সাপের কামড়ে ফেসবুকে নিজেই ভ্যাকসিনের সন্ধান করেছিলেন-শিমু


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৭ ||

টাঙ্গাইলের বাসাইলে সাপের কামড়ে আয়েশা আক্তার শিমু (২৭) নামের এক শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আয়েশা নিজ বাড়িতে বিষাক্ত সাপের দংশনের শিকার হন।
তবে সাপে দংশনের পরপরই আয়েশা বাঁচার জন্য তার নিজ ফেসবুকে ভ্যাকসিনের সন্ধান চেয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। যথা সময়ে ভ্যাকসিন না পাওয়ায় ওই রাতেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিমু বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছিলেন। এসময় তার আত্মচিৎকারে বাড়ির লোকজন এগিয়ে আসলে আয়েশা জানায় তাকে সাপে কামড় দিয়েছে। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে সাপে কাটার ভ্যাকসিন না থাকায় রাত একটার দিকে ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। তারপরও মৃত্যু মেনে নিতে পারছিলেন না নিহত আয়েশার পরিবার। পরে বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানেও কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে সাপে কামড়ানোর পরপরই ভ্যাকসিনের সন্ধানে শিমু নিজেই তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন- ‘টাঙ্গাইলের কোথাও কি সাপের ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। ‘স্ট্যাটাস দিয়ে বিষের যন্ত্রণায় তিনি ফেসবুক থেকে বের হয়ে যান। ফেসবুক কমেন্টে অনেকেই ভ্যাকসিনের সন্ধান দিয়েছিলেন। কিন্ত ফেসবুক বন্ধুদের সে কমেন্ট তার কোন কাজেই আসেনি। ভ্যাকসিনের অভাবে তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার যেন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত শিমুর বাবা নুরু মিয়া ক্ষোভের সাথে বলেন, শিমুকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার চিকিৎসক জানায় সাপে কাটার ভ্যাকসিন নেই। আজ ওই হাসপাতালে ভ্যাকসিন থাকলে শিমুর মৃত্যু হতো না। শিমুর মতো ভ্যাকসিনের অভাবে আর যেনো কারো মৃত্যু না হয়।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. পুতুল রায় বলেন, সাপে কাটার ভ্যাকসিন সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধায়নে থাকে। চাহিদা দেওয়া মাত্রই ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে হয়তো সাপে কাটা রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হতো বলে তিনি মনে করেন।

উল্লেখ্য, শিমু উপজেলার কাঞ্চনপুর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ও একই এলাকার নুরু মিয়ার মেয়ে। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় ব্যাচের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে বিসিএস ক্যাডারশীপের স্বপ্ন দেখেছিলেন। ৩৬ তম বিসিএসে ভাইভা বোর্ডে চমৎকার পারফরমেন্স দিয়ে আসা এবং ৩৭ তম বিসিএসে লিখিত পরীক্ষা দেওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি।