স্মরণ সভায় ফের আন্দোলনের ডাক


প্রকাশিত : জুন ২০, ২০১৮ ||

এসএম শহীদুল ইসলাম: সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা দৈনিক পত্রদূত সম্পাদক গণমানুষের নেতা স. ম. আলাউদ্দিনের খুনিদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিকদের কর্মসূচি চলবেই। স. ম. আলাউদ্দিন বেঁচে থাকবেন তার কর্মের মাঝে। খুনিরা আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। খুনিদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। স. ম. আলাউদ্দিনের খুনি ও খুনিদের কাছ থেকে সুবিধাভোগিদেরও সামাজিকভাবে চিহ্নিত করে বয়কট করতে হবে। এমনই আহ্বানের মধ্য দিয়ে ১৯জুন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আয়োজনে দৈনিক পত্রদূতের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা সাবেক প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য স. ম. আলাউদ্দিনের ২২তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় শহীদ স. ম. আলাউদ্দিনের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পন ও তার আত্মার শান্তি কামনায় মাজার জিয়ারত করেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকগণসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এরপর সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের স. ম. আলাউদ্দিন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াজেদ কচি। বক্তব্য রাখেন দৈনিক পত্রদূতের সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আনিসুর রহিম, দৈনিক দক্ষিণের মশালের সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার কল্যাণ ব্যানার্জী, শহীদ স. ম. আলাউদ্দিন তনয়া ও দৈনিক পত্রদূতের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতি, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি জিএম মনিরুল ইসলাম মিনি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, মমতাজ আহমেদ বাপী, এম কামরুজ্জামান, রুহুল কুদ্দুস, সাংবাদিক কাজী শওকত হোসেন ময়না, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ হারুন উর রশিদ, কবি ও সাহিত্যিক গাজী শাহাজান সিরাজ, গোলাম সরোয়ার, ড. দিলিপ কুমার দেব, শরিফুল¬াহ কায়সার সুমন, আবুল কাশেম, মোশাররফ হোসেন, অসীম চক্রবর্তী, কালীদাস রায়, সেলিম রেজা মুকুল, সাখাওয়াত উল্যাহ, আব্দুল গফুর ও আমিনুর রশিদ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারি। এসময় ইলেক্ট্রনিক্স, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় প্রত্যেক বক্তা শহীদ স. ম আউদ্দিনের খুনিদের বিচার দাবি করে খুনিদের সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানান। খুনিদের বিচার তথা মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ফের আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন বক্তারা। বক্তারা সাতক্ষীরার সামগ্রিক উন্নয়নে স. ম আলাউদ্দিনের স্বপ্ন চিন্তা ও অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। ভোমরা স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠা, চেম্বার অব কমার্স প্রতিষ্ঠা, শ্রমিক লীগ প্রতিষ্ঠা, বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা, আলাউদ্দিন বিস্কুট ফ্যাক্টরী প্রতিষ্ঠা, ট্রাক টার্মিনাল প্রতিষ্ঠাসহ কৃষি শিল্পের বিকাশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
আলোচনা সভায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক পত্রদূত’র সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি অধ্যাপক আনিসুর রহিম বলেন, স. ম. আলাউদ্দিন খুন হবার পরপরই আমি বের হয়ে খুনিদের তাড়া করেছিলাম। তিনি আরো বলেন, স. ম আলাউদ্দিনকে ১৯ জুনের আগে কমপক্ষে একবার খুন করার টার্গেট করে গডফাদার সবুর। একবার রাইফেলের ট্রিগার টানতে যেয়ে শব্দ হয় কিন্তু গুলি ফাটেনি। এরপর কিলাররা পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, সবুর কী সাতক্ষীরায় একটা দুটো খুন করেছে? সে অনেক মানুষকে খুন করেছে। মোহন ও কিসলুসহ তার ভাইয়েরা সাতক্ষীরায় একেরপর এক খুন করেছে অসংখ্য মানুষকে। সেই খুনিদের সাথেই আমরা বসবাস করছি। এটা দু:খজনক। জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার নাম ধরে তিনি বলেন তার কারণেই খুনিরা উৎসাহিত হয়েছে। তিনি বলেন, খুনিরা আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। স. ম. আলাউদ্দিন বেঁচে থাকবেন তার সৃষ্টির মাঝে। তিনি সাতক্ষীরার সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
দৈনিক দক্ষিণের মশালের সম্পাদক অধ্যক্ষ আশে-ই-এলাহী বলেন, স. ম. আলাউদ্দিন বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। এরপর ৬৬’র ছয়দফা আন্দোলনে খুলনা বিএল কলেজে পড়াকালীন সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তৎকালীন কামরুজ্জামান টুকুর নেতৃত্বে খুলনার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ স. ম. আলাউদ্দিনের ভূমিকার প্রশংসা করেন। ৭০’র নির্বাচনে সাতক্ষীরার তালা-কলারোয়া আসনে কেন্দ্র থেকে তাকেই মনোনয়ন দেয়া হয়। এরপর তিনি প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনীতিতে স. ম. আলাউদ্দিন ছিলেন সৎ ও স্বচ্ছতার প্রতিক। অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী এক আলোকিত মানুষ ছিলেন স. ম. আলাউদ্দিন। স. ম. আলাউদ্দিন হত্যা ও ভূমিহীন আন্দোলন সাতক্ষীরাবাসিকে ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছে। খুনিদের বিচার হতেই হবে।

প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জী বলেন, স. ম. আলাউদ্দিন ছিলেন সকল ধর্মের মানুষের কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ। তিনি নিজের ধর্ম পালন করতেন, শ্রদ্ধা করতেন সকল ধর্মকে। শৈশবে তার ¯েœহ পেয়েছি। তিনি আরো বলেন, মাঝে মাঝে কিছু সাংবাদিক এমনভাবে লেখেন যেনো ‘স. ম. আলাউদ্দিন নিজে নিজেই আত্মহত্যা করেছেন।’ কল্যাণ ব্যানার্জী আরো বলেন, খুনের চাক্ষুষ প্রমান থাকা সত্বেও তৎকালীন প্রশাসন খুনিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আসামীদের নাম উল্লেখ না করেই স. ম. আলাউদ্দিনের ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে অজ্ঞাতনামা আসামী করে এ মামলা করা হয়। যারা খুনি তারাই আলাউদ্দিনের ভাইকে দিয়ে এ মামলা করিয়েছিলো। এ বছরের মধ্যে স .ম আলাউদ্দিন হত্যা মামলার রায় হতে পারে। এ মামলার রায় যদি আমরা দেখতে চাই তাহলে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিকদের কর্মসূচি থাকতে হবে। এ জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

শহীদ স. ম. আলাউদ্দিন তনয়া ও দৈনিক পত্রদূত’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতি বলেন, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক কারণে আব্বার সাথে সময় কাটানোর সৌভাগ্য খুবই কম ছিলো। ভোমরা স্থলবন্দর, চেম্বার অব কমার্সসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। এছাড়া লোক চক্ষুর অন্তরালে তিনি অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ ছিলেন। আব্বার বসার সেই জায়গাগুলোতে গেলেই যেনো তার স্পর্শ পাই। এসময় আবেগে আপ্লুত হয়ে সেঁজুতি কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, ‘আমার মা যেনো তার জীবদ্দশায় স্বামী হত্যার বিচার দেখে যেতে পারেন।’

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক পত্রদূত’র প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী সম্পাদক সুভাষ চৌধুরী বলেন, সাতক্ষীরায় কারিগরী শিক্ষার ধারণা প্রথম দিয়েছিলেন স. ম. আলাউদ্দিন। বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করে তিনি দেখিয়েছিলেন কারিগরী শিক্ষার ধারণা। শিক্ষার পাশাপাশি তিনি জেলার শিল্প কলকারখানা গড়ার কাজে ছিলেন নিবেদিত সৈনিক। তিনি ধার্মিক ছিলেন। সততা ছিলো তার পূজি। তিনি টাকা বা ঘুষ দিয়ে কাজ করার চরম বিরোধী ছিলেন। স্বার্থের বিনিময়ে রাজনীতি করার চরম বিরোধী ছিলেন স. ম. আলাউদ্দিন। সাহসী ছিলেন তো বটেই। জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনায় তার স্বপ্ন আজ বাস্তব। এই মানুষটিকে যারা খুন করেছে তারা চিহ্নিত। খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জিএম মনিরুল ইসলাম মিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেসময় আমার ফটোস্টাটের দোকান ছিলো। সে দোকানে ফোন ফ্যাক্স করা হতো। কম্পিউটারে কম্পোজ করা হতো। স. ম. আলাউদ্দিন আসতেন আমার দোকানে। তার কাগজপত্র কম্পোজ ও ফটোকপি করার জন্য আমার দোকানে আসতেন। মূলত তার কারণেই আমার দোকানটি ভালোভাবে পরিচালিত হতো। একজন মহৎ হৃদয়ের মানুষ ছিলেন তিনি। স. ম. আলাউদ্দিনের খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান মনিরুল ইসলাম মিনি।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, স. ম. আলাউদ্দিনের মৃত্যুই সাতক্ষীরার সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হবার সুযোগ করে দিয়েছে। ১৯৯৬ সালে সাতক্ষীরায় দুটি প্রেসক্লাব ছিলো। আলাউদ্দিনের মৃত্যু দুই প্রেসক্লাবকে সেদিন এক করে দিয়েছিলো। স. ম. আলাউদ্দিনের মৃত্যু কোনো পক্ষই মেনে নিতে পারেনি। গডফাদারদের টাকা সাংবাদিকদের আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে পারেনি। সাংবাদিকদের সাহসী নেতৃত্ব খুনিদের চিহ্নিত করেছে। স. ম. আলাউদ্দিন তার কর্মের মধ্যেই বেঁচে থাকবেন। খুনিরা সামাজিকভাবে ঘৃণিত। তারা ভেসে যাবে। তিনি আরো বলেন, খুনি গডফাদার সবুর-ঝড়–দের কাছে প্রশাসনও অসহায়। খুনিরা সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ লুটপাট করে। খাস জমি দখল করে। অথচ প্রশাসন নির্বিকার। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। স. ম. আলাউদ্দিন হত্যা মামলার রায় এ বছর হতে পারে। খুনিরা বিচারকার্যে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে। সেজন্য সাংবাদিকদের সতর্ক থাকতে হবে। বিচার না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান স্মৃতিচারণ করে স. ম. আলাউদ্দিনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, প্রেসক্লাবে নির্বাচন আসলে আমরা কী তাদের বয়কট করি নাকি তারা আমাদের বয়কট করে? লোক দেখানো কাজ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আলাউদ্দিন হত্যা মামলার আসামীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী বলেন, স. ম. আলাউদ্দিনের উজ্জ্বল ভবিষ্যত দেখে খুনিরা ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে খুন করে। আলাউদ্দিন রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িকভাবে ছিলেন সফল। ২২ বছর বিচার হয়নি। কিন্তু খুনিরা সফল হয়নি। খুনিরা ঘৃণিত হয়েছে। অভিযুক্তরা বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। মামলার ধার্য দিনের আগে সাংবাদিকদের কর্মসূচি থাকতে হবে। জজ সাহেব যেনো পত্রিকা দেখেই এজলাসে যেতে পারেন। তিনি খুনিদের ফাঁসির দাবি জানান।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামান বলেন, স. ম. আলাউদ্দিন সাতক্ষীরার রতœ ছিলেন। খুনিদের কাছ থেকে অনেকেই স্বার্থ নিয়েছেন। তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। তিনি স.ম আলাউদ্দিনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের স. ম. আলাউদ্দিন মিলনায়তনকে ডিজিটাল কর্নারে পরিণত করার দাবি জানান। একই সাথে খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করেন।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস বলেন, আগামী বছর যেনো আর আমরা পত্রিকার পাতায় না দেখি ‘বিচারহীনতার ২৩ বছর’। খুনিরা সর্বোচ্চ শাস্তি পাক এ কামনা করি।

দৈনিক কল্যাণের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি কাজী শওকত হোসেন ময়না খুনিদের ফাঁসির দাবি জানিয়ে বলেন, সাতক্ষীরার গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে খুন হন স. ম আলাউদ্দিন। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে স.ম. আলাউদ্দিনের নামে ফলক স্থাপনের দাবি জানান শওকত হোসেন ময়না।

জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ হারুন উর রশিদ বলেন, এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে স. ম. আলাউদ্দিনের ভূমিকা ছিলো অপরিসীম। জেলা আওয়ামী লীগ তার মৃত্যু বার্ষিকী পালন করেনি। এটা দু:খজনক। জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার নাম ধরে তিনি বলেন, ২০০০ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাকেও কেউ স্মরণ করেনা। তবে স. ম. আলাউদ্দিনকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন সবাই। তিনিও খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

কবি ও সাহিত্যিক গাজী শাহাজান সিরাজ বলেন, সাংবাদিক হত্যার মত জঘন্য অপরাধ আর নেই। স. ম. আলাউদ্দিন হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার স. ম. আলাউদ্দিন হত্যা মামলার বিচার ত্বরান্বিত করতে প্রেসক্লাবে মনিটরিং সেল গঠন ও স. ম. আলাউদ্দিনের নামে একটি সড়ক নামকরণের দাবি জানান। এছাড়া আলাউদ্দিনের জীবনী নিয়ে একটি বই প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোরের শরিফুল্লাহ কায়সার সুমন খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে বলেন খুনিদের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি’র জেলা প্রতিনিধি আবুল কাশেম বলেন, স. ম. আলাউদ্দিন ছিলেন বহুমুখি প্রতিভার অধিকারী। অসম্ভব বলে তার অভিধানে কিছুই ছিলো না। তিনি খুনিদের ফাঁসির দাবি জানান।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন খুনিদের বয়কট করার আহ্বান জানান।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য অসীম চক্রবর্তী বলেন, খুনিদের সাথে কোনো সম্পর্ক রাখা যাবে না। আলাউদ্দিন ছিলেন আওয়ামী লীগের তথা গণ মানুষের নেতা। বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়। সরকার ক্ষমতায় থাকতে বিচার হবে না- তা মেনে নেওয়া যায় না।
সাংবাদিক কালিদাস কর্মকার খুনিদের ফাঁসির দাবি জানান। সাংবাদিক সেলিম রেজা মুকুল স. ম. আলাউদ্দিনের শাহাদাত বার্ষিকীতে পোস্টারিং ও দোয়া অনুষ্ঠানের কথা বলেন। এছাড়া তিনি দ্রুত বিচারের দাবি জানান। সাংবাদিক আব্দুল গফুর খুনিদের সর্বোচ্চ দাবি জানান। সাংবাদিক সাখাওয়াত উল্যাহ বলেন, কারা খুনিদের কাছ থেকে সুবিধাভোগী তাদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। আলাউদ্দিনের কর্মময় জীবনে যেসব প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন তার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এছাড়া তার স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করার কথা বলেন তিনি।
সাংবাদিক ড. দিলিপ কুমার দেব খুনিদের ফাঁসির দাবি জানান। সাংবাদিক আমিনুর রশিদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, কবরস্থানকে সুন্দর করতে হবে। এছাড়া ভৈরবনগর থেকে মিঠাবাড়ি পর্যন্ত সড়কটি শহীদ স. ম. আলাউদ্দিনের নামে নামকরণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারি বলেন, বিচার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিকদের কর্মসূচি চলবেই চলবে। খুনিদের ফাঁসির দাবি জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল ওয়াজেদ কচি সকল বক্তার বক্তব্যে সংহতি প্রকাশ করে বলেন, রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে স. ম. আলাউদ্দিনের সাথে আমার পরিচয়। আমার মামার বাড়ি সাতক্ষীরায়। মামার নাম এমাদ মাষ্টার। সেই সুবাদে আমি আলাউদ্দিনকে মামা বলে ডাকতাম। তার চিন্তা চেতনা ও পরিকল্পনা ছিলো অনন্য। তার ব্যবহার ও আচার আচরণ ছিলো অত্যন্ত মধুর। তার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা। আগামী ২৫ জুন সাতক্ষীরা শহীদ আলাউদ্দিন চত্তরে স. ম. আলাউদ্দিন হত্যা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।