রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনা বৃহস্পতিবার


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৭ ||

 

রাখাইনের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিপন্নতা নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ওই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

ক’দিন আগে বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রসহ সাত দেশ জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টনিও গুয়াতেরেজকে অনুরোধ করেন, তিনি যেন মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চলমান ‘জাতিগত নিধন’ নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি সে সময় জানায়, আলোচনার দিনক্ষণ ঠিক করতে শলা-পরামর্শ চলছে। সেই শলা-পরামর্শ শেষে বৃহস্পতিবারকে আলোচনার দিন নির্ধারণ করা হয়।

এর আগেও দুই দফায় রাখাইনের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে পরিষদে আলোচনা হয়েছে। সবশেষ আলোচনার পর ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি বিবৃতিও দিয়েছে জাতিসংঘের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সেই প্রস্তাবে সহিংসতা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। সমালোচনা করা হয় অভিযানে বেসামরিকদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের। বৃহস্পতিবার একটি মুক্ত আলোচনা পর্বে মিয়ানমারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে। এরপর জাতিসংঘ মহাসচিব রোহিঙ্গা প্রশ্নে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করবেন।

এএফপির খবর অনুযায়ী, পরিষদের স্থায়ী-অস্থায়ী ৭ সদস্য ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, কাজাখস্তান, সেনেগাল এবং সুইডেন জাতিসংঘ মহাসচিবকে এই আলোচনার আহ্বান জানায়। আসছে বৈঠকে সভাপতিত্ব করবে ইথিওপিয়া।

রাখাইন পরস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের প্রথম আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় আগস্টের শেষ সপ্তাহে। সেখানকার ‘জাতিগত নিধন’ নিয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাজ্য ২৯ আগস্ট (মঙ্গলবার) আগ্রহ প্রকাশ করে এবং ৩০ আগস্ট (বুধবার) আলোচনার দিন ধার্য হয়। রুদ্ধদ্বার বৈঠকে রাখাইন ও রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পরিষদের সদস্যরা মিয়ানমারের এই দুইপক্ষের মধ্যে সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা ও রাখাইন পরামর্শক কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স সে সময় খবর দেয়, পরিস্থিতি খারাপ হলে ভবিষ্যতে আবার আলোচনা হতে পারে।

পরিষদের দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় চলতি বছরে। ১৪ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক সময় বুধবার দুপুরে (বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত মধ্যরাত) ৯ বছর পর নিরাপত্তা পরিষদের সব সদস্যের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে এক বিবৃতি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে চলমান সহিংসতায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সেখানকার সহিংসতা বন্ধেরও আহ্বান জানানো হয়। জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ রাইক্রফট সে সময় এক বিবৃতিতে বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনায় পরিষদ উদ্বেগ প্রকাশ করে এর নিন্দা ও তা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। রাখাইন রাজ্য ও রোহিঙ্গাদের ওপর বিপর্যয় নেমে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সহিংসতা বন্ধের পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদের ওই বৈঠকে রাখাইনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা, আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, নাগরিকদের সুরক্ষা, সামজিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক করা এবং শরণার্থী সমস্যা নিরসনের আহ্বান জানানো হয়েছিল। পরিষদের বিবৃতিতে শরণার্থীদের সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানানো হয় এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থাগুলোকেও এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা রাখাইন পরিস্থিতির একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের বিষয়ে একমত হয়। কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয় সেই বৈঠকে।

২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর তথাকথিত ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৪ লাখ ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে জাতিগত নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।