যা শোনা গেল তা নয়: সুন্দরবন দোবেকী এলাকা থেকে হরিণ ও অস্ত্রসহ দু’জন আটক


প্রকাশিত : জুলাই ১০, ২০১৮ ||

শ্যামনগর (সদর) প্রতিনিধি: রোববার দিবাগত গভীর রাতে শোনা গেল সুন্দরবনে আন্তর্জাতিক চোরা শিকারি চক্রের হোতা সাত্তার মোড়লসহ ১৬/১৮ জনের একটি দল বিপুল পরিমান হরিণ শিকার করেছে। ঐ দলের প্রটেকশনে রয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ৬ সদস্য। তারা সবাই মিলে রাতে ২টি হরিণের মাংস ভক্ষণ করেছে। আরো ২০টি হরিণ সাথে নিয়ে তারা এলাকায় ফিরে আসছে। এ খবরের একপর্যায়ে গভীর রাতে কোস্টগার্ড এবং বনবিভাগের যৌথ অভিযানে দোবেকী এলাকায় তাদেরকে আটক করা হয়। এরআগে গত শনিবার রাত ১০টার দিকে সাত্তার মোড়ল এই দলটি নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করে। ১৬ ক্যান বরফও ছিল তাদের সাথে। কিন্তু না সকালে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করলো না কোন সংস্থা। যে বনবিভাগ কোস্টগার্ড অভিযান চালিয়েছে শোনা গেল তারাও চুপচাপ। রোববার রাত আড়াইটার পর থেকে সোমবার দিনভর একাধিক ব্যক্তি দৈনিক পত্রদূতকে এমন খবর জানিয়েছে। সোমবার দিনভর এ বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সাত্তার মোড়ল ও তার দলবলকে নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে কৌতুহলী হয়ে সাংবাদিকদের কাছে জানতে চেয়েছেন, সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে। কিন্তু আইন প্রয়োগকারী কোন সংস্থা এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত না করলেও আন্তর্জাতিক চোরা শিকারি চক্রের গডফাদার আব্দুস সাত্তার মোড়লের নামে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। এতেই সাধারণ মানুষ হরিণ শিকারের ঘটনা সম্পর্কে কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছে বলে জানান।

 

রোববার গভীর রাত থেকে খবরটি এমনই ছিল যে, দলবেঁধে গত শনিবার রাতে হরিণ শিকারে যায় ওরা ১৬ জন। ১৬ ক্যান বরফ আর হরিণ মারার জন্য কয়েকটি বন্দুক নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করে হরিণখেকো সাত্তার মোড়লের দল। একে একে ২২টি হরিণ শিকার করে তারা। ২টি হরিণের মাংস রান্না করে খায়। ২০টি হরিণের ভূড়ি বের করে মাংস বরফে রাখে। এভাবেই হরিণ নিধন করছিলেন সাত্তার মোড়লের দল। এদলে ছিলেন আন্তর্জাতিক চোরা শিকারি চক্রের গডফাদার আব্দুস সাত্তার মোড়ল, তার ঘেরের কর্মচারি শ্যামনগর উপজেলার কদমতলা গ্রামের ইমান গাজীর ছেলে মঞ্জু গাজী ও পাতাখালি গ্রামের আমজাদ গাজীর ছেলে মহিবুল্লাহ গাজী, বন্দকাটি গ্রামের বাচ্চু, সিংহড়তলী গ্রামের ইউসুফ গাজী, হরিনগর গ্রামের বিকাশ মন্ডল, চুনকুড়ি গ্রামের আব্দুস সামাদ, রমজাননগর গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদ সরদারের ছেলে আনারুল ইসলাম, পাতাখালি গ্রামের মফিজউদ্দিন গাজীর ছেলে আলী হোসেন, একই গ্রামের আমজাদ গাজীর ছেলে বাবলুসহ দুজন এসআই, দুজন এএসআই ও দুজন কনস্টেবল। এদের মধ্যে আনারুল, আলী হোসেন ও বাবলু পেশাদার শিকারি। এদিকে হরিণ শিকারের খবর পায় বনবিভাগ ও কোস্টগার্ড। তারা সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের দোবেকী এলাকা থেকে পুরো দলকে ঘিরে ফেলে। তবে হরিণ শিকারে যাওয়া পুলিশ সদস্য এসময় অভিযানে অংশ নেয় বলে অপর একটি সূত্র জানায়।
তবে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আব্দুল মান্নান জানান, সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের গহীনে বনদস্যু জাকির বাহিনীর সদস্যরা ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুনকুড়ি নদী সংলগ্ন দোবেকী নামকস্থান উপ-পরিদর্শক লিটন মিয়া ও উপ-পরিদর্শক হাবিবের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টহল দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে ৩টি জবাই করা হরিণ, ৩টি একনলা বন্দুক ও একটি নৌকাসহ উক্ত দুই চোরাশিকারীকে আটক করা হয়। তিনি আরো জানান, এঘটনায় আব্দুস সাত্তার মোড়লসহ তিনজনের নামে শ্যামনগর থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নং ৩, তারিখ-৯-৭-২০১৮। মামলার অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড আব্দুস সাত্তার মোড়ল পলাতক রয়েছে।

উল্লেখ্য, সাত্তার মোড়ল আন্তর্জাতিক চোরা শিকারী চক্রের সুন্দরবন এলাকার গড়ফাদার। দেশ এবং দেশের বাইরে জুয়ার বোর্ডের নামকরা জুয়াড়ী হিসেবে তার কু-খ্যাতি রয়েছে। এর আগেও একইভাবে হরিণ শিকার করে মামলার আসামী হয়েও তিনি পার পেয়ে যান। পুলিশ, প্রশাসন, রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধিসহ বড়বড় আমলারাও তার হরিণ শিকারের সঙ্গী হয়ে থাকেন এবং শিকারকৃত হরিণের মাংস ভক্ষণ করে থাকেন। ইন্টারপোরের তালিকাভুক্ত শিকারী চক্রের সদস্য হিসেবেও তার নাম প্রকাশিত হয়েছে।