স্টুডেন্টস ট্যালেন্ট এ্যাসিস্টেন্স ফোরাম স্টাফ’র নিবন্ধন বাতিল করেছে সরকার


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮ ||

পত্রদূত রিপোর্ট: স্টুডেন্টস ট্যালেন্ট এ্যাসিস্টেন্স ফোরাম (স্টাফ) এর নিবন্ধন বাতিল করে দিয়েছে সরকার। গত ৬ ফেব্রুয়ারি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ অধিশাখার ৪১,০০,০০০০,০১৬,৯৯,০৪০,১৮,১৭৮ নং স্মারকে উপ-সচিব আবু মাসুদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে স্টাফ এর পরিচালককে নিবন্ধন বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হয়েছে। পত্রে স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ (রেজিস্ট্রেশন ও নিয়ন্ত্রণ) বিধি ১৯৬২-এর বিধি ১১ ভঙ্গ, অননুমোদিত কমিটি দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা, স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ (রেজিস্ট্রেশন ও নিয়ন্ত্রণ) বিধি ১৯৬২-এর ৭(খ) মোতাবেক বার্ষিক হিসাব দাখিল না করা, বিপুল পরিমাণ টাকা ফিস ও অনুদান হিসেবে নিয়ে সংস্থাকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এবং আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাব দাখিল না করে সংস্থাটির গঠনতন্ত্র ও স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ (রেজিস্ট্রেশন ও নিয়ন্ত্রণ) বিধানবলীর পরিপন্থী কাজ করা ও জনস্বার্থের স্বার্থবিরোধী প্রতীয়মান হওয়ায় স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ (রেজিস্ট্রেশন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ১০(২) ধারা মতে এর নিবন্ধন নির্দেশক্রমে বিলুপ্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সাতক্ষীরায় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল জামায়াত-শিবির পরিচালিত এনজিও স্টুডেন্টস ট্যালেন্ট এ্যাসিস্টেন্স ফোরাম (স্টাফ)। যুদ্ধাপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন সাতক্ষীরা জামাতের আমির মাওলানা আব্দুল খালেক ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর অঞ্চলের তৎকালীন জামাত দলীয় এমপি গাজী নজরুল এর লিখিত সুপারিশে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া রাজাকার আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ মন্ত্রী থাকাকালীন তার মন্ত্রণালয় থেকে নিবন্ধন পায় সাতক্ষীরার এই এনজিও স্টাফ।
শুরু থেকেই তারা নিবন্ধনের শর্ত ভেঙে লক্ষ লক্ষ টাকার কথিত বৃত্তি বাণিজ্য চালিয়ে আসছিল সাতক্ষীরার হাজার হাজার স্কুল পড়–য়া শিশুদের নিয়ে। নিবন্ধনের শর্তে স্পষ্টতই বলা আছে, সেবা প্রদানের বিনিময়ে এই সংস্থা কোন প্রকার ফিস গ্রহণ করতে পারবে না। অথচ কথিত বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য মাথাপিছু ১৫০ টাকা করে প্রত্যেক শিশু পরীক্ষার্থীর নিকট থেকে গ্রহণ করে স্টাফ। বিনিময়ে এককালীন ট্যালেন্টপুলে ৬০০ ও সাধারণ গ্রেডে ৪০০ টাকা করে বৃত্তি দেয়। অর্থাৎ মাছের তেলে মাছ ভেজেও বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত পরীক্ষা কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। উপড়ি হিসেবে থাকে সমাজের বিত্তশালীদের নিকট থেকে গ্রহণ করা অনুদান। আর এই অনৈতিক কার্যক্রমে এদেরকে মদদ দেয় বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন ও সরকারি-বেসরকারি স্কুলের কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত শিক্ষকরা। ৪ দলীয় জোট সরকারের পতনের পর এরাও গিরগিটির মত রং বদলে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীদের উপর ভর করতে শুরু করে। তাদেরকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি করা, পরিচালনা কমিটিতে স্থান দিয়ে সম্মানিত করাÑ ইত্যাদির মাধ্যমে তারা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ও অনৈতিক কার্যকলাপকে আড়াল করার চেষ্টা করে।
বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১৩ আগস্ট’১৭ তারিখে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে ০৩.০৭৯.০১৬.০৪.০০১২.০২০১৬-৮৪৪(৩) নং স্মারকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়কে স্টাফের সকল কার্যক্রম স্থাগিত করে এর নিবন্ধন বাতিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে গত ১৬ নভেম্বর ’১৭ তারিখে ৪১.০০.০০০০.০৩৪.০০১.১৫.১৬-১১৮৮ নং স্মারকে সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়কে স্টাফ এর সকল কার্যক্রম স্থগিত করে তাদের নিবন্ধন বাতিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়। এর সূত্রে সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয় গত ৭ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে ৪১.০১.৮৭০০.০০০.২৭.০০৬.১২ নং স্মারকে স্টাফ’র চেয়ারম্যান/ সেক্রেটারিকে তাদের যাবতীয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়।
এসব নিদের্শ উপেক্ষা করে স্টাফ কর্তৃপক্ষ সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের এজেন্ট শিক্ষকদের মাধ্যমে কথিত বৃত্তি পরীক্ষার ফরম বিক্রি করেছে ১৫০টাকা হারে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তারা এভাবে কয়েক লক্ষ টাকা সংগ্রহ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে এসব অর্থ ভুক্তভোগীদের ফিরিয়ে দেও
সংগঠনটির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ থাকায় কারণে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি বালিকা উচ্চ য়িার জন্য নির্দেশনা দেয়া সত্ত্বেও স্টাফ কর্তৃপক্ষ আজও তা ফিরিয়ে দেয়নি।
স্টাফ’র কথিত বৃত্তি বাণিজ্যে অংশ নেওয়ার জন্য ১০১৭ সালেও ফরম পূরণ করেছে প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী। অথচ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা পেত শিক্ষার্থী প্রতি এককালীন মাত্র ৪০০ থেকে ৬০০ শত টাকা। যে টাকা শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ফি বাবদ গ্রহণ করা হবে প্রায় সেই পরিমাণ টাকা বৃত্তি বাবদ দেয়া হবে। কিন্তু বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার নিকট থেকে পাওয়া লক্ষ লক্ষ টাকা অনুদান আত্মসাৎ করে এই সংস্থার সাথে যুক্তরা অথবা যায় জামাত-শিবিরের মতাদর্শ প্রচারের ফান্ডে।