পাবলিক-এর মতো করে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি চালাতে চায় ইউজিসি


প্রকাশিত : জানুয়ারি ৬, ২০১৮ ||

 

বাংলাদেশে ৩৭টি পাবলিক ও ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দসহ প্রায় সবক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ না দিলেও বাড়তি ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ চেয়েছে ইউজিসি। এই সংস্থার ৪৩তম বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন সুপারিশ করা হয়েছে।

এর আগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০-এর সংযোজন আর বিয়োজন চেয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে সুপারিশ করে ইউজিসি। এই আইন সংশোধনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এ বছরের শুরুতে ‘১ নং সাব কমিটি’ গঠন করে বলে সূত্রে জানা যায়। ওই সাব কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের জন্য কয়েকটি সভা করে ও বেশকিছু স্থানে সংশোধনী আনে। সংশোধিত ওইসব সুপারিশ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব আকারে পাঠিয়েছে ইউজিসি।

ওইসব সুপারিশে বলা হয়েছে, কমিশনের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া বোর্ড অব ট্রাস্টিজের কোনও পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করা যাবে না। বরং ট্রাস্টি বোর্ডে কমিশনের নজরদারির জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তাকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।

রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো সুপারিশে আরও বলা হয়— বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে সংরক্ষিত তহবিলের টাকা বা লভ্যাংশ কমিশনের অনুমতি ছাড়া উত্তোলন ও অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করা যাবে না। তবে কমিশনের অনুমতি নিয়ে লভ্যাংশ বিনিয়োগ করা যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন খাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ে গঠিত অর্থ কমিটিতে কমিশন মনোনীত আর্থিক বিষয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন সদস্য রাখতে হবে।

এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদালয়ের শিক্ষার্থীর ফি নির্ধারণ করে দেবে ইউজিসি। কমিশন বলছে, ‘এসব সুপারিশ আগেও করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি।’

জানা যায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়-ব্যয় অডিটের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ দেওয়া সিএ প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছে ইউজিসি। সরকার ও কমিশনের কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোনও আদালত এই আইনের অধীন অপরাধ বিচারের জন্য গ্রহণ করবে না। তবে আইনটির উদ্দেশ্য পূরণের জন্য ইউজিসি’র পরামর্শক্রমে গেজেটের মাধ্যমে প্রয়োজনে বিধি প্রয়োগ করতে পারবে সরকার।

সুপারিশে কমিশন বলেছে— পাবলিক ও বেসরকারি পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক গুণ বৃদ্ধি পেলেও ইউজিসি’র জনবল বাড়েনি। শিক্ষার মান ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ইউজিসিকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনবল বাড়ানো প্রয়োজন।

তবে জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করা হলেও অভিযোগ রয়েছে, এই সংস্থার কর্মকর্তারা সারাবছরই বিদেশ সফরে ব্যস্ত থাকেন। অনেক সময় কার্যালয়ে গেলে তাদের পাওয়া যায় না। তথ্যের জন্যও অপেক্ষা করতে হয় দিনের পর দিন।

জানা যায়, গত ১৬ ডিসেম্বর গিয়েছিলেন অধ্যাপক আব্দুল মান্নান ভারত সফরে গিয়েছিলেন। ইউজিসি চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর এ নিয়ে গত আড়াই বছরে ২৬ বার বিদেশ সফরে গেছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন সংশোধনের সুপারিশের বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নানের সঙ্গে বাংলা ট্রিবিউন থেকে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছরই সরকারের কাছে কোনও না কোনও সুপারিশ করা হয়। কিছু সুপারিশ গত বছর করা হয়েছিল, যার অনেকটাই বাস্তবায়ন হয়নি। এ বছরও বেশকিছু সুপারিশ করা হয়েছে।’