আশাশুনি বাইনতলায় ধর্ষণ মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকির অভিযোগ


প্রকাশিত : নভেম্বর ১৫, ২০১৭ ||

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনির বহুল আলোচিত ধর্ষণ মামলা তুলে নিতে বাদীপক্ষকে হুমকি ধামকি অব্যাহত রেখেছে আসামীর পরিবার। ভগিরথ’র মামা বামনডাঙ্গা গ্রামের মনিন্দ্রনাথ ঢালী প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে গর্ভপাত করাতে ব্যর্থ হয়। এখন বাদীকে বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে মিটিয়ে নেওয়ার কথায় রাজি না হওয়ায় হুমকি অব্যাহত রেখেছে আসামীরা। এমনি চলতি জেএসসি পরীক্ষা ভিকটিম যাতে দিতে না পারে সেখানেও বাধা সৃষ্টি করছে বলে বাদী বিশ্বনাথ মন্ডল জানায়। তিনি আরও জানান, তারা অনেকে টাকার বিনিময়ে তাদের পুত্র ও অপর আসামীদেরকে জামিন দিয়ে আমাকে দেশ ছাড়া করবে বলে আসামীর পরিবার হুমকি ধামকি দিচ্ছে। ইতোমধ্যে ধর্ষণ মামলা অন্যতম আসামী ভগিরথকে পুলিশ আটক করেছে। বর্তমানে উক্ত সে জেল হাজতে রয়েছে। অপর ৫জন আসামী মামলা দায়েরে পর হতে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আত্মগোপন করে থাকলেও মামলার আর এক আসামী মনিন্দ্র ঢালী রয়েছে বহাল তবিয়দে। ফলে চরম বাদী নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে। উপজেলার বাইনতলা গ্রামের বিধান মন্ডল ওরফে বিধে’র পুত্র আশাশুনি সরকারি কলেজের ছাত্র ভগিরত (২৪) তার ভাতিজি সম্পর্কিত পাশ্ববর্তী একই বাড়ির বিশ্বনাথ মন্ডলের বাইনতলা স্কুলের ৮ম শ্রেণি পড়–য়া ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দিতে থাকে। মেয়েটি কোনভাবে রাজি না হলে সে একই বাড়ির রবীনের স্ত্রী সাবিত্রীকে ব্যবহার করে তাকে রাজি করানোর জন্য। সাবিত্রী মেয়েটিকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে ভগিরতের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। আর এতে সহযোগিতা করে একই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র ধীরাজ মন্ডল, অলজ মন্ডল, চিরঞ্জীত মন্ডল ও কলেজ ছাত্র সুব্রত মন্ডল। মেয়েটি সরল বিশ্বাসে তার ঘরে গেলে কথাবার্তার এক পর্যায়ে চাচারুপি পাষন্ড ভগিরত তার মুখ চেপে ঘরের মধ্যে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। শালিসে সিদ্ধান্ত হয় ক্ষতিপুরণ হিসেবে মেয়েটির পরিবারকে নগদ ১ লক্ষ টাকা দিতে হবে। সে মোতাবেক ৫০ হাজার টাকা রবিবার রাতে নিয়ে সোমবার মেয়েটিকে একই গ্রামের দীনেশ সরদার ও আসামী বামনডাঙ্গা গ্রামের মন্দ্রিনাথ ঢালী সাতক্ষীরার একটি ক্লিনিকে নেয়া হয়। সাংবাদিকরা টের পেলে তারা ফিরে আসে। পরবর্তীতে ১২-১০-১৭ তারিখে আশাশুনি থানায় ৬(১০)১৭ একটি মামলা দায়ের হয়। মামলার প্রধান আসামী ভগিরথ মন্ডলকে গ্রেপ্তার করেছেন। এব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরের পর ভগিরথসহ অন্য আসামীরা পালিয়ে যায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুর রাজ্জাক ঝটিকা অভিযানের পাশাপাশি মূল আসামী ভগিরথকে আটক করতে সক্ষম হলেও পালিয়ে বেড়াচ্ছে অন্যান্য আসামীরা। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আসামীদেরকে জামির দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে তদবির চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে ভিমটিম জেএসসি পরীক্ষায় বড়দল কেন্দ্র পরীক্ষা দিচ্ছেন বলে তার পরিবার সুত্রে জানা যায়।