ষক মোমেনা খাতুন ও ক্রীড়া শিক্ষক ইমরান হোসেনসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বাধ্যতা মুলক কোচিং করানোর অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষক ইমরানের কাছে ও মোমেনার কাছে কোচিং না করলে এসমস্ত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ মারপিট করার অভিযোগ ভূক্তভোগিদের। বিষয়টি পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষদের অবহিত করা হলেও তা নিরশন হয়নি। তবে স্কুলে চুরি ও আটকসহ জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে ক্যান্টিনম্যান মাহাবুব হোসেন বলেন, চুরির ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করে গেছে আমি আর কিছু বলতে পারবো না। স্কুলের শিক্ষক মোমেনা খাতুনের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ক্রীড়া শিক্ষক ইমরান বাধ্যতা মুলক কোচিং করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি প্রাইমারি লেভেলের কয়েজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে কোচিং করিয়ে থাকি। তবে যারা নিজেরা পড়তে চায় তাদের পড়ানো হয়। তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি স্কুলের চুরির বিষয়টি শুনেছি। পুলিশ সুপার স্যারকেও এব্যাপারে জানানো হয়েছে। স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক রাশিদ হাসান খান চৌধুরির মন্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত ০১৮১৮-৮০০২৯১ মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলে সুইচ অফ পাওয়া যায়।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ আহম্মদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পুলিশ লাইন্স স্কুলে চুরির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ লাইনের দুই গেটে সব সময় পুলিশ পাহারা থাকে। ঘটনাস্থল পরিদর্শ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে স্কুলের চুরিটা অভ্যন্তরণী ঘটনা। এজন্য স্কুলের ক্যান্টিনম্যান মাহাবুব হোসেন ও পিওন আবুল হায়াতকে আটক নয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিল। তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। স্কুল প্রধান ছুটিতে আছেন তিনি আসলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শ করে চুরির হলে যে আলামত থাকার কথা তা পাওয়া যায়নি। কাউকে ফাঁসানের জন্য সাজানো ঘটনাও হতে পারে বলে পুলিশের ধারণা।