‘চোখে দেখে না-কানে শোনে না, প্রশাসন-পুলিশ কানা’


প্রকাশিত : জানুয়ারি ১৪, ২০১৮ ||

আশাশুনির সবদলপুরে যাত্রার নামে চলছে নগ্ন নৃত্য ও প্রকাশ্যে জুয়ার আসর
শেখ হেদায়েতুল ইসলাম, আশাশুনি: একস্থানে শেষ হলে আর একস্থানে বসছে আশাশুনির আনন্দ বিনোদন। বিনোদন মানে একেবারে ‘অর্জিনাল বিনোদন। কাপড় খুলে নাচ। প্রশাসন-পুলিশ কানা। ওরা চোখে দেখে না-কানেও শোনে না।’ আক্ষেপের সাথে এমন কথা শোনালেন সবদলপুরের এক স্কুল শিক্ষক। আশাশুনির সদর ইউনিয়নের কোদান্ডা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৫০গজ দূরে সবদলপুর গ্রামের মাঠে চলছে এ নগ্ন নৃত্য, সাথে চলছে রমরমা জুয়ার আসর।

স্থানীয়রা জানান, এ যাত্রা পরিচালনা কমিটির সভাপতি কোদান্ডা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বুদ্ধদেব সরকার। তার পরিচালনায় নগ্ননৃত্য ও জুয়ার আসর পরিচালনা করছেন সদর ইউনিয়নের কোদান্ডা গ্রামের শহিদুল ইসলাম, গোদাড়ার রুহুল আমিন গাইন ও উজিরপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান। গত ২দিন ধরে চলছে এ অবৈধ কর্মকান্ড। ১০০ থেকে ৫০০ টাকা টিকিটের বিনিময়ে দর্শকদের প্যান্ডেলের ভিতরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। দর্শকরা প্রবেশ করেই স্টেজে দেখছে কয়েকজন তরুণীর অশ্লীল পোশাক ছাড়াই নগ্ননৃত্য। এভাবে চলে সারা রাত। আর স্টেজের পাশেই বসেছে রমরমা জুয়ার আসর। নগ্ননৃত্য দেখায়ে দর্শকদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

সামনে ফেব্রুয়ারীর ১ তারিখে এসএসসি পরীক্ষা শুরু। এলাকার পরীক্ষার্থী ও যুব সমাজ ধ্বংসের জন্য এ ধরনের নৃত্য ও জুয়ার আসর বসাতে নেপথ্যে মদদ দেয় পুলিশ প্রশাসনের দর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। আর তাদের সাথে পরিচালকদের যোগাযোগের দায়িত্ব পালন করে তথাকথিত সাংবাদিক নামধারী কতিপয় ব্যক্তি।

এ চক্রটি অতি সম্প্রতি কাদাকাটি, খাজরা, শ্রীউলা ও শোভনালী ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে চারটি নগ্ননৃত্য ও জুয়ার আসর বসায়। পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর একটি বন্ধের পর আর একস্থানে বসে তারা। আবার জানাজানি হলে সেটি বন্ধ করে আর একস্থানে। এভাবে চলছে এই প্রকাশ্য খেলা। এলাকাবাসি আজই এ অশ্লীল যাত্রা বন্ধে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।