যেভাবে এতিমের টাকা চলে যায় তারেক রহমানের হাতে


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৮ ||

পত্রদূত ডেস্ক: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার আসামি তারেক রহমানের হাত পর্যন্ত টাকা কীভাবে পৌঁছায়, তার ধারাবাহিক বিবরণ রয়েছে আদালতের রায়ে। সোমবার রায়ের পর্যবেক্ষণের কপি বিকেলে পৌঁছায় তার আইনজীবীদের হাতে। তারেক রহমান ও আসামি মমিনুর রহমান সরকারি টাকা আত্মসাতের এর দায় এড়াতে পারেন না বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন ঢাকা বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক লিখেছেন, আসামি কাজী সালিমুল হক ওরফে কাজী কামালের আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক বক্তব্য থেকে এটি পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়, ৫টি চেকের সিগনেটরির নির্দেশ অনুযায়ী এফডিআরগুলো করা হয়। এসব এফডিআর নিয়ে আসামি তারেক রহমানের অফিসে পৌঁছে দেন। বস্তু প্রদর্শনী আই (জি), আই (এইচ), আই (জে), আই (এল) এবং আই (এন) পর্যালোচনায় পরিলক্ষিত হয়, ওই ৫টি চেকের সিগনেটরি ছিলেন আসামি তারেক রহমান ও মমিনুর রহমান। সুতরাং কাজী সালিমুল হক ফৌজদারি কাযবিধির ৩৪২ ধারার বিধান অনুসারে আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, এই আসামির হাত হয়ে সরকারি এতিম তহবিলের টাকা তারেক রহমানের হাতে চলে যায়। ফলে সরকারি টাকা আত্মসাতের দায় আসামিরা এড়াতে পারেন না। যৌথ স্বাক্ষরে বর্ণিত ৫টি চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করায় তারেক রহমানের সঙ্গে আসামি মমিনুর রহমানও সম্ভবত দায়ী মর্মে এই আদালত মনে করেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে খালেদা জিয়াকে ৫ বছর এবং তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ৫ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডদেশে দেওয়া হয়। এ ছাড়া আসামিদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা জরিমানা করা হয়।
খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান দণ্ডিত অন্য চার আসামি হলেন কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। দণ্ডিতদের মধ্যে তারেক রহমান, কামাল সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক রয়েছেন।