রোজার শুরুতেই ভোগান্তির শিকার জেলাবাসি


প্রকাশিত : মে ২০, ২০১৮ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: রোজার শুরুতেই জেলাবাসি ভোগান্তির শিকার। দ্র্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, যানজট, খাদ্যে ভেজালসহ রাস্তা-ঘাটে চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ জনজীবন। সরকারের নানা উদ্যোগ ও সতর্কবাণীর পরও রমজান কেন্দ্রিক কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়ছে। পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ রয়েছে, কিন্তু দাম চড়া। শুধু তা-ই নয়, রোজাভিত্তিক বিভিন্ন নিত্যপণ্য কৃষক পর্যায়ে যে দামে বিক্রি হচ্ছে, সেগুলো ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে প্রায় তিনগুণ দামে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে জেলায় রমজান ভিত্তিক কয়েটি পণ্যের দাম বেড়েছে কয়েক দফায়। রমজানে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাজারে টিসিবির সাশ্রয়ী পণ্য বিক্রির কথা থাকলেও জেলায় এর সুফল পায়নি জনগণ। বিশ্বের বহু দেশে রমজানে দ্রব্যমূল্যের দাম কমাতে ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় নামে। সেখানে বাংলোদেশে দ্রব্যমূল্য বাড়াতে মরিয়া হয়ে উঠে ব্যবসায়ীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলায় সব ধরণের পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কিন্তু রোজা শুরুর দু’একদিন আগ থেকেই অসাধু ব্যবসায়ীরা নানা কৌশলে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে পকেট কাটছেন ক্রেতাদের। সরকার ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে নানা আশ্বাস দেয়া হলেও রমজানে পণ্যের মূল্যের লাগাম টানা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সেহরি ও ইফতারির অনেক পণ্যই সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এতে বাধ্য হয়েই স্বল্প আয়ের অনেককেই প্রয়োজনীয় তালিকা থেকে বেশকিছু পণ্য কাটছাঁট করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে রমজান ও ঈদকে টার্গেট করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ভেজাল চক্রের সদস্যরা। ভেজাল পণ্যে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। পুলিশ-র‌্যাবসহ একাধিক সংস্থা ঘোষণা দিয়ে ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযানে নামলেও থেমে নেই ভেজাল খাবার ও মৌসুমি ফল কেনাবেচা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পণ্য খেয়ে ভোক্তারা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
সরকারের নানা উদ্যোগ ও সতর্কবাণী সত্ত্বেও দাম বাড়ছে রমজানের চাহিদা সম্পন্ন কয়েকটি পণ্যের। তিন দিনের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা। পণ্যগুলো হচ্ছে, বেগুন, কাঁচা মরিচ, ধনেপাতা এবং শসা।
সরেজমিন দেখা গেছে, রবিবার সাতক্ষীরা খুচরা বাজারে বেগুন বিক্রি হয়েছে ৪০-৬০ টাকা কেজি দরে। বুধবার এই বেগুনই বিক্রি হয়েছিল ২৫-৩৫ টাকা। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানালেন পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদেরও বাড়াতে হচ্ছে। এছাড়া কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ৪০-৬০ টাকা। ৬০ টাকার ধনেপাতা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজিতে। শশা ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকায়। সব মাংসের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৫০-৮০ টাকা পর্যন্ত। মসলার দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। বাহারি ইফতার তৈরিতেও ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকারক রং ও কেমিক্যাল। বাজারে বিক্রি হচ্ছে অনুমোদনহীন বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরিকরা হচ্ছে বিভিন্ন সেমাইসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য।
শহরে যানজটের অন্যতম কারণ যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে বাসে যাত্রীতোলা। সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল থেকে ছেড়ে আসা বাস কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে খুলনার রোড মোড়, নারিকেলতলা মোড়, নিউমার্কেট মোড়, তুফান মোড়, হাটের মোড়, দিঘিরপাড় (পিএন স্কুল মোড়) নবারুণ স্কুল মাড়, পুরাতন সাতক্ষীরা কলেজ মোড়, মায়ের বাড়ি মোড়সহ বিভিন্ন জনবহুল স্থানে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠা নামা করায় শহরে যানজট লেগে যায়। পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করে চলে যায়। একজন সুপারভাইজার জানালেন, পুলিশকে নিয়মিত মাসোহারা দিতে হয়। খুলনা রোড মোড় থেকে ইটাগাছা হাটের মোড় পর্যন্ত কয়েক দফায় যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে। আবার দীর্ঘ সময় বাস রেখে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করার কারণে তীব্র গরমে বাসের মধ্যে সেদ্ধ হতে হয় যাত্রীদের। প্রতিবাদ করতে গেলে বাসের হেলপার ড্রাইভারের কাছে লাঞ্ছিত হতে হয় যাত্রীদের। ভূক্ত ভোগীরা জানায়, অবৈধভাবে রাস্তা দখল, রাস্তার উপর গাড়ি পার্কিং, শহরে নছিমন-করিমন চলাচলসহ নানা কারণে শহরে যানজট হচ্ছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক বিভাগ। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে শহরবাসি।
সাতক্ষীরা ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, রোজা ও সামনে ঈদের কারণে যানজট একটু বেশি হচ্ছে। তবে ট্রাফিক বিভাগ যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাট্রিজ ডিসিসিআই চলতি সপ্তাহে স্বারাষ্ট্রামন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের কাছে এসব দাবি তুলে ধরেন। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, রমজানে বিভিন্ন সংগঠনের নামে চাঁদাবাজি হয়। যার প্রভাব পড়ে দ্রব্যমূল্যে।
জেলা পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদুর রহমান জানিযেছেন, রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জেলার আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে চার স্তরেরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধমুলক কর্মকান্ড কঠিন হস্তে প্রতিহত করা হবে। তিনি আরো বলেন, অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের জন্য যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করতে পারে সে বিষয়ও নজরদারী করা হচ্ছে। কোন পুলিশ সদস্য অপরাধ করলে তা প্রমানিত হলে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন জানান, রমজানের পবিত্রতা রক্ষার্থে ভেজাল খাদ্যে, নিত্য প্রয়াজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।