চুকনগরে সাব-ডিলারের গোডাউন থেকে ৫০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮ ||

চুকনগর (খুলনা) প্রতিনিধি: চুকনগরে এক সাব ডিলারের গোডাউন থেকে প্রায় ৫০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়েছে। সোমবার বিকাল ৪টা ৪০মিনিটে আটলিয়া ব্লকের ১, ২, ৩ নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আশুতোষ দাস গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মালতিয়া ৩নং ওয়ার্ডের সাব ডিলার সুকর্ণ ঘোষের গোডাউন থেকে ওই সার জব্দ করেন। এদিকে এই অসাধু ব্যবসায়ীরা গোপনে ইউরিয়া সার শুধু গুদামজাত করেই ক্ষ্যান্ত হচ্ছে না। সারের চাহিদা থাকার কারণে গোপনে অতিরিক্ত মূল্যে সারগুলো বিক্রয় করছেন। তাছাড়া কৃষকরা তাদের কাছে সরাসরি গিয়ে সার ক্রয় করতে চাইলে তাদের কাছে সার বিক্রয় না করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন। এতে একদিকে যেমন কৃষি বিভাগসহ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। অপরদিকে চরমভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন কৃষকরা।
এদিকে কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বাজারে পর্যাপ্ত পরিমান ইউরিয়া সার রয়েছে। সার সংকট বা ঘাটতির কোন সুযোগ নেই। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে বাজারে সারের সংকট দেখা দিচ্ছে। ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে দরিদ্র কৃষক। সাব ডিলারের গোডাউন থেকে ইউরিয়া সার জব্দ করার সংবাদটি স্থানীয় সাংবাদিকরা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে গোডাউন তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। এ ব্যাপারে সাব ডিলার সুকর্ণ ঘোষ বলেন, যেহেতু আমি সারের ব্যবসা করি, সেহেতু আমার গোডাউনে অবশ্যই সার থাকবে। উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আশুতোষ দাস বলেন, আমি ওয়ার্ডের সাব ডিলার সুকর্ণ ঘোষের গোডাউনে যাই। তার গোডাউনে প্রায় ৩৫০/৪০০বস্তা ইউরিয়া সার মজুদ আছে। আমি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে তার গোডাউনে তালা মেরে চাবি তার কাছে দিয়ে এসেছি। পরে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। আমি তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। জেলা কৃষি অফিসার আব্দুল লতিফ বলেন, ধানের মৌসুমে এভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সার গুদামজাত করা দন্ডনীয় অপরাধ। সার গুদামজাত করে রেখে কৃষক হয়রানী করার ব্যাপারে আমি একবিন্দুও সমর্থন করি না। তাই আমি উপজেলা কৃষি অফিসারের সাথে কথা বলে তার ডিলারশীপ বাতিলসহ আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেব।