খোশ আমদেদ


প্রকাশিত : May 23, 2018 ||

মাহে রমজান
সাখাওয়াত উল্যাহ: মহান আল্লাহর তায়ালার শুকরিয়া আদায় করছি। যিনি রহমতের দশকের ৬ষ্ঠ দিন অতিবাহিত করার তাওফিক দান করেছেন।
বায়হাকীর বর্ণনায় রয়েছে, রমজান মাসের প্রতিটি দিবা-নিশিতে অসংখ্য জাহান্নামীকে মুক্তি দেয়া হয় এবং প্রতিদিন মুমিন মুসলমানের একটি করে দোয়া কবুল করা হয়। রমজান মাসে আল্লাহর অপার রহমতের বারিধারা সকল মুমিন বান্দার অন্তরকে সিক্ত করে তোলে। এর মাধ্যমে তাদের ঈমানের তেজদীপ্ততা বৃদ্ধি পায়। ধন্য হয় প্রতিটি মুখলেস বান্দা। রমজানের সিয়াম সাধনায় ক্ষুধা পিপাসায় কষ্ট মানুষকে অভাবী ও দরিদ্র লোকদের দুঃখ সরাসরি অনুভব করার বাস্তব শিক্ষা দেয়। গরীবের বন্ধু হতে প্রেরণা দেয় ধণীদের। ধণীরা বুঝতে পারে গরীবের দুঃখ-দুর্দশা। ফলে একে-অপরের দরদী হয়। দুঃখ লাঘবের প্রয়াসে একত্রে কাজ করে। এতে সমাজের মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয় সম্প্রীতি। সমতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে। আল্লাহর রহমত হচ্ছে এসব কিছুর মূল কারণ। এজন্য বলা হয় রমজান মাস রহমতের মাস। তাই আল্লাহ রব্বুল আলামীন যেভাবে বান্দাকে রহমত সিক্ত করেন, সেভাবেই সিয়াম সাধক মুমিন বান্দার কর্তব্য হচ্ছে আল্লাহর সৃষ্টিকুলের প্রতি অধিক পরিমাণ দয়ার দৃষ্টি নিক্ষেপ করা। আবু দাউদ ও তিরমিজীর ভাষ্য হচ্ছে, যমীনে যারা আছে, তাদের প্রতি দয়া কর। আসমানে যিনি আছেন, তিনিও তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। স্বাভাবিক ভাবেই মাহে রমজানে মুমিন বান্দার হৃদয় মন কোমল থাকে। সমাজের সকল মানুষই এই কোমলতার স্পর্শ পায়। তারাও কোমল দয়ার্দ্র হয়ে যায়। কোরআন হাদীসের অধিক চর্চার কারণে মানুষ পরকালের চিন্তায় মগ্ন হয়। ফলে তাদের ঈমান শানিত হয়, তেজদীপ্ত হয় শয়তানের বিরুদ্ধে, ঈমান ও ইসলামের দুশমনদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মনোবল বৃদ্ধি পায়।
সাহরীর সময়: বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে বিজ্ঞান বহুদুর এগিয়ে গেছে। এখন আর রাতের আযান নেই যা তাহাজ্জুদের নামাযীদের বিশ্রামের জন্য সংকেত ছিল এবং ঘুমন্ত ব্যক্তিদের জেগে উঠে ফজরের জামায়াতে শান্তভাবে যেন অংশগ্রহণ করতে পারে এর একটি বলিষ্ট আহবান ছিল। এ আযানটি তাহাজ্জুদ গুজারদের ফজরের নামাযে অংশগ্রহনের উদ্দেশ্য ছিল। বর্তমানকালে এ আযানটি মানসুখ (বাতিল) হয়ে গেছে। প্রত্যেকটি মানুষের হাতে মোবাইলে, কম্পিউটারে এখন টাইম টেবিল বিদ্যমান আছে। ঝুলন্ত ও ডেক্স ক্যালেন্ডার সমূহে বড় অক্ষরে সাহরীর সর্বশেষ সময় ঘোষনা করা আছে। অতএব, এ যুগে সময়সূচি ক্যালেন্ডার অনুসারে সাহরীর শেষ সময় জেনে রাখতে হবে এবং সে অনুযায়ী খাবার-সাহরী গ্রহণ করতে হবে এবং শেষ করতে হবে।
আমিন।