পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনপ্রিয় ডা. প্রভাত কুমার দাশ অবসরে


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮ ||

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনপ্রিয় ডাক্তার প্রভাত কুমার দাশ দীর্ঘ কর্মময় জীবনের ইতি টেনে অবসরে গেলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা হিসাবে সোমবার তিনি শেষ অফিস করেন। একজন মানুষ সব শ্রেণির মানুষের কাছে জনপ্রিয় হতে পারে তার অনন্য দৃষ্টান্ত ডা. প্রভাত কুমার দাশ। জনপ্রতিনিধি, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সর্বোপরী সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় একজন ডাক্তার ছিলেন প্রভাত কুমার। যিনি ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা না করে কর্মময় জীবনের বেশিরভাগ সময় পড়ে থেকেছেন নিজ এলাকায়। উল্লেখ্য, জেলার পাইকগাছা উপজেলার কাটিপাড়া গ্রামের প্রয়াত মনোরঞ্জন দাশের মেঝ ছেলে প্রভাত কুমার দাশ। ১৯৮৫ সালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সহকারী সার্জন (ইনসার্ভিস ট্রেইনিং) হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি পাইকগাছার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত থাকাস্থায় ২০১৫ সালে পদোন্নতি পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প প কর্মকর্তা হিসেবে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে যোগদান করেন। সেখান থেকে তিনি পুরনায় ২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর পাইকগাছায় যোগদান করেন। চাকরির শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি নিজ এলাকা পাইকগাছায় কর্মরত থাকেন। চাকুরির বেশিরভাগ সময় তিনি নিজ এলাকায় কর্মরত থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে উন্নত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে আস্থাভাজন ডাক্তার হিসেবে বেশ পরিচিতি লাভ করেন। শিশু ও মাতৃ মৃত্যুরোধে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি সারা দেশের সেরা ১০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে পাইকগাছাকে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছেন। সোমবার তার অবসরের কথা শুনে সাধারণ মানুষের ন্যায় ব্যথিত হয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ক্যাশিয়ার নার্গিস বানু জানান, স্যার আমাদের একজন ভাল অভিভাবক ছিলেন। তিনি একজন চিকিৎসকের পাশাপাশি দক্ষ প্রশাসক ছিলেন। উপজেলা চেয়ারম্যান এড. স ম বাবর আলী জানান, ডা. প্রভাত সাধারণ মানুষের জন্য একজন নিবেদিত চিকিৎসক। তার কর্ম ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মো. নূরুল হক বলেন, ডা. প্রভাত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাণ। তিনি পরিবার পরিজন ও ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা না করে সারা জীবন এলাকার মানুষের জন্য সেবা করেছেন। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী তাকে অবসরে যেতে হচ্ছে। কিন্তু তার সেবা ও কর্ম এলাকার মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।