পটুয়াখালীতে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের উদ্বোধন আজ


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭ ||

পটুয়াখালীতে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন লতাচাপলী ইউনিয়নের মাইটভাঙ্গা এলাকায় নির্মিত সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

এ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে একটি প্রস্তুতিমূলক সভাও করা হয়েছে। এই সংশ্লিষ্টরা জানান, সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনটি চালুর মাধ্যমে এক হাজার পাঁচশো জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সুবিধাসহ নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটে সংযুক্ত হবে। কক্সবাজারে প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের চেয়ে পটুয়াখালীতে দ্বিতীয় প্রকল্পটি পাঁচ গুণ বেশি ক্ষমতা সম্পন্ন। ব্যান্ডউইথ দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে  রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির তথ্য মতে, পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় মাইটভাঙ্গা গ্রামে ২০১৩ সালের শেষের দিকে ১০ একর জমির ওপর ৬৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় বাংলাদেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনটি। প্রকল্পটির কাজ শেষ করার পর ২০১৭ সালের মার্চ মাস থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার পরীক্ষামূলক শুরু  হয়। সাগরের নিচ দিয়ে ইউরোপ থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে ২৫ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যাবল লাইন বঙ্গোপসাগরের উপকূলে কুয়াকাটার স্টেশন থেকে মাত্র সাড়ে ৯ কিলোমিটার দূরত্বে পৌঁছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ল্যান্ডিং স্টেশনের সঙ্গে তা সংযোগ স্থাপন করা হয়।

পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্র্রির  সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এখন বেশিরভাগ ব্যবসা-বাণিজ্য অনলাইনভিত্তিক। তাই কুয়াকাটার সাব মেরিন ক্যাবল স্টেশনটি চালু হলে এ অঞ্চলে ব্যবসার  দ্রুত প্রসার ঘটবে।’

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল টেলিযোগাযোগ বিভাগের আঞ্চলিক প্রকল্প পরিচালক পারভেজ মনন আশরাফ জানান, কক্সবাজারে প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের বিকল্প রুট হিসেবে কুয়াকাটার দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্টেশনটি কাজ করবে। এই স্টেশনটি চালু হলে বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার অনেক বৃদ্ধি পাবে। প্রতি ইউনিটে ব্যান্ডউইথের খরচও কমে যাবে। আর এতে ইন্টারনেট সেবা মানুষের দোর গোরায় পৌঁছে যাবে। দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, খুলনা অঞ্চলে আইটিবিষয়ক সেবার প্রসার ঘটবে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে ব্যান্ডউইথ রফতানির পরিকল্পনাও রয়েছে। ইতোমধ্যেই  ভারতের ত্রিপুরায় ব্যান্ডউইথ রফতানি হচ্ছে।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মাছুমুর রহমান বলেন, ‘সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে ইন্টারনেট সেবায় স্বয়ংসম্পূর্ণ করা। পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যান্ডউইথ যাতে মানুষের মধ্যে সরবরাহ করা যায়, তাই দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্টেশনটি নির্মাণ করা হয়েছে।’

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার মো. মশিউর রহমান জানান, ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে ল্যান্ডিং স্টেশনের সংযোগের কাজ শেষ হয়।মার্চ মাস থেকে পরিক্ষামূলকভাবে ৪০ জিবিপিএস পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ সুবিধাসহ ইন্টারনেট ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি আরও  জানান, ২০০৬ সালে কক্সবাজারে প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল স্টেশন স্থাপন করা হয়। এটি  ৩শ’ জিবিপিএস ক্ষমতাসম্পন্ন। কিন্তু ইতোমধ্যেই ২৫০-২৬০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করা হয়েছে। কুয়াকাটার দ্বিতীয় সাবমেরিন স্টেশনের ধারণ ক্ষমতা হলো এক হাজার ৫ শ’ জিবিপিএস। কক্সবাজারের চেয়ে এটি ৫ গুণ বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন। এই সাবমেরিন স্টেশনটি চালু হলে দেশে ইন্টারনেট ও ব্যান্ডউইথের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিপ্লব ঘটবে।

মশিউর রহমান বলেন,‘রবিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্টেশনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’