আশাশুনির ৩৬ স্কুলে দপ্তরি পদে ৩ কোটি টাকার বানিজ্যের পরীক্ষা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে স্থগিত


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৭ ||

আব্দুস সামাদ: অবশেষে স্থগিত করা হয়েছে আশাশুনি উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ্য প্রহরী নিয়োগে পরীক্ষা। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নিয়োগ কমিটির সভাপতি শুক্রবারের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করেন। আশাশুনিতে ৩৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ্য প্রহরী নিয়োগে প্রার্থীদের কাছ থেকে দুয়ে ছেন্দে টাকা নেওয়ার অভিযোগে “দৈনিক পত্রদূত” পত্রিকাসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসকের নজরে আসলে তিনি এ নিয়োগ পরিক্ষা স্থগিতের জন্য নির্দেশ দেন।
এদিকে, নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়োমের বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিনটি অভিযোগ এসেছে। জেলা শিক্ষা অফিসারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের জবাব দিতে নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছা. শামসুন্নাহারকে বলা হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাসেম মো. মহিউদ্দিন বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের জন্য বলা হয়েছে। সকল বিষয়ে তদন্ত করার পর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পণœ করা হবে।
উল্লেখ্য, আশাশুনিতে ৩৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ্য প্রহরী নিয়োগে প্রার্থীদের কাছ থেকে দুয়ে ছেন্দে টাকা নেওয়ার অভিযোগে ওঠে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন করে নিয়োগের বিপরীতে প্রার্থীদের কাছ থেকে মাথা প্রতি ছয় লাখ টাকা থেকে আট লাখ টাকা আদায় করা হয়। এই হিসাবে কম ছে কম ৩ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
অভিযোগে জানাযায়, বুধবার উপজেলার ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অবশিষ্ট ২৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ করার কথা। এরই মধ্যে প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়োগের কথা বলে নির্ধারিত পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে আগাম টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একজন প্রার্থী হাবিবুল্লাহ গাজি জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করেছেন। এতে তিনি নিয়োগে চরম দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরেন।
বুধবার অনুষ্ঠিত ৯টি স্কুলের মৌখিক পরীক্ষায় পূর্বেই টাকার বিনিময়ে প্রার্থী চুড়ান্ত করার খবর ছড়িয়ে পড়ায় কমপক্ষে ৫টি স্কুলে টাকা প্রদানকারী প্রার্থী ছাড়া আবেদনকারী অন্য কেউ মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেননি। ভুক্তভোগী প্রার্থীরা জানান, নোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসাদুল ইসলাম, পাইথলি সরকারি প্রাথমিকে গোপাল চন্দ্র গুহ, উত্তর চাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাইফুল্লাহ গাজি, মধ্যম চাপড়ায় আবদুর রাজ্জাক, হাজিপুর সরকারি প্রাথমিকে সেলিম বৈদ্যকে নিয়োগ দানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা জানান, এসব প্রার্থীর কাছ থেকে আগাম টাকা গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারী অন্য পরীক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে ফিরে গেছে।
হাজিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরির জন্য আবেদনকারী হাজিপুর গ্রামের তৌহিদুল ইসলাম বলেন, তিনিসহ পাঁচজন প্রার্থী পরীক্ষায় হাজির হন। অথচ তারা নিশ্চিত হন যে আগেই অন্যতম প্রার্থী সেলিম বৈদ্যের কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা নিয়ে তার নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
বুধবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় লাউতাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শীতলপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর চাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাইথলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ পাঁচটি বিদ্যালয়ে মাত্র একজন করে প্রার্থী হাজির হন। এসব প্রার্থী আগাম টাকা দিয়ে আগে থেকেই নিশ্চিত হন যে চাকরি তারই হবে। ফলে পরীক্ষায় অন্য প্রার্থীরা হাজির হননি। তবে এই পরীক্ষা বাতিল করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে নিয়োগ বোর্ডের প্রধান উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুষমা সুলতানা। এই বোর্ডের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছা. শামসুন্নাহার খাতুন। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. আফম রুহুল হক ও আশাশুনি উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিমের প্রতিনিধি যথাক্রমে শম্ভুজিত মন্ডল ও বুদ্ধদেব সরকার এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কমিটির সদস্য।
স্মরণযোগ্য যে, এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শিক্ষা অফিসার শামসুন্নাহার ঘুষের টাকাসহ গ্রেপ্তার হন। তখন তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় কর্মরত ছিলেন।