কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি বেদখল কপিলমুনি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ


প্রকাশিত : এপ্রিল ২, ২০১৮ ||

 

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: পাইকগাছা কপিলমুনি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি-অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। তিনি যোগদানের পর থেকে সদরের কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি একে একে বেদখল হয়ে গেছে। পেরি-ফেরিভূক্ত বহু সম্পত্তিতে গড়ে তোলা হয়েছে ঢালাই ছাদের পাকা ইমারত। একসনা বন্দোবস্ত নিয়ে পাকা ইমারত নির্মাণের ঘটনাও ঘটেছে একাধিক। ভূক্তভোগিদের অভিযোগ, টাকা হলে তিনি পারেননা এমন কোনো কাজ নেই। বিশেষ করে তিনি যোগদানের পর থেকে সরকারি ও পেরিফেরিভূক্ত সম্পত্তিতে পাকা ইমারত নির্মাণের ঘটনা চোখে পড়ার মত। বাজার উন্নয়ন চলমান প্রকল্পে অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণে ব্যক্তি বিশেষ চাহিদার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়ায় তিনি সমালোচনার শীর্ষে রয়েছেন। জমির খাজনার দাখিলা কাটতে বহু গুণ অর্থ আদায়, নাম পত্তনে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ ও বিভিন্ন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে তিনি মোটা অংকের টাকা গ্রহণ করে মিথ্যা প্রতিবেদন প্রদান করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। দিনের শেষে অফিস ছুটির পর সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত অবধি তিনি মক্কেলদের নিয়ে অফিস কক্ষে বসেই অধিকাংশ অপকর্মের দরবার করেন বলে অভিযোগ। এমন কি অফিস করেন নিজ ইচ্ছা মত। ৯টায় অফিসে আসার নিয়ম থাকলেও ১১টা বা সাড়ে ১১টায়ও আসেন। সরেজমিনে রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় অফিসে যেয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার হাফ বেলা অফিস করে খুলনা জেলা সদরে বিলাস বহুল নিজ বাড়িতে চলে যান। সকল অনিয়ম ও দুর্নীতিকে জায়েজ করতে তিনি স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে চলছেন বলেও অভিযোগ। নিজ অফিসে দরবারের পাশাপাশি তিনি এজন্য সন্ধ্যার পর হাজির হন ঐসকল নেতা বা প্রভাবশালীদের প্রতিষ্ঠান বা অফিসে।

তহশীলদার জাকির হোসেন তার অপকর্ম বিস্তারে ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় বহু এজেন্ট বা দালাল নিয়োগ করেছেন। নিজ অফিসে সারাক্ষণ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তাদের কেউ কেউ। প্রসঙ্গত, কপিলমুনি সেই ব্রিটিশ শাষণামল থেকে দক্ষিণ খুলনার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ায় সদরের এক খন্ড জমি যে কারো কাছে সোনার হরিণের সামিল। আধুনিক কপিলমুনির রূপকার রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু উনবিংশ শতাব্দিতে উপজেলার হরিঢালী ও কপিলমুনির একাংশের উপর স্থাপন করেন কপিলমুনি (বিনোদগঞ্জ) বাজার। বাজার প্রতিষ্ঠায় তিনি ওই সময় নিজের বিস্তীর্ণ সম্পত্তি বাজারের নামে দান করলেও আজ তা বেদখল হয়ে যাচ্ছে। এমনকি তার এক পৌত্রের সম্পত্তির সামনের সরকারি কোটি টাকার সম্পত্তি নায়েব পাশ্ববর্তী তালা উপজেলার মাছিয়াড়া এলাকার জনৈকা মহিলার নামে বন্দোবস্ত করিয়ে রাতের আঁধারে তার দখল বুঝে দিতে ঘর নির্মাণে সহযোগীতা করেন। এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কপিলমুনিতে গোত্রগত সংঘাতের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি কপিলমুনি (বিনোদগঞ্জ) বাজার প্রতিষ্ঠাতা বিনোদ বিহারী সাধুর বংশধরদের দখলীয় সম্পত্তি ৫ বছর পূর্বে একসনা বন্দোবস্ত প্রাপ্ত জনৈকা মহিলাকে দখল করিয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। এছাড়া জেলা বোর্ডের নির্মিত মহিলা মার্কেটের পেছনের সরকারি সম্পত্তিতে মোটা অংকের টাকা উৎকোচের বিনিময়ে জনৈক প্রভাবশালীকে দখল দেন। যেখানে প্রকাশ্য দিবালোকে নির্মিত হচ্ছে ৫টি দোকান ঘর। সম্প্রতি পাইকগাছা নির্বাহী আদালতের একটি মামলার তদন্ত প্রাপ্ত হয়ে কাশিমনগর এলাকার জনৈক ইসলাম সরদার গংদের বিরুদ্ধে অন্য পক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করায় বিপক্ষ গং আদালতে নারাজি পিটিশন দিয়েছে। সদরের জনৈকা মহিলা তার .২০ শতাংশ জমির খাজনার দাখিলা কাটতে তহশীল অফিসে গেলে তিনি তার কাছে ৫০হাজার টাকা দাবি করেন। সূত্র জানায়, দাখিলা কাটতে জমি মালিকদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২/৩/৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২০/৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ঘুষ আদায় করে থাকেন।

জানাযায়, সদরের কপোতাক্ষ নদ চর ভরাটি জায়গায় গত কয়েক বছরে কিছু ছিন্ন মূল মানুষ দখল নিয়ে টোং ঘর তৈরী করে চায়ের দোকান শুরু করলেও উপজেলা প্রশাসন তা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। পর্যায়ক্রমে সরকারি সম্পত্তি বে-দখল হওয়ায় প্রশাসনের এ মহতি উদ্যোগকে এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে সাধুবাদ জানালেও প্রকাশ্য দিবালোকে তার সামনের কোটি টাকা মূল্যের সরকারি সম্পত্তিতে পাঁচ পাঁচটি দোকান ঘর নির্মাণের বিষয়ে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য-জাকির হোসেন পূর্বের কর্মস্থল আমাদিতে বিভিন্ন অপকর্মের কারনে ঐ স্থানে মহিলা ও পুরুষদের দ্বারা শারিকভাবে লাঞ্ছিতসহ মামলা মকদমায় জড়িয়ে পড়েন বলে জানা গেছে। কপিলমুনি ভূমি কর্মকর্তা জাকির হোসেন মুঠোফোনে বলেন, এ প্রসঙ্গে তিনি কোনো কিছুই জানেন না। তার বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, অফিসে আসেন সাক্ষাতে কথা হবে।