কেশবপুরে বাণিজ্যিকভাবে নৌকা তৈরী করে স্বাবলম্বী মইনুর রহমান


প্রকাশিত : জুলাই ৫, ২০১৮ ||

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে বৃষ্টির মৌসুম এলেই শুরু হয় আবহমান গ্রাম বাংলার প্রাচীনতম ঐতিহ্য কাঁঠের নৌকা তৈরীর উৎসব। উপজেলার মঙ্গলকোট বাজারে দীর্ঘ ১০বছর ধরে নৌকা তৈরীর ব্যবসা করে চলেছেন কালিয়ারই গ্রামের মইনুর রহমান। তিনি এই ব্যবসায় একজন স্বালম্বী যুবক। তিনি নৌকা তৈরীর ব্যবসা করে মুনাফা অর্জনের সাথে সাথে ধরে রেখেছেন নৌকা নামের প্রাচীন ঐতিহ্যকে। মইনুর রহমানের এই ব্যতীক্রমধর্মী ব্যবসার ফলে এই শিল্পের সাথে জড়িত একাধিক পরিবার বৈশাখ মাস থেকে শুরু করে ভাদ্র মাস পর্যন্ত দীর্ঘ ৫মাস অলস সময়ে খুজে পায় আত্মকর্ম সংস্থান। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, মইনুর রহমানের নৌকা তৈরীর কারখানায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতে ৫থেকে ১০জন কারিগর সকাল থেকে বিকাল অবধি চুক্তি ভিত্তিক মজুরীতে কাজ করে থাকেন। একটি মাঝারী (২৭ফুট দৈর্ঘ ও সাড়ে ৫ফুট প্রস্থ) সাইজের নৌকা তৈরী করতে ৫/৬জন কারিগরের ৪/৫দিন সময় লাগে। এবং নৌকা প্রতি ৬ হাজার থেকে ৭হাজার টাকা মুজুরী গুনতে হয়। একটি মাঝারী (২৭ফুট দৈর্ঘ ও সাড়ে ৫ফুট প্রস্থ) সাইজের নৌকা ২০থেকে ২২হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। কেশবপুর চাড়াও যশোর, মনিরামপুর, তালা, ডুমুরিয়া, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন বাজারে প্রতি বছর তিনি প্রায় ৩শ’ থেকে ৪শ’ পিচ নৌকা বিক্রি করেন। এসব নৌকা খাল ও নদীর পাশাপাশি মৎস ঘেরে ব্যবহৃত হয়। কেশবপুরে প্রচুর পরিমানে মৎস ঘের ও ঘের ব্যবসায়ী থাকার কারণে বর্ষ মৌসুমে ব্যাপক হারে বিক্রি হয় কাঠের তৈরী এই নৌকা। বন্যা কবলিত এই অঞ্চল দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধ থাকায় এ অঞ্চলের মানুষ ঘের ব্যবসার প্রতি ঝুকে পড়েছে। যার ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে মৎস ঘেরের সংখ্যা। আর মৎস ঘেরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ছে নৌকার চাহিদা। তাই এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে দরকার সরকারি পৃষ্টপোষকতা, এমনটাই দাবী এই শিল্পের সাথে জড়িতদের। এবিষয়ে নৌকা ব্যবসায়ী মইনুর রহমান বলেন নৌকা তৈরীর ব্যবসা একটি ব্যায়বহুল ব্যবসা তাছাড়া এটা একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। যদি কোন অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান পৃষ্টপোষকতায় এগিয়ে আসে তাহলে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান বলেন এটা একটি ভাল উদ্যোগ, সব ভালো কাজের পৃষ্টপোষকতায় সরকার আন্তরিক। তিনি আবেদন করলে সরকারি অর্থকরি প্রতিষ্ঠান থেকে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার ব্যাবস্থা করা যেতে পারে।