পুন:খননের নামে চলছে পুকুর চুরি দুুুর্নীতির অসুখে নিমজ্জিত ডুমুরিয়ার সুখ নদী


প্রকাশিত : এপ্রিল ২২, ২০১৮ ||

 

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালি ইউনিয়নের সুখ নদী পুন:খননের নামে পুকুর চুরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নদী সংস্কার ২টি প্রকল্পের মেয়াদ চলতি মাসের ৩০ এপ্রিল। ২টি প্রকল্পের একটিতে দায়সারা কাজ শুরু হলেও অপরটিতে এখনও হাত দেননি। অথচ উত্তোলন করেছেন ২টি প্রকল্পেরই বরাদ্ধের ১ম কিস্তির টাকা। এ ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় জনগণ।

মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালি ইউনিয়নের সুখ নদী প্রকল্প মেয়াদ শেষ পর্যায়ে পুন:খননের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির ২টি অংশের একচল্লিশ লক্ষ ছাপ্পান্ন হাজার টাকা বরাদ্দে কাজটি পেয়েছে নাম সর্বস্ব ২টি সাজানো সংগঠন। এলাকাবাসির অভিযোগ, স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতা ও জনপ্রতিনিধি প্রকল্প বাস্তবায়ন সংগঠন দুটির ‘সাজ ঘরের মেকাপম্যান’। নিদিৃষ্ট সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে শেষ সময়ে বৃষ্টির আগামনীতে ১টি প্রকল্প (অংশ- ৩) স্কেভেটর মেশিন দিয়ে নামে মাত্র সংস্কার কাজ শুরু করেছে। সংস্কারে নদীর তল ৫ ফুট গভীর করার নির্দেশনা থাকলেও ১-২ ফুট গভীর করে চলছে স্লোব তৈরির কাজ। শুরু হওয়া প্রকল্পটির দলনেতা পশুপতি ম-ল রয়েছেন ভারতে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রকল্প-২ অংশে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত সংস্কার কাজে হাত দেননি। অথচ প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ তারিখ চলতি ৩০ এপ্রিল। এদিকে ২টি প্রকল্পেরই বরাদ্ধের ১ম কিস্তির টাকা উত্তোলন করেছেন।

খাগড়াবুনিয়া গ্রামের মানিক মোড়ল (৪৬), আলাদিপুর গ্রামের গোবিন্দ ম-ল (৪০) উপজেলা যুবলীগ নেতা লাঙ্গলমোড়া গ্রামের প্রভাষক ব্রজেন সরকার জানান; সুখ নদী পুন:খননের নামে চলছে চরম অনিয়ম আর দুর্নীতি। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ রয়েছে মাত্র ৮ দিন। ২টি প্রকল্পের একটিতে এখনও কাজে হাত দেননি এবং অপরটি দায়সারা কাজ করে দ্রুত জল তুলে দেয়া হচ্ছে। যাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজের ফাঁকি ধরতে না পারে। ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কিছু লোক ভূমিহীন সাজিয়ে সংগঠনের নামে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমরা যেখানে প্রয়োজন এ পুকুর চুরির বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দেব।

মাগুরখালী ইউপি সদস্য ও আওয়ামীলীগ নেতা অরূপ রতন ম-ল বলেন; ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পাতানো সংগঠনের নামে প্রকল্প ২টি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সুখ নদী পুন:খনন প্রকল্পের ৩ অংশের দলনেতা পশুপতি ম-ল বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। তা ছাড়া প্রকল্পের ২ দলনেতা সুকুমার ম-ল এখনও কাজে হাত দেননি। অথচ কাজের মেয়াদ রয়েছে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পেছনে থেকে ঐসব ব্যক্তিদের ব্যবহার করছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন দলনেতা পশুপতি ম-লের ছেলে মোহন ম-ল জানান; তার বাবা ভারতে রয়েছেন। ১০/১২ দিন পর আসবেন। খাল সংস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, চেয়ারম্যান বাবুই সব জানেন।

প্রকল্প বাস্তবায়ন উপদলনেতা প্রনব মল্লিক বলেন; ২টি এস্কোভেটর মেশিনে কাজ চলছে। মাটি নরম থাকার কারণে নিয়মানুযায়ি গভীর করা যাচ্ছে না। পরে গভীর করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু এটা দেখছেন।

প্রকল্পের ২ অংশের দলনেতা সুকুমার মন্ডল ও উপ-দলনেতা প্রকাশ সরদারের সাথে মুঠোফোনে বা সরাসরি যোগাযোগ করেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

মাগুরখালি ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বিমল কৃষ্ণ সানা বলেন, আমি খবর নিয়ে যতদূর জানি কাজে অনিয়ম হচ্ছে না। একটির কাজ চলছে আরেকটি শুরু হবে। তবে কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। আর প্রকল্প বাস্তবায়ন দল গঠনের ক্ষেত্রে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। এটা একটি মহলের অপপ্রচার। আর প্রকল্পের দলনেতা পশুপতি ম-ল কোথায় আছে আমার জানা নেই।

প্রকল্প বরাদ্দের বিল ছাড়করণ ও কাজের অগ্রগতি বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সরোজ কুমার মিস্ত্রি বলেন; প্রকল্প বরাদ্দের এক কিস্তি অর্থাৎ এক চতুর্থাংশ বিল আমরা ছাড় করেছি। কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জেলা ইঞ্জিনিয়ার সাহেব জানেন। তবে কাজ না করলে বরাদ্দের দেয়া টাকা আমরা ফেরত নেব।

খুলনা জেলা মৎস্য অধিপ্তরের প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বলেন; কাজের পরিমাণ দেখেই আমরা অর্থ ছাড় করবো।

খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শামীম হায়দার বলেন; কাজের স্বার্থে একটা বিল দেয়ার বিধান আছে। কাজ না করলে মেয়াদ শেষে বরাদ্দের টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে অথবা কাজের পরিমাণ অনুযায়ি বরাদ্দের টাকা পাবে। বিষয়টি আমি জানলাম। আমি নিজেই কাজ দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।