দেবহাটায় নজরুল হত্যাকা-ের মামলায় ১১দিনেও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭ ||

এম জিললুর রহমান: দেবহাটার চাঞ্চল্যকর নজরুল হত্যাকা-ের ঘটনায় দায়েরকরা মামলার তদন্তে ৮০ ভাগ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবহাটা থানার এসআই ইয়ামিন। তবে হত্যাকান্ডের ১১দিনেও এ মামলায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। পুলিশ এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে নিহতের পিতা বাদী হয়ে আদালতে দেবহাটা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব হোসেন খোকনসহ ৪ জনকে আসামী করে আরো একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, গত ৩০ আগস্ট রাত ৮টার দিকে পরিবারের সাথে নজরুলের শেষ কথা হয়। একথার ঘন্টা দুয়েক পর সাদা প্রাইভেট কারে করে একটি লাশ লোর্ড শেডিং অবস্থায় সখিপুর হাসপাতালের স্ট্রেসারে রেখে পালিয়ে যায় অজ্ঞাত দু:স্কৃতিকারিরা। এরপর দেবহাটা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানসহ স্থানীয়রা এসে একই এলাকার একটি আলোচিত মানুষকে কেউ চিনতে পারেনি। এরই মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের খবর পেয়ে দেবহাটা থানার পুলিশ সেখানে পৌছায়। রাতেই লাশের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়না তদন্তে পাঠায়। নিহতের পরিচয় জানতে ফেইজবুকে কয়েকটি পোস্ট আসে ওই জনপ্রতিনিধির। পরদিন লাশটির পরিচয় জানাগেছে মর্মে আরও একটি পোস্ট আসে। এরপর নিহতের পরিবারের সাথে মোবাইলে কথা হয় ওই জনপ্রতিনিধির। সেখানে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয় তোমরা থানায় এসো। আমি নিজে বাদী হয়ে ওমুক ওমুকের নামে মামলা করে দিচ্ছি। এসব বক্তব্য নিহতের পরিবার রিতিমত রেকর্ড করে রেখেছে বলে জানাগেছে।

এদিকে নিহতের পরিচয় জানার পর তার পরিবার লাশটি নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। তারা আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এরই মধ্যে চলতি মাসের ৪ তারিখে নিহতের পিতা মোক্তার মোড়ল বাদী হয়ে দেবহাটা আমলী আদালতে ৪জনকে আসামী করে দ: বিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ওইদিন রাতেই মামলা দায়ের করার সাথে সাথে উক্ত জনপ্রতিনিধির ক্যাডার বাহিনী রাতে কুলিয়ার আশু মার্কেটে নিহতের বড় ছেলে হাবিবুল্যাকে অপহরণের চেষ্টাও করে। তাৎক্ষণিক ফোন আসে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে ও বিভিন্ন সাংবাদিকের কাছে। রাতে দেবহাটা থানার ওসি তদন্ত শরিফুল ইসলাম অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করে ঘটনাস্থলে আছেন বলে জানান।

বর্তমানে সোর্স নজরুল হত্যাকা-ে কারা জড়িত তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্ষতিয়ে দেখছে। আর যে কারণেই নিহতের পরিবার নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বর্তমানে মুখ খুলছে না। খরব রয়েছে, তারা মামলা করে প্রভাবশালি মহলের এতটাই চাপে যে মামলা তুলে নেয়ার কথাও ভাবছেন নিহতের পরিবার। বৃদ্ধ বয়সে ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে প্রভাবশালি মহলের কাছে জিম্মি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন তৎপরতা এখনও পর্যন্ত লক্ষ করা যাইনি। ঘটনার ১১দিনেও যেমন কেউ গ্রেপ্তার হয়নি, তেমনি কাউকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি। তবে পুলিশ বলছে, তদন্তে ৮০ ভাগ অগ্রগতি হয়েছে। যা সুবিধামত সময়ে দৃশ্যমান হবে।
এদিকে অপর একাধিক সূত্র জানায়, পারুলিয়া এলাকার জনৈক ঘরজামাই এর ৩দফে ভারতীয় কাপড় ও থ্রি পিছ সোর্স নজরুলের সহয়তায় আটক করা হয়। চলতি বছরের ১৯ জুন ও তার আগে পরে প্রায় কোটি টাকার পণ্য আটককে ঘিরে প্রতিহিংসার মুখোমুখি ছিল নজরুল। এহত্যাকা-ের পেছনে তার হাত আছে কি না তাও ক্ষতিয়ে দেখার দাবি সংশ্লিষ্টদের।
বর্তমানে পুলিশের অজ্ঞাত হত্যা মামলার পর আদালতে দায়েরকৃত নিহতের পিতার মামলায় যে তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে সে বিষয় গুলিও ক্ষতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বর্তমানে প্রভাবশালি কয়েকজন নিহতের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে এবং অভিযুক্তদের এফিউডেভিটের মাধ্যমে অব্যহতি দিতে চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়।

এদিকে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা দেবহাটা থানার এসআই ইয়ামিন জানান, এটি নিশ্চিত একটি হত্যাকা-, আমাদের কাছে অনেক তথ্য এসেছে। আমরা সেগুলির সত্য মিথ্যা অতি সংগোপনে ক্ষতিয়ে দেখছি। মামলার তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এটি একটি সেনসেটিভ ব্যাপার, তদন্তের স্বার্থে সবকিছু বলা যাবে না।

তবে অচিরেই বিষয়টি পরিস্কার হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালতে একটি নালিশী অভিযোগ হয়েছে। আমরা কপি পেয়েছি। জিআর মামলার বিধান অনুযায়ী আদালতকে অবহিত করেছি। বিজ্ঞ আদালত এখনও কোন দিক নির্দেশনা আমাদেরকে দেননি। তবে আদালতে দায়েরকৃত নালিশী অভিযোগটি তদন্তে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এসব বিষয়ে কথা হয় দেবহাটা থানার ওসি তদন্ত শরিফুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, নিহতের ব্যক্তিগত সেলফোনের কয়েকটি নাম্বার ইতোমধ্যে সনাক্ত করা হয়েছে। সেগুলোর কললিষ্ট পাওয়ার চেষ্টায় আছি। ধীর গতিতে এমামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যহত আছে। তদন্তে অনেকটাই ঘটনার সার্বিক বিষয়ে পরিস্কারও হয়েছে। অতি দ্রুতই দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।