বেনাপোলে ১৪ বোমা রামদা ও মাদকসহ আটক ৪


প্রকাশিত : জানুয়ারি ৭, ২০১৮ ||

 

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোল ছোটআঁচড়া মোড়স্থ বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের পিছন থেকে ১৪টি হাত বোমা, ৪টি রামদা ও ৬টি লোহার রডসহ আওয়ামী লীগের তিন কর্মীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। অপরদিকে বেনাপোল সাদীপুর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ১০ বোতল বিদেশী মদ ও দুই কেজি গাঁজাসহ মেহেদী হাসান (৩৩) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে বিজিবি সদস্যরা। আটক মেহেদী বেনাপোলের সীমান্তবর্তী সাদীপুর গ্রামের মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে। শনিবার দুপুর ২টায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের পিছনে মেহগনি বাগানে অভিযান চালিয়ে এসব বিস্ফোরক দ্রব ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার হয়। আটকরা হলেন, বেনাপোল পোর্ট থানার ভবারবেড় গ্রামের শাহাজানের ছেলে মধু (২৬), গোলম খবিরের ছেলে এরশাদ (২৬) ও নারায়নপুর গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে রনি (২৫)।

আটক আসামীদের মধ্যে রনি জানান, আমি যশোর এমএম কলেজের মাস্টার্স ও বিসিএস পরীক্ষার অংশগ্রহণ করেছি। আমি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আমি ও আটক অন্য দুই জন আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে বসে আলাপ আলোচনার এক পর্যায়ে দেখতে পাই, বিজিবি সদস্যরা আমাদের বসার স্থান থেকে আরও ৩০০ গজ সামনে মেহগনি বাগানে অভিযান চালাচ্ছে। তারা যে স্থানে এই বোমা, রামদা, পেয়েছে আমরা কিছু দেখতে পায়নি। এ ব্যাপারে আমরাও কোন কিছু জানি না। বিজিবি আমাদেরকে বলেন, দেশের স্বার্থে আপনাদেরকে ক্যাম্পে উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষী দিতে হবে একথা বলে আমাদের ৩ জনকে তাদের পিকআপে করে ক্যাম্পে এনে এ মামলার আসামী বানিয়ে হাতে হ্যান্ডক্যাপ লাগান।

এব্যাপারে শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান জানান, দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এটা আওয়ামী লীগের অপর একটি পক্ষের ষড়যন্ত্র। উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য অহিদুজ্জামান জামান অহিদ জানান, রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্য এটি কারো চক্রান্ত। তবে সাক্ষীর নামে তাদের কর্মীদের ডেকে নিয়ে আসামী বানানোর নিন্দাও জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, কয়েক দিন যাবত লক্ষ্য করা যাচ্ছে সীমান্ত অঞ্চলে পুলিশের কাজ এখন বিজিবি করছে। বাড়ি থেকে ধরে এনে চালান দেওয়া হচ্ছে নিরীহ মানুষদের। এটাও তার একটি অংশ বলে দাবি তার।

স্থানীয়রা জানান বন্দর শ্রমিক সংগঠনের দ্বন্দের জের ধরে কে বা কারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাজানো নাটক ঘটাতে পারে। এতগুলো বোমা উদ্ধারের ঘটনায় বন্দর এলাকায় কিছুটা  আতংক ও উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন বন্দর ব্যাবহারকারীরা সহ শান্তিপ্রিয় পৌর নাগরিকেরা।