মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে অস্বস্তিতে সরকার


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৮ ||

 

ইরান ও কাতার নিয়ে সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশের সৃষ্ট বিরোধের কারণে অস্বস্তিতে আছে ঢাকা। বাংলাদেশের জন্য মধ্য-প্রাচ্যের প্রতিটি দেশ গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে বিবদমান কোনও পক্ষকে সমর্থন না করার পথ বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, আমাদের যে খুব বেশি সমস্যা হচ্ছে, তা নয়। তবে বিষয়টি অস্বস্তির। কারণ, যেকোনও ধরনের নতুন উদ্যোগ সাংঘর্ষিক পক্ষগুলোর যেকোনও একপক্ষ ভালো চোখে নাও দেখতে পারে।
সরকারের এই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কাতারের আগ্রহ আছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখানে ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’নীতি গ্রহণ করেছে।
উদাহরণ হিসেবে এই কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি আমরা মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী পর্যায়ের একটি বৈঠক করেছি, যেখানে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন অর্থ-প্রতিমন্ত্রী।
ওই বৈঠকে অন্য পক্ষ কাতার ও ইরান প্রসঙ্গে তাদের অভিমত ব্যক্ত করে বিষয়টি বৈঠকের লিখিত বিবরণীতে সংযুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি প্রাসঙ্গিক না। সেজন্য সরকার সংযুক্তিতে আগ্রহী নয়। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি সংযুক্ত করা হয়নি।
ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশের সম্পর্কের টানাপড়েন দীর্ঘদিনের। ইরানে সৌদি আরব দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে কয়েক বছর আগে। কাতারের সঙ্গে সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশের বিরোধ শুরু হয় সম্প্রতি। এটি চরম আকার ধারণ করে গত বছর জুনে, যখন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশ কাতারের ওপর অবরোধ আরোপ করে।

এ প্রসঙ্গে একজন কর্মকর্তা বলেন, গত বছর জুনের ঘটনার পরে আমাদের অনুরোধ করা হয়েছিল কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে। সেটি যদি আমরা না করি, অন্তত দূতাবাসের কর্মকাণ্ড সীমিত আকারে রাখার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছিল। ওই সময় মালদ্বীপসহ কয়েকটি দেশ কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেও বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকাণ্ড সীমিত করেনি।

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, কাতারে প্রায় চার লাখ বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক দেশ কাতার। দেশটিতে সামনের কয়েক বছর আরও নির্মাণ শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। আমরা জাতীয় স্বার্থে কাতারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছি। একইসঙ্গে বিরোধী পক্ষের দেশগুলোর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি, যেন ওইসব দেশ আমাদের ভুল না বোঝে।