ঘুষের টাকাসহ জেলা পরিষদের সাঁটলিপিকার শাহীদুজ্জামান দুদকের হাতে আটক


প্রকাশিত : জুন ১৩, ২০১৮ ||

পত্রদূত রিপোর্ট: একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য তিন লাখ টাকা পাইয়ে দেওয়ার জন্য নেওয়া এক লাখ ঘুষের টাকাসহ জেলা পরিষদের গোপনীয় বিভাগের টাইপিস্টকে হাতে নাতে গ্রেপ্তার করেছে দুদক। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জেলা পরিষদের নিজ অফিস ঘর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতের নাম একেএম শাহীদুজ্জামান টুটুল (৩৮)। তিনি সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানাধীন পারকুমিরা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সোহরাব হোসেনের ছেলে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ড. আবুল হাসান জানান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দেবনগর বেগম রোকেয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নকল্পে তিন লাখ টাকা অনুদান পাওয়ার জন্য ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান গত বছরের ৩০ জুলাই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেন। ওইদিন তা রিসিভ করেন প্রতিষ্ঠানটির গোপন শাখার টাইপিস্ট একেএম শাহীদুজ্জামান টুটুল। টাকা পেতে হলে ৩০ শতাংশ টাকা অগ্রিম ঘুষ দিতে হবে বলে ওই প্রধান শিক্ষককে জানান শাহীদুজ্জামান। সে অনুযায়ি প্রধান শিক্ষক তাকে অগ্রিম ১০ হাজার টাকা দেন। পরবর্তীতে তিনি দু’লাখ টাকা পাইয়ে দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। বাকী টাকার জন্য শাহীদুজ্জামান ওই প্রধান শিক্ষককে নানাভাবে ঘোরাতে থাকেন। গত ৩১ মে প্রধান শিক্ষক দেখা করলে শাহীদুজ্জামান তাকে ঘুষের টাকা দ্রুত দিতে বলেন। বিষয়টি তিনি গত ৩ জুন তার (দুদক পরিচালক) বরাবর এক আবেদন করে প্রতিকার দাবি করেন। সে অনুযায়ি তারা ফাঁদ প্রস্তুত করে মেহেদী হাসানের কাছ থেকে নেওয়া ৫০ হাজার টাকা (২৩৬১২০১ থেকে ২৩৬১২৫০) ইনভেনটরী তালিকা প্রস্তুত করে তা মেহেদী হাসানকে অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘুষ প্রদানের জন্য পাঠিয়ে দেন।
তিনি আরো জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে সহকারি পরিচালক নাজমুল হোসাইন ও সহকারি পরিচালক মহাতাবউদ্দিনের নেতৃত্বে উপ-সহকারি পরিচালক মোশররফ হোসেনসহ একটি টিম সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ এলাকায় ওঁৎ পেতে থাকেন। মেহেদী হাসান ৫০ হাজার টাকা নিয়ে শাহীদুজ্জামানকে দিতে গেলে তিনি আরো ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এ সময় ওই শিক্ষকের পক্ষে ধুলিহরের হাসান হাদী তাকে আরো ৫০ হাজার টাকা দিলে তিনি এক লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করে নিজের জিন্সের ডান পকেটে রাখেন। টাকা নেওয়ার সংকেত পেয়েই শাহীদুজ্জামানকে হাতে নাতে গ্রেপ্তার করা হয়।