আমি যে কবে একেবারে ভালো হয়ে যাবো: মুক্তামনি


প্রকাশিত : October 14, 2017 ||

পত্রদূত ডেস্ক: ‘আমি যে কবে একেবারে ভালো হয়ে যাবো। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে চাই। চাই আবার স্কুলে যেতে, আর তখন সবাইকে আমার হাত দেখাবো, ছোট ভাইকে কোলে নেব।’ শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের মুক্তামনির সঙ্গে আলাপকালে প্রতিবেদককে সে এসব কথা বলে।

 

জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর মুক্তামনির হাতে প্রথম চামড়া লাগানোর (স্কিন গ্রাফটিং) পরদিনই তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু এখন মুক্তার কাছে হাতের ব্যথার চেয়ে পায়ের ব্যথাকেই বেশি মনে হচ্ছে। এতদিন তো কেবল হাতে ব্যান্ডেজ ছিল আর এখন পায়েও অনেক বেশি যন্ত্রণা হয়, জানালো মুক্তামনি নিজেই।

কেবিনের বিছানায়, আক্রান্ত ডান হাত আর ডান পায়ের পুরোটাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে শুয়ে আছে মুক্তামনি। পাশে জমজ বোন ছোটভাইকে নিয়ে মোবাইলে গেমস খেলছে, সেটাই ঘাড় ঘুরিয়ে দেখছে সে। এ প্রতিবেদককে সে জানায়, ডান পায়ের উরু থেকে চামড়া নিয়ে হাতে লাগিয়েছে, তাই এখন পায়ের ব্যথায় জ্বর এসেছে, তবে সকালের দিকে জ্বর কমে গেলেও কাশি হচ্ছে খুব, তাই নেবুলাইজার দিতে হবে। দিতে হবে কিছু ইনজেকশন আর স্যালাইনও।

মুক্তা জানায়, কিছুক্ষণ আগে একবার ক্যানোলা দেয়ার জন্য আন্টি (কর্তব্যরত নার্স) এলেও তা দেওয়া হয়নি। খুব কষ্ট লাগে এখন ইনজেকশন দেওয়ার সময়। এসময় মুক্তার মা আসমা বেগম বলেন, ‘আমার শক্ত মেয়েটা ছুরি-কাঁচির নিচে পরে কেমন যেন ভীতু হয়ে গেছে।’ মায়ের কথা শুনে মুক্তামনি হাসে আর বলে, ‘আমার তো ব্যথা লাগে।’

হাসপাতালের বিছানায় মুক্তামনি
মুক্তামনির কথা শেষ হওয়ার আগেই ক্যানোলা করার জন্য আবার এসে হাজির হন কর্তব্যরত নার্স রাখি আক্তার। ক্যানোলার জন্য বাম পায়ে শিরা খুজঁতে গিয়ে ব্যর্থ হন তিনি। রাখি বলেন, ‘মেয়েটার শরীরে আর সুঁই লাগানোর জায়গা নেই। আগে ডান পায়ে করা গেলেও এখন তো তাও ব্যান্ডেজ করা।’

মুক্তামনির সুস্থ হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই বলেছি, মুক্তামনির বিষয়ে আমাদের কোনও তাড়াহুড়ো নেই। ধীরে ধীরে আমরা ওর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সব দেখে-শুনে ওর শারীরিক অবস্থার কথা সবসময় বিবেচনা করেছি প্রতিটি অস্ত্রোপচারের আগে। আর ওতো এমনিতেই অপুষ্টিতে ছিল, নানা ধরনের জটিলতা ছিল। আর গত কয়েকটি অস্ত্রোপচারের অ্যানেসথেশিয়ার প্রভাবও রয়েছে তার শরীরে। তাই এখন আমরা একটু সময় নেব পরবর্তী চামড়া লাগানোর জন্য।’

গতদিন স্কিন গ্রাফটিংয়ে মুক্তার হাতে ৫০ শতাংশ চামড়া লাগানো হয়েছে উল্লেখ করে ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘আমরা এই স্কিন গ্রাফটিংকে বলছি, ওর সুস্থ হওয়ার প্রথম ধাপ। কয়েকদিন পর হাতের বাকি অংশতেও চামড়া লাগানোর জন্য আমরা রেডি হচ্ছি, তবে সেটা বেশ কয়েকদিন পর। শারীরিকভাবে সে আরেকটু স্টেবল হয়ে নিক, তবে আমাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে ওকে নিয়ে।’