মেলায় মেলেছে উন্নয়নের পেখম


প্রকাশিত : জানুয়ারি ১৩, ২০১৮ ||

এসএম শহীদুল ইসলাম: সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে উন্নয়ন মেলায় শুক্রবার সন্ধ্যায় পিতার হাত ধরে এসেছিলো ছোট্ট শিশু মিথিলা (৬)। মেলায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের দেয়া স্টলের সামনে দাঁড়ালো সে। বাবা, একটু দাঁড়াও। ওই দেখো বঙ্গবন্ধু। তারপর ঐ দেখো আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্টলটির সামনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি দেখে এভাবেই শিশু মিথিলা তার বাবাকে দাঁড়াতে বলে। এরপর আবার প্রশ্ন বাবা ওইটা কীসের ছবি? উত্তর আসলো ওটা সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ব্রিজের নমুনা। যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া উপহার। ডানদিকে ফিরে শিশু মিথিলা আবার জিজ্ঞাসা করে ওই ছবিটা কীসের? উত্তরে তার বাবা বলেন, ওইটা তো আমাদের মেডিকেল কলেজ ও বাইপাস সড়ক। বাবা বাইপাস সড়ক কী? বাবা উত্তর দিলেন আমাদের শহরের বাইরে দিয়ে একটি বড় সড়ক হচ্ছে। যা বাইপাস সড়ক নামে পরিচিত। এভাবে তারা একে একে ঘুরে দেখতে থাকে আর জানতে থাকে সরকারের উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ।
নির্বাচন অফিসের সামনে দেখা গেলো মানুষের উপচে পড়া ভীড়। এতো লোক দেখে মা বাবার সাথে আসা আরেক শিশু প্রিয়াঙ্কা দেবনাথ (৮) জানতে চায়, এখানে এতো মানুষ কেনো? উত্তরে তার মা জানায়, এখানে ভোটার করা হয়। ভোটার কারা? যারা ভোট দেয়। মা আমি ভোটার হব। আমি ভোট দেব। এভাবে মনের ইচ্ছা প্রকাশ করে শিশু প্রিয়াঙ্কা। প্রিয়াঙ্কার বায়নার কথা শুনে এক গাল হাসলেন তার পিতা-মাতা। তারপর বললেন তোমার বয়স ১৮ বছর হলেই ভোটার হতে পারবে। তার আগে ভোটার হওয়া যায় না। এভাবে তারা মেলায় এসে সরকারের উন্নয়ন দেখে মুগ্ধ হয়।
শুধু মিথিলা আর প্রিয়াঙ্কা নয়, তাদের মত শতশত শিশু, তরুণ, তরুণী, যুব, বৃদ্ধ সবাই এসেছিলেন মেলায়। কৃষি অফিসের সামনে দেখা হলো উপসহকারী কৃষি অফিসার রঘুজিৎ গুহ’র সাথে। তিনি দাঁড়িয়ে থেকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সেবা ও প্রযুক্তি সম্পর্কে দর্শণার্থীদের জানাচ্ছেন, দেখাচ্ছেন।
এভাবে সাতক্ষীরা উন্নয়ন মেলায় নির্বাচন অফিস, পাসপোর্ট অফিস, ব্যাংকার্স ফোরাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিএডিসি, বীজ প্রজনন, কৃষি বিপনন, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পরমানু ধান গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা, গণপূর্ত, এলজিইডি, সড়ক, বন ও পরিবেশ, মহিলা সংস্থা ও ভোক্তা অধিকার, জেলা জনশক্তি এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল, সরকারি পলিটেকনিক, এনজিও ফাইন্ডেশন, সোসাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, ব্র্যাক, রেলওয়ে, পানি উন্নয়ন বোর্ড, আয়কর, কাষ্টমস এক্সাইস ও ভ্যাট, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসন, জেলা রাজস্ব অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস, জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন, জেলা হিসাব, জেলা তথ্য অফিস, বিআরটিএ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জেলা সমবায়, পরিবার পরিকল্পনা, পুলিশ, জেলা খাদ্য অধিদপ্তর, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, সাস, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তর তাদের স্ব স্ব স্টলে তুলে ধরেছেন বর্তমান সরকারের নানামূখী উন্নয়ন ও পরিকল্পনার চিত্র। মেলা থেকে সরাসরি সরকারি সেবাও দেয়া হচ্ছে। এতে অনেকে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।
মেলায় আসা আব্দুর রউফ জানান, স্যাটালাইটের মাধ্যমে মেলা দেখে ঘরে থাকতে পারলাম না। তাই চলে আসলাম মেলায়। মেলায় এসে সরকারের অনেক উন্নয়ন ও সেবা সম্পর্কিত তথ্য সম্পর্কে জানতে পেরেছি। মেলায় মেলেছে উন্নয়নের পেখম। আসাদুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি জানান, মেলায় যেভাবে সরকারি সেবার কথা তুলে ধরা হয়েছে অন্য সময় স্ব স্ব অফিসে যদি এভাবে সত্যি সেবা দেয়া হতো তাহলে মানুষ দুর্নীতি ও হয়রানি থেকে চিরমুক্তি পেতো।
১২ জানুয়ারি বেলা ১১টায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার পর বিকেল তিনটায় মন মাতানো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। সুরে সুরে মুখরিত হয় মেলার ময়দান।
আজ ১৩ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় এটুআই কর্তৃক আয়োজিত সেমিনার, বেলা ১১টায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং বিকেল তিনটায় সমাপনী আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। আজ মেলার সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অতিথিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি।