যৌতুক না পেয়ে সন্তান সম্ভবা স্ত্রীকে তালাক


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭ ||

শ্যামনগর প্রতিনিধি: দাবিকৃত যৌতুকের টাকা না পেয়ে ছয় মাসের সন্তান সম্ভবা স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে যৌতুক লোভী স্বামী। এমন কান্ডের পর অসহায় ওই নারী বিজ্ঞ আদালতের দারস্থ হয়েছেন। এদিকে মামলা দায়েরের পর যৌতুক লোভী ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তার তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি শ্যামনগর উপজেলার টেংরাখালী গ্রামের।

তালাক প্রাপ্ত নারী টেংরাখালী গ্রামের মালেক সরদারের মেয়ে নাসিমা পারভীন জানায় গত দুই বছর পুর্বে কালিগঞ্জ উপজেলার ঝড়োখামার এলাকার মাহতাব গাজীর ছেলে কামরুজ্জামানের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিন যেতে না যেতেই তার উপর স্বামীর অত্যাচার নির্যাতন শুরু হয়। একপর্যায়ে স্বামীর শর্ত মেনে তাকে দেড় লাখ টাকা মূল্যের মটর সাইকেল দেয়া হয়।

নাসিমা অভিযোগ করে জানায় গত ছয়/সাত মাস ধরে তার স্বামী ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসা পুনরায় শুরু করার জন্য নুতন করে এক লাখ টাকা দাবি করে। কিন্তু টাকা দিতে অসম্মতি জানানোর কারনে গত তিন মাস পূর্বে তাকে এক কাপড়ে পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়। নাসিমা আরও জানায় গত ২২ আগস্ট কামরুজ্জামান তাকে তালাকনামা পাঠিয়েছে।

নাসিমার পিতা আব্দুল মালেক জানায় বিয়ের সময় নগদ টাকা ও স্বর্নালংকারসহ প্রায় দেড় লাখ টাকার জিনিসপত্র দেয়া হয়। পরবর্তীতে তার দাবি মেনে আরও দেড় লাখ টাকার মটর সাইকেল দেয়া হয়। কিন্তু ব্যবসার কথা বলে নুতন করে দাবিকৃত যৌতুকের টাকা না দেয়ার কারনে তার মেয়েকে তালাক পাঠিয়েছে কামরুজ্জামান।

আব্দুল মালেক অভিযোগ করে বলেন, কামরুজ্জামান আগেও একটা বিয়ে করে এবং দেড় বছরের মধ্যে যৌতুকের দাবি পূরণ না হওয়ায় অন্ত:সত্ত্বা প্রথম স্ত্রী সোনিয়া খাতুনকে তালাক দেয়। ঐ ঘটনার পর থেকে শ্যামনগর উপজেলার জাহাজঘাটা গ্রামের শোকর শোকর শেখ’র মেয়ে সোনিয়া তার পিতার বাড়িতে সন্তান জন্ম দিয়ে সেখানেই অসহায়ভাবে বসবাস করছে। তিনি জানান কামরুজ্জামান তার মেয়েকে তালাক দেয়ার পর তিনি আদালতে মামলা দায়ের করায় এখন তাকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। অনাগত সন্তানসহ তার মেয়ের সংসার বাঁচাতে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দারস্থ হয়েছেন জানিয়ে আব্দুল মালেক বলেন, কামরুজ্জামান কারও কথায় কর্নপাত করছে না।