শ্যামনগরে বৃদ্ধাকে হাত পা বেঁধে নির্যাতন


প্রকাশিত : জুলাই ৭, ২০১৮ ||

পত্রদূত রিপোর্ট: শ্যামনগরে ৯০বছর বয়স্ক এক বৃদ্ধাকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। হাত পা বেধেঁ খেতে না দিয়ে দিনের পর দিন উঠানে রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বৃদ্ধা কোন কাজ করতে না পারায় ছেলে বউ আশা রাণী তাকে মারপিটসহ নানা নির্যাতন করে। বৃদ্ধার মুখে কাপড় ঢুকিয়ে মারপিট করে যেন পাশের লোক শুনতে না পায়। উপজেলার বড়কুপট গ্রামের এ ঘটনা ঘটে। এঘটায় পুলিশ বৃদ্ধার ছেলে ও ছেলের স্ত্রীকে আটক করে।
জানা যায়, নির্যাতন চালানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ ওই বৃদ্ধার বউমা ও ছেলেকে আটক করেছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বড়কুপট গ্রাম থেকে পুলিশ তাদের আটক করে। আটককৃতরা হলেন, বড়কুপট গ্রামের মৃত তৈলক্ষ্য মন্ডলের ছেলে প্রভাষ মন্ডল ও তার স্ত্রী আশা রানী।
স্থানীয়রা জানান, বড়কুপট গ্রামর মৃত তৈলক্ষ্য মন্ডলের স্ত্রী নব্বই ঊর্ধ্ব বৃদ্ধা ফুল মতি দাসী হাটাচলা ফেরা করতে না পারায় মাঝে মাঝে বেডে পায়খানা-প্রসাব করত। এজন্য পুত্রবধূ প্রায় তার শাশুড়িকে বেঁধে নির্যাতন করতো। একই সাথে তাকে ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হয় না। সম্প্রতি স্থানীয় এক যুবক নির্যাতনের ঘটনাটি মোবাইলে ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট দেয়। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়। ‘ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করে ‘মা জনম দু:খিনী মা, গর্ভধারীণী মা, যে মা ১০ মাস ১০দিন গর্ভধারণ করে স্ব-যতেœ রেখেছিলেন। সেই মা যদি এমন বউয়ের পাল্লায় পড়েন? কিন্তু সন্তানের চোখ কি অন্ধ?’ লিখে স্ট্যাটাস দেন।’
বিষয়টি পুলিশের দৃষ্টিগোচর হলে গতকাল শুক্রবার দুপুরে পুলিশ গিয়ে ওই বৃদ্ধাকে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেন এবং ছেলে ও বউমাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।
এ ব্যাপারে শ্যামনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শংকর জানান, ওই বৃদ্ধার ছেলে-বউমাকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
তিনি আরো জানান, বৃদ্ধা ফুলমতি দাসী বর্তমানে তার বাড়িতেই ভাল আছেন। তার খাবারের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। তবে, এই বৃদ্ধ বয়সের ভারে বর্তমানে একটু মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় আছেন। তিনি বেডে প্রসাব ও পায়খানা করেন বলে আরো জানান।