সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান-সুপ্র সাতক্ষীরা জেলা শাখার সংবাদ সম্মেলন অন্তর্ভূক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সর্বস্তরে সুশাসন নিশ্চিত করা


প্রকাশিত : মে ১৫, ২০১৮ ||

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: ১৪ মে সোমবার সকাল ১০টায় সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান-সুপ্র সাতক্ষীরা জেলা কমিটি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সআসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। তারা বলেন, বাংলাদেশ বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রান্তসীমায় অবস্থান করেও বর্তমানে উল্ল্যেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে অগ্রসরমান একটি দেশ। সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের ঘনবসতিপূর্ণ দেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী ছিল ৭.২৮ শতাংশ। দারিদ্র্য ও ক্ষুধা বিরোধী সংগ্রামে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে বিগত দশ বছরে। এই সময়ে দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসলেও সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, এখনো ২৩.৫ শতাংশ (সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অক্টোবর ২০১৬) মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে। একই তথ্যসূত্রে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশে ৩৭.৬ মিলিয়ন মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক অগ্রগতি সত্বেও সমাজে বিদ্যমান জীবনযাত্রার বৈষম্য ক্রম-উর্দ্ধমূখী। আয় ও সম্পদ বাড়ছে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের। সমাজের প্রান্তিক মানুষের আয় ও জীবনমান কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিবিএস এর চূড়ান্ত হিসেবে, বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় এখন ১৬১০ মার্কিন ডলার। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে সরকারকে যে সব নতুন কর্মসূচি নিতে হবে, এজন্য আগামী ১৩ বছরে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ৯৩ হাজার কোটি মার্কিন ডলার লাগবে বাংলাদেশী মুদ্রায় যা ৭৫ লক্ষ কোটি টাকার সমান। এমডিজি’র মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে চরম দারিদ্র অনেকটাই কমেছে। এখন এসডিজিতে বলা হচ্ছে, কাউকে পেছনে রাখা যাবে না। কিন্তুু সারা পৃথিবীতে বৈষম্য বাড়ছে। বৈষম্য বা অসমতা কমাতে হলে একদিকে যেমন উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে, তেমনি অন্যদিকে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। এসডিজি বাস্তবায়নে আমাদের দেশীয় উৎস থেকে অর্থায়ন করতে হবে। এসডিজি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া জোর দেয়ার পাশাপাশি মনিটরিংএ গুরুত্ব দিতে হবে। সুপ্র এসডিজি’র ১, ৩, ৪, ৫, ১০, ১৩, ১৬ ও ১৭ নম্বর লক্ষ্যসমূহ অর্জনে দেশব্যাপী তার প্রচারাভিযান শুরু থেকেই চালিয়ে আসছে। এসডিজি’র লক্ষ্যসমূহ অর্জনে খাতভিত্তিক বিশেষ বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন বলে সুপ্র মনে করে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশ হলে নানা ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বাংলাদেশ। স্বল্পসুদের যেমন ঋণ পাওয়া যাবে না, তেমন এলডিসি হিসেবে প্রাপ্ত বাণিজ্য সুবিধাও কমে যাবে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য এখনই একটি সমন্বিত পরিকল্পনা সরকারের হাতে নেয়া উচিৎ। এক্ষেত্রে আগামী ছয় বছর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে বেশী মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। আগামী ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের বাজেটের আকার হতে পারে ৪ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। আর চলতি ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট মুল বাজেট থেকে কম হতে পারে ৪ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিলো ৪ লাখ ২৬৬ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া আগামী বাজেটে রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা হবে বলে অর্থ মন্ত্রী ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধির হার ধরা হবে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ আর মূলস্ফীতি ধরা হবে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। অত্যাবশ্যকীয় সেবাখাত বিশেষত: শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতকে সবিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও সেবাখাতে ভ্যাট হার কমিয়ে করের বিপরীতে সেবার মান উন্নত করার জন্য অধিপরামর্শেরকাজ দেশের ৪৫টি জেলায় চালিয়ে যাচ্ছে সুপ্র। এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন জাতীয় বাজেট ২০১৮-২০১৯ কে সামনে রেখে ৪৫ টি জেলার তৃণমূল জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ও দরিদ্রবান্ধব জনদাবি ভিত্তিক সুপারিশমালা তুলে ধরতেই এই আয়োজন করা হয়।

সুপ্র সাতক্ষীরা জেলা কমিটি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সুধিজন, সাংবাদিক, সংগঠন প্রতিনিধি, সমাজ কর্মিসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্র জেলা সম্পাদক মাধব চন্দ্র দত্ত, সভাপতিত্ব করেন বেগম মরিয়ম মান্নান, দাবিনামা উপস্থিত করেন নাজমুল আলম মুন্না।