জেলার ইটভাটায় পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ: ব্যবহার হচ্ছে টায়ার পোড়ানোকালি


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৮ ||

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা লংঘন করে জেলার বিভিন্ন ইটভাটায় অবৈধভাবে ব্যবহার হচ্ছে টায়ার পোড়ানো কালি। এই কালির ধোঁয়া ক্যান্সার সহায়ক হওয়ায় যে সকল ইটভাটায় টায়ারের কালি ব্যবহার করা হচ্ছে সেখানে কর্মরত শ্রমিকসহ ভাটার আশপাশের এলাকায় বসবাসকারি জনসাধারনকে ফেলে দিচ্ছে মারাত্মক ক্যান্সার ঝুকিতে। বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনাকে অবহিত করার পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোন প্রকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী ইট পোড়ানোর জন্য জ্বালানী হিসেবে ভাটায় কয়লা ব্যবহার কারার কথা। কিন্তু জ্বালানি সাশ্রয় ও ইটের রং সুন্দর করার জন্য জেলার কিছু ভাটা মালিক তাদের ভাটায় ইটের সাথে মিশিয়ে টায়ারের কালি ব্যবহার করছেন। এজন্য তারা গোপনে তাদের ভাটায় টায়ারের কালি মজুদ করে রেখেছেন। সহজে যাতে লোক চুক্ষে না আসে সে জন্য বস্তায় ভরে এসব কালি পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।  ইতিমধ্যে ওই সব ভাটা মালিক তাদের ভাটায় টায়ারের কালি পোড়ানো শুরু করেছেন। কম খরচে অধিক মুনাফা লাভের আশায় জেলার সদর উপজেলা, কালিগঞ্জ, তালা, কলারোয়া, শ্যামনগর ও দেবহাটা উপজেলার বিভিন্ন ভাটায় জ্বালানী হিসাবে কয়লার সাথে ব্যবহারের জন্য এই টায়ারের কালি মজুদ করা হয়েছে। পরিবশে অধিদপ্তরের নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনেক ভাটা মালিকরা এই অবৈধ কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু টায়ারের কালি পোড়ানো ধোঁয়া মারাত্মকভাবে ক্যান্সার সহায়ক। ফলে কয়লার সাথে টায়ারের কালি ব্যবহার করা ভাটায় কর্মরত শ্রমিকসহ ভাটা সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারি সাধারন জনগণ নিজেদের অজান্তে পড়ছেন মারাত্মক ক্যান্সার ঝুকির মধ্যে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কলারোয়া উপজেলার বামনখালীর হোসেন ব্রিকস, হেলাতলার আলী ব্রিকস ও দমদম এলাকায় অবস্থিত এনবি ব্রিকস, সদর উপজেলার ভাদড়া মোড়ে আঁখি ব্রিক্স, রাকিন ব্রিক্স, বিনেরপোতা এলাকার খাদিজা ব্রিকস ও লিয়াকতের ভাটা, বাঁশদহা এলাকার একটি ভাটা, কালিগঞ্জের ময়না ব্রিকস ও শেখ ব্রিকস সহ শ্যামনগর, দেবহাটা ও তালার অধিকাংশ ভাটায় গোপনে কয়লার সাথে টায়ারের কালি ব্যবহার করা হচ্ছে।

এছাড়া পৌর এলাকার মধ্যে ইটভাটা পরিচালনা করা নিষিদ্ধ হওয়া স্বত্বেও তা মানছেন না কয়েকজন ভাটা মালিক। পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী পৌর এলাকার মধ্যে ইট ভাটা পরিচালনা করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ এবং এবিষয়ে ব্যবস্থা নিলে সংশ্লিষ্ট ইটভাটা মালিক কোন আপিল করতে পারবেন না। কিন্তু এসব নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সাতক্ষীরা পৌর এলাকার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকটি ইটভাটা পরিচালনা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগি জানান, টায়ার পোড়ানো কালি মারাত্মক বিষাক্ত। বিষয়টি জানা স্বত্বেও ইটভাটায় টায়ারের কালি ব্যবহার করে সাধারণ জনগণকে ক্যন্সারের ঝুকিতে ফেলে দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ভাটা মালিকরা। জ্বালানী সাশ্রয় ও ইটের রং সুন্দর করার জন্য ইটভাটা মালিকরা গোপনে এই কালি কয়লার সাথে মিশিয়ে ভাটায় ব্যবহার করছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনাকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে সংশ্লিষ্ট ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ভাটা মালিকরা এই গরহিত কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ক্যান্সার ঝুকি থেকে জনগণকে রক্ষা করতে ভাটায় জ্বালানী হিসেবে কয়লার সাথে টায়ারের কালি পোড়ানো বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এবিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানান, টায়ারের কালি বিষাক্ত হওয়ায় ভাটায় পোড়ানো দন্ডনীয় অপরাধ। এটি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। বিষয়টি সম্পর্কে দ্রুত খোঁজ খবর নেয়া হবে। এধরণের কাজের সাথে কোন ইটভাটা মালিক জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান বলেন, ভাটায় কয়লার সাথে টায়ারের কালি পোড়ানোর বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিস্তারিত খোঁজ খবর নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সত্যতা পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা পারভীন জানান, এধরনের অভিযোগ আমরা শুনেছি। আগামী সপ্তাহে উপজেলার সকল ভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হবে।

খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. হাবিবুল হক খান বলেন, ভাটায় ইটের সাথে টায়ারের কালি পোড়ানো নিষিদ্ধ। কেউ এধরনের কাজ করে থাকলে তা বেআইনি। এসব ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কয়েকদিন আগে সাতক্ষীরায় চারটি ভাটায় অভিযান পরিচালনা করে একটি ইটভাটা মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে যশোরের ১৪ টি ভাটায় অভিযান পরিচালনা করে ১৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অভিযান অব্যহত থাকবে বলে তিনি জানান।