কেশবপুরে ১৫ দিনে কুকুরের কামড়ে ২১ জন আক্রান্ত


প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১, ২০১৭ ||

 

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কেশবপুরে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১৫ দিনে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে ২১ জন শিশু, নারী পুরুষ কেশবপুর পৌরসভা থেকে জলাতঙ্ক প্রতিষেধক গ্রহণ করেছে। এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কেশবপুর পৌর এলাকাসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। পৌর সদরের সড়কগুলোতে দল ধরে বেওয়ারিশ কুকুর ঘুরে বেড়ানোয় স্কুল শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। বেওয়ারিশ কুকুর প্রায়ই এলাকায় মানুষ কামড়ে আহত করছে। পৌরসভা সূত্রে জানাগেছে, কুকুর নিধন বন্ধের নির্দেশনা রয়েছে। পৌরসভার স্যানিটারী ইন্সপেক্টর অসীত কুমার ঘোষ জানান, গত ১৫ দিনে পৌরসভাসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ২১ জন জলাতঙ্ক প্রতিষেধক গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) ভোগতী নরেন্দ্রপুর গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে সাজু (), প্রতাপপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে জুবায়ের হোসেন (), নেপাকাটী গ্রামের হুমায়ূন কবীরের স্ত্রী খাদিজা খাতুন (২৯) এবং মধ্যকুল গ্রামের উজ্জ্বল বিশ্বাসের ছেলে সুজিত বিশ্বাস () কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে জলাতঙ্ক প্রতিষেধক নিয়েছে। পাশাপাশি গত ১৯ নভেম্বর ঝিকরা গ্রামের জুলফিকার আলীর স্ত্রী পাপিয়া খাতুন (১৮), আলতাপোল গ্রামের গোপাল কৃষ্ণ ব্যানার্জীর ছেলে গৌতম ব্যানার্জী (৪৩), বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত অধীর বসুর ছেলে মুরারী বসু (৬০), মধ্যকুল গ্রামের কালীপদ সাহার ছেলে বিপ্র সাহা (৩৪), ১৬ নভেম্বর আওয়ালগাঁতী গ্রামের আকর মোড়লের ছেলে মেহের আলী (৭৫), হাড়িয়াঘোপ গ্রামের আব্দুস সবুরের ছেলে মাহিন (), সন্যাসগাছা গ্রামের মৃত জব্বার গাজীর ছেলে আতিয়ার গাজী (৫০), কোমরপোল গ্রামের আব্দুস সাঈদের ছেলে আবু হুরাইরা (), আগরহাটী গ্রামের আব্দুর বারী মোড়লের ছেলে আব্দুল হালিম (৩৪), ১২ নভেম্বর পাথরা গ্রামের মৃত ইমান আলীর স্ত্রী ফতেমা (৮০), বেগমপুর গ্রামের শের আলী মোড়লের ছেলে ওজিয়ার রহমান (৪৬), বাঁকাবর্শী গ্রামের আব্দুল গণির ছেলে সাইফুল্লাহ (), ০৯ নভেম্বর বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ফজর সরদারের ছেলে মোবারক সরদার (৩৬), ধর্মপুর গ্রামের এবাদুল সরদারের ছেলে নাঈম (), দোরমুটিয়া গ্রামের আজিজুর রহমানের মেয়ে মাওয়া (), দোরমুটিয়া গ্রামের রিজাউল ইসলামের ছেলে ফেরদৌস (), সুফলাকাটী গ্রামের আসাদুজ্জামানের ছেলে মাহাবুর () কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে জলাতঙ্ক প্রতিষেধক গ্রহণ করে। কেশবপুর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সামিয়া ইসলাম, আল আমিন মডেল একাডেমির কেজির ছাত্রী তাসনিম তাবাচ্ছুম তামিহা জানায়, রাস্তায় কুকুর দল বেধে ঘুরে বেড়ায় বলে স্কুলে আসা যাওয়ার সময় ভয় লাগে।

কেশবপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শেখ আতিয়ার রহমান জানায়, সম্প্রতি পৌরসভা এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, তার ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামেসহ হাট বাজারে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম বলেন, পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব নেই।