৭০ হাজার টাকা না হলে চিকিৎসা হবে না শাকের আলীর!


প্রকাশিত : জুন ১৩, ২০১৮ ||

আব্দুর রহমান: সদর হাসপাতাল এখন পরিণত হচ্ছে প্রাইভেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। বুশরা ক্লিনিকে রেফার করা হচ্ছে রোগীদের। আইলা দুর্গত এলাকায় নি:স্ব একটি পরিবারের আকুতি এটি। রোগীর পরিবার জানান, ৭০ হাজার টাকা নিয়ে চিকিৎসা করার মতো সামর্থ আমাদের নেই। চোখের সামনে স্বামীর মৃত্যু দেখতে হবে। তাছাড়া আর কোন উপায় নেই বলে জানান, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ১নং ওয়ার্ডের ১নং বেডের রোগী শাকের আলীর পরিবার।
শনিবার (৯জুন) হঠাৎ পেটে ব্যথা অনুভূত হলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় শাকের আলীকে। প্রথমে বারান্দায় জায়গা হয়। তারপর কিছু মানুষের সহযোগিতায় একটা বেড পান তিনি। কিন্তু ডাক্তারের কোন চিকিৎসা পাচ্ছেন না তিনি।
আইলা দুর্গত এলাকা গাবুরার খলিসাবুনিয়া গ্রামের মৃত নাছিরুদ্দিনের ছেলে শাকের আলী। বয়সের ভারে এখন আর কোন কাজ করতে পারেন না তিনি। শাকের আলীর একমাত্র পুত্র সন্তানকে লেখাপড়া করাতে জমাজমি যা ছিল সব বিক্রি করে ফেলেছেন। এখন তার পুত্র একটা এনজিওতে কাজ করে কোন রকম সংসার নির্বাহ করছেন। এই পরিবারের পক্ষে এতো টাকা দিয়ে চিকিৎসা করা মোটেও সম্ভব নয়।
শাকের আলীর ছেলে নুর ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে আপনারা কিছু করলে আবার ডাক্তার সাহেব রাগ করতে পারে। তার চেয়ে আমরা আব্বাকে বাড়ি নিয়ে যাই। চোখের সামনে আব্বার মৃত্যু দেখা ছাড়া আর কোন উপায় আমাদের নেই। আমরা সবকিছু হারিয়ে এখন বাবা মা কে নিয়ে বেঁচে আছি।
অসুস্থ শাকের আলীর একমাত্র মেয়ে মনিরা খাতুন জানান, আমাগের জন্য হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হবে না। যা টাকা চাচ্ছে তা কোথায় পাবো? চোখের সামনে আব্বার মৃত্যুর কষ্ট দেখতে হবে তা কোনদিন ভাবতে পারিনি। ডাক্তাররা বলছে ৭০ হাজার টাকা না হলে চিকিৎসা হবে না। আমরা কিভাবে এতো টাকা দেবো। সমাজের বৃত্তবানদের সহযোগিতা ছাড়া আমার আব্বার ডাক্তার দেখানো হবেনা।
সিভিল সার্জন ডা. তাওহীদুর রহমান বলেন, আমি বিষয়টি দেখছি। রোগীর কাছে আমার নাম্বার দেন যখন ডাক্তার আসবে আমাকে ফোনে ধরিয়ে দিবেন। যত দ্রুত সম্ভব সমাধান করার চেষ্টা করছি।
ডা. শরিফুল ইসলাম বলেন, ঈদের সময় হাসপাতালে ডাক্তার নেই! রোগীর অবস্থা গুরুতর। আমার একার পক্ষে সম্ভব না। তার জন্য আলাদা টিম গঠন করতে হবে। বুশরা ক্লিনিকে নিয়ে আসেন ৬০-৭০ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে যাবে। পরে তিনি সিভিল সার্জনকে ফোন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য রোগীর পরিবার পরিজনকে অকথ্য ভাষায় কথা বলেন। তিনি বলেন, আমার কাছে না শুনে সিভিল সার্জনকে কেন ফোন ধরিয়ে দিলেন?
সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি বলেন, আমি বিষয়টি সিভিল সার্জনকে বলেছি। সাতক্ষীরায় এসে নিজে বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।