খোশ আমদেদ


প্রকাশিত : মে ২৮, ২০১৮ ||

মাহে রমজান
সাখাওয়াত উল্যাহ: রমজানুল মোবারকের ২য় দশকের মাগফিরাতের ১ম দিন আজ। আজ আমরা ১১তম রোজা পালন করছি। বিগত দু’দিনে প্রচ- তাপদাহ চলছে। তারপরও কোন রোজাদার ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা নষ্ট করেনি একমাত্র আল্লাহর ভীতি বা তাকওয়ার কারণে।
ইসলামের ৫টি স্তম্ভের মধ্যে রোজা একটি। এ মাসটি এলে মসজিদে মুসুল্লির সংখ্যা বেড়ে যায়। সে দৃশ্য দেখলে যেকোন মুমিন মুসলমান আল্লাহর কাছে কামনা করেন, হে আল্লাহ আমাদের বাকি ১১টি মাস যদি এমন হতো! মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাকওয়া অবলম্বন করার তৌফিক দান করুন।
ওমর বিন খাত্তাব (রা.) উবাই বিন কা’ব (রা.)-কে তাকওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। উবাই (রা.) বলেন: আপনি কি কাঁটাযুক্ত পথে চলেছেন? ওমর (রা.) বলেন, হ্যাঁ। উবাই (রা.) বলেন, কিভাবে চলেছেন? ওমর (রা.) বলেন, গায়ে যেন কাঁটা না লাগে সেজন্য চেষ্টা করেছি ও সতর্কভাবে চলেছি। ইবাই (রা.) বলেন, এটাই হচ্ছে তাকওয়ার উদাহরণ।
ফলে দেখা যাচ্ছে, হযরত উবাই বিন কা’বের মতে তাকওয়ার উদাহরণ হচ্ছে কন্টকাকীর্ণ সরু, গিরিপথে চলা। যার দু’দিকেই কাঁটা। যে পথে সাবধানে না চললে গায়ে কাঁটা লাগার সম্ভাবনা আছে। সমাজে হারাম, নিষিদ্ধ কাজ এবং শয়তানের ওয়াসওয়াসাকে কাঁটার সাথে তুলনা করা যায়। আর সমনে অগ্রসর হওয়াকে তাকওয়া বলা যায়। কাঁটার মাঝে চলতে হলে কাঁটা সরিয়ে চলতে হবে। তাহলে কাঁটাবিদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। মুমিনকেও অনুরূপভাবে কাঁটা সরিয়ে নিষ্কন্টক পথে চলতে হবে। তাহলে তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে মুত্তাকি হওয়া যাবে।
তাকওয়াকে বাইন মাছের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। কাদার মধ্যে থাকা স্বত্ত্বেও তার গায়ে কাদা লাগে না। একজন মুমিনও সমাজে পাপ-পঙ্কিলতা এবং আল্লাহর নাফরমানির কোলুষিত পরিবেশে বাস করা স্বত্ত্বেও তিনি আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলেন। পরিবেশের তালে গাঁ ভাসিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে তিনি আল্লহর আদেশ-নিষেধ মেনে কলুষমুক্ত থাকেন। তিনি ¯্রােতের বিপরিতে চলেন এবং সমাজের ন্যায় ও কল্যাণের ¯্রােতধারা প্রবাহিত করেন। মাগফিরাতের ১ম দিনে মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে পরিপূর্ণ তাকওয়া অবলম্বনের তৌফিক দান করুন। আমিন।