‘আমি বিশ্বাস করি, সবাই আইন মেনে গাড়ি চালাবেন’


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৭ ||

 

সবাই আইন মেনে গাড়ি চালাবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, ‘যারা উল্টো পথে গাড়ি চালান তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, সবাই আইন মেনে গাড়ি চালাবেন।’

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উল্টোপথে গাড়ি না চালাতে আমি বারবার অনুরোধ করেছি। এতে ট্রাফিক জটের সৃষ্টি হয়। আমি আবারও অনুরোধ করছি, উল্টোপথে গাড়ি চালাবেন না। আমাদের রাস্তা কম, গাড়ি বেশি। উল্টো পথে গাড়ি চালালে বেশ সমস্যা হয়। তবে এটা রোধ করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স জরুরি কাজ করে, জরুরি সার্ভিস দেয়। তাই তাদের বিষয়টি একটু আলাদা করে দেখতে হবে।’

উল্লেখ্য, গত রবিবার রাজধানীর হেয়ার রোডে উল্টোপথে গাড়ি চালানোর অপরাধে মামলা হয়েছিল পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মাফরুহা সুলতানার গাড়ির বিরুদ্ধে। সোমবার বিকালে আবারও উল্টোপথে গাড়ি চালিয়ে বাংলামোটরে ধরা পড়েন সেই গাড়ির চালক বাবুল মোল্লা। বাংলামোটরে তার গাড়ি আটকানো হলে বাবুল মোল্লা ট্রাফিক পুলিশের ওপর ক্ষেপে যান। তার প্রশ্ন, নতুন কোনও আইন হয়েছে কিনা।

এদিকে, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পরপর দুইদিন রাজপথে উল্টোদিকে গাড়ি চালিয়ে ধরা পড়ে যাওয়ার ঘটনায় সমবায় অধিদফতরের গাড়িচালক বাবুল মোল্লাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। উত্তর পাওয়ার পর তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

উল্টো পথ দিয়ে চলার কারণে সোমবার যেসব যানবাহন ও মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে তার বেশিরভাগই সরকারি। আর রবিবার উল্টো পথে চলার কারণে ৫৭টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা ও সাতটি গাড়ির কাছ থেকে রেকার বিল আদায় করা হয়। যার মধ্যে ৪০টিরও বেশি ছিল সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। ওইদিন প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব, প্রকৌশলী, রাজনীতিবিদ, পুলিশ, সাংবাদিক, বিচারক ও ব্যবসায়ীদের গাড়িও ছিল।

ডিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আট লাখ ২৪ হাজার ১৩টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এরমধ্যে হাইড্রোলিক হর্নের জন্য ২৫ হাজার ৭৪৯টি, হুটার ও বিকন লাইটের জন্য দুই হাজার ১৯৯টি, উল্টোপথে চলাচলের অভিযোগে ৬৯ হাজার ৬৫৫টি, স্টিকারের জন্য ২৫৩টি, কালো গ্লাসের জন্য এক হাজার ৫৮০টি, মোটর সাইকেলের বিরুদ্ধে ২ লাখ ৯ হাজার ৩৫১টি মামলা দায়ের করা হয়। বাকি মামলাগুলো অন্যান্য অভিযোগে করা হয়েছে। এসব মামলায় জরিমানা আদায় করা হয় ৩৯ কোটি ৮৩ লাখ ৭৫ হাজার ২৩৫ টাকা।