কালিগঞ্জে মাদক ব্যবসায় উত্থান কোটিপতি জহুরের: অজ্ঞাত কারণে ধরাছোয়ার বাইরে


প্রকাশিত : নভেম্বর ১৫, ২০১৭ ||

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জ, দেবহাটা, শ্যামনগরসহ পাশ^বর্তী এলাকায় মাদকের জগতে একটি পরিচিত নাম জহুর আলী গাজী। মাদক ব্যবসা করে তিনি হয়েছেন কয়েক কোটি টাকার মালিক। এ যেন সিনেমার গল্পের মতো। সম্প্রতি জহুর আলী গাজী থানায় এসে মাদক ব্যবসা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আত্মসমর্পন করলেও তার পরিবারের সদস্যদের নেতৃত্বে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে সবকিছুই। মামলার আসামি হয়ে অনেকটা প্রকাশ্যে ঘুরছে। অথচ অজ্ঞাত কারণে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের মৃত রাজাউল্ল্যাহ গাজীর ছেলে জহুর আলী গাজী (৫৫)। প্রথম জীবনে জহুর গাজী শুইলপুর মোড়ে ছোট একটি মুদির দোকান দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু করেন। মুদির দোকানের উপার্জন দিয়ে জীবিকা নির্বাহ হতো তার। এক সময় অভাবের সংসারের কথা চিন্তা করে ব্লাকে ভারত থেকে ঘড়ির যন্ত্রাংশ এনে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি শুরু করেন। এমনি করে সে এক সময় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েন। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন বাংলাদেশের অন্যতম একজন মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে। বিভিন্ন কৌশলে ভারত থেকে একের পর এক ফেন্সিডিলের চালান আনতে থাকেন। মাদক ব্যবসার প্রসারের লক্ষ্যে তিনি উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের মৃত শেখ ইলাহী বক্সের মেয়ে এক সন্তানের জননী রাজিয়া সুলতানাকে বিয়ে করেন। জহুর আলী গাজীর মাদক ব্যবসার মোড় পাল্টে দেন তার দ্বিতীয় রাজিয়া সুলতানা। নিজের দেহের সাথে বহন করে শতশত বোতল ফেন্সিডিল নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে পাচার করতে থাকেন রাজিয়া। এছাড়াও অভিনব পদ্ধতিতে চলতে থাকে ফেনসিডিল বিক্রি ও সরবরাহ। দেশের যুব সমাজকে ধ্বংস করে অল্প কয়েক বছরের মধ্যে তিনি হয়ে যান কোটি কোটি টাকা ও সম্পত্তির মালিক।
জানা যায়, খুলনার রাজাপুরে ৫ কাটা জমির উপর আলীশান দু’তলা বাড়ি, সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়কে ৭ বিঘা জমি, কালিগঞ্জ নলতার রওজার মোড়ে ১ বিঘা জমির উপর গড়ে তুলছেন বিশাল আকৃতির ৪তলা মার্কেট, নলতার তাঁত বোর্ডের সামনে ১০ কাঠা জমির উপর ৪তলা বিলাস বহুল বাড়ি। এছাড়া রয়েছে ৪০-৫০ বিঘা সম্পত্তি। এই সব সম্পত্তি সে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে উপার্জন করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
ব্যবসা করতে যেয়ে তিনি বহুবার পুলিশের খাঁচায় বন্দী হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন থানায় এক ডজনের অধিক মাদক মামলা রয়েছে তার নামে। তবুও থেমে নেই মাদক ব্যবসায়ী জহুর গাজী। সম্প্রতি জহুর গাজী থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন এবং ভবিষ্যতে আর মাদক ব্যবসা করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। তিনি কালিগঞ্জ থানায় ৩ হাজার বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার মামলার আসামি। মামলা হওয়ায় তিনি এলাকার বাইরে অবস্থান করছেন। আর সেখান থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এলাকায় তার মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এসব সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন জহুর আলীর স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা (৩৮), ছেলে শাহীন আলম (২৫) ও ভাই মাসুদ (৩৫)। জহুর আলীর স্ত্রী, ছেলে এবং ভাইয়ের নামে রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। বর্তমান তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা ও মাসুদের নামে ৩ হাজার বোতল ফেন্সিডিল মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও তার স্ত্রী নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছেন। কিন্তু পুলিশ তাকে অজ্ঞাত কারণে গ্রেপ্তার করছে না বলে জানা যায়। সম্প্রতি ৫৫০ বোতল ফেন্সিডিলসহ পুলিশের হাতে আটক হয় জহুর আলীর ছেলে শাহীন আলম। পরবর্তীতে ৬৫০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধারের পর তার নামে মামলা করে পুলিশ। তাদের যাবতীয় মাদক ব্যবসার কাজে নলতার জনৈক খালেক নামের এক ব্যাক্তি সহযোগিতা করছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
অবৈধ মাদক ব্যবসায়ী মাদক স¤্রাট জহুরের নিকট মোবাইল ফোনে তার সম্পত্তির উৎস সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি নিজের দায় স্বীকার করে বলেন, ‘আমি ১৯৯০ সাল থেকে ফেন্সিডিলের ব্যবসা আরম্ভ করেছি। এই ব্যবসা করে অনেক টাকা উপার্জন করেছি। তবে এখন আর ব্যবসা করছি। প্রায় ৬ মাস আগে থেকে আমি মাদক ব্যবসা বাদ দিয়েছি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) রাজিব হোসেন বলেন, জহুর গাজী এলাকায় মাদক স¤্রাট হিসেবে পরিচিত। তার নামে ডজন খানেক মামলা এখনও চলমান আছে। আগেও সে বহু মাদক মামলা থেকে অব্যহতি পেয়েছে। জহুর তার কালো টাকার জোরে বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে তার মাদক ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে। রাজনৈতিক একটি মহলের ছত্রছায়ায় থাকা দেশের যুবসমাজ ধংসকারী কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী জহুর আলী গাজী, তার স্ত্রী রাজিয়া, ছেলে শাহীন, ভাই মাসুদসহ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত সকলের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসি।