আদালতের তোয়াক্কা না করে চাচার জমি অবৈধভাবে দখল করতে মরিয়া ভাইপো!


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮ ||

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: আইন আদালতের তোয়াক্কা না করে চাচার জমি অবৈধভাবে দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ভাইপো। এ নিয়ে একাধিকবার শালিসী বৈঠকে মিমাংসা হলেও পরবর্তীতে আবারো জবর দখল শুরু করে ভাইপো। সে সদরের আলীপুর গ্রামের মৃত সামছুর রহমানের পুত্র সাঈদুজ্জামান বাবলু। ক্ষমতাধর এ ভাইপোর বিরুদ্ধে রয়েছে চোরাকারবারির অভিযোগ।
অবৈধ টাকার প্রভাবে আইন, আদালত, জনপ্রতিনিধি কারো কোন তোয়াক্কাই করেন না ভাইপো সাঈদুজ্জামান। এমনই অভিযোগ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলিপুর গ্রামের শরিয়াতুল্লা মোড়লের ছেলে ইমান আলীর।
কাগজ পত্রানুযায়ী ভিটাবাড়ির জমি সকল ভাই বোনের মধ্যে ক্রয় বিক্রয় হওয়ার পর পথ, পুকুর, কবরস্থান বাদে চার ভাই যথাক্রমে প্রাপ্য বড় ভাই এনছাপ ০১.৭২ (দখল নাই), মৃত ছামছুরের পুত্র সাইদুজ্জামান ১৪.৭৯ (দখল ৩৪.২৫) শতক, ইমান ৩৩.৪৩ (দখল ২৪) শতক ও জিয়াদ আলী ১৯.২১ (দখল ১০.৯০) শতক করে প্রাপ্য। কিন্তু দেখা যায় ভিটাবাড়িতে সাইদুজ্জামান প্রাপ্য ১৪.৭৯ শতক ছাড়াও ১৯.৪৬ শতক ও বিলান ১৪.১২ শতক জমি দীর্ঘদিন জোর পূর্বক অবৈধ দখল করে রেখেছে। সেই সম্পত্তি ফেরত চাওয়ায় চাচা ইমান আলীর সাথে বিরোধে সূত্রপাত ঘটে। ইতোপূর্বে সাঈদুজ্জামানের চোরাকারবারী কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় ইমান আলীর ছেলে মো. হাবিবুল্লাহ বাহার কে ০১নং আসামী করে আরো তিন জনের নামে সাতক্ষীরা আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলায় হাবিবুল্লাহকে তার চাকরি হারাতে হয়। চাকরি হারিয়ে হাবিবুল্লাহ বর্তমানে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।
এরপর গত ২১ জানুয়ারি তারিখের সদর থানার এসআই হাসানুর রহমান উক্ত মামলার তদন্ত করেন। তদন্তে উক্ত মামলা মিথ্যা প্রমানিত মর্মে প্রতিবেদনও দেন সদর থানার এসআই হাসানুর রহমান। এটা নিয়ে পত্র-পত্রিকায় একাধিক সংবাদও প্রকাশিত হয়।
এদিকে এ বিষয়ে মিমাংসা করার জন্য কিছু শর্ত স্বাপেক্ষে গত বছর ২৫ নভেম্বর একটি শালিসী বৈঠক আহ্বান করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ। সেখানে আলীপুর ইউপি সদস্য আতাউর রহমান ও সাঈদুজ্জামানের অভিভাবকের দায়িত্ব পালনকারী আকবর আলী সরদার, তার আপন বড় চাচা এনছাপ, স্থানীয় সাংবাদিকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তারপরও সে শালিস না মানায় আলীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, সাঈদুজ্জামানের আপোন বড় চাচা এনছাপ আলী, ১, ২, ও ৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ব্যবস্থাপত্রে সুপারিশ করেন। এছাড়া এলাকাবাসির মধ্যে ১২৫ জন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সাঈদুজ্জামানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গণস্বাক্ষর করেন।
ভুক্তভোগী অসহায় চাচা ইমান আলী জানান, সে ২০১৩ সাল হতে ৪ বছরের অধিক সময় ধরে নানানভাবে অত্যাচার করে যাচ্ছে। ২০১৭ সালের ২৫ মার্চ অবৈধভাবে জায়গা দখল করে প্রাচির নির্মাণের ভিডিও তথ্য রয়েছে।
এলাকাবাসি জানায়, বভিন্ন সময়ে লাঞ্ছিত ও হুমকি প্রদর্শন করায় তার বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৭ অক্টোবর অভিযোগ দায়েরসহ একের অধিকবার সাধারণ ডায়েরি নং-১৯১৩ ও ৩৮৬ রয়েছে যা তদন্তে সঠিক পেয়েছে। তারপর ও সে মিথ্যা অভিযোগে ২০১৭ সালের ১৬ অক্টোবর ০৯টি ধারা দিয়ে মামলা নং-৩০৪/১৭ইং সাত: দায়ের করে, তার বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ২২-২৩ অক্টোবর ১৮৫ জন গণস্বাক্ষর করে। একই বছর ২৫ নভেম্বর শালিসে ৫৩ জনের এবং ১০ মার্চ শালিস অমান্য করায় তার বিরুদ্ধে ৮৯ জনের গণস¦াক্ষর রয়েছে।
এলাকবাসি আরো জানায়, সাঈদুজ্জামান চোরাকারবারি ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কারণে কালো টাকার প্রভাবে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে চলে। যে কারণে তার কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন চাচা ঈমান আলীসহ অন্যান্য ভাই ও তাদের পরিবার। সাঈদুজ্জামানের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।