ভোমরায় দুর্নীতির শুরু হয় স্কেল থেকে !


প্রকাশিত : জুলাই ১২, ২০১৮ ||

আবিদ হোসেন, ভোমরা: পত্রদূতে প্রকাশিত ‘দ্বৈত নাগরিকত্বের আড়ালে ভোমরা স্থল বন্দরে চলছে অবাধ চোরাচালান’ খবরটি ভোমরায় সর্বস্তরের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিভিন্ন অফিস থেকে শুরু করে চায়ের দোকানগুলোতে চলছে বিভিন্ন আলোচনা সমালোচনা। ভারতীয় আইকার্ডধারী বাংলাদেশী ড্রাইভাররা তাদের ট্রাক নিয়ে ভোমরা বন্দরে প্রবেশ করা মাত্র গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে তাদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রায় সকলেই একমত পোষণ করেছেন। সরকারি কর্মকর্তা হয়ে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় টাকা অবৈধভাবে পরিবর্তন করে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসাকে উৎসাহিত করার কারণে ভোমরা স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সর্বত্র সমালোচনার ঝড় বইছে। একই সাথে বেরিয়ে আসছে ভোমরা স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের সীমাহীন দুর্নীতির চিত্র। বছরের ১২ মাসই দুটি স্কেলের মধ্যে একটি থাকে খারাপ। সকল দুর্নীতির শুরু হয় এই স্কেল থেকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী জানালেন, বর্তমানে ভোমরা কাস্টমস্ কর্তৃপক্ষের স্কেলটি খারাপ হয়ে পড়ে আছে। এই সুযোগে ভোমরা স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ খালি ট্রাকের ওজন বেশি দেখিয়ে মুষ্টিমেয় পছন্দসই কয়েকজন ব্যবসায়ীকে অবৈধ সুবিধা প্রদান করছে। এ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে টমেটোর গাড়িতে ৫০০ কেজি থেকে ৭০০ কেজি এবং ঝালের গাড়িতে ৭০০ কেজি থেকে এক মেট্রিকটন পর্যন্ত। স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের এই দ্বিচারিতার কারণে ভোমরা স্থল বন্দরের আজ দৈন্যদশা। আমদানীকারকরা চলে যাচ্ছেন অন্য বন্দরে। ব্যবসায়ীরা হতাশাগ্রস্ত। অধিকাংশ শ্রমিকের ভাগ্যে ন্যূনতম মজুরিটুকু জুটছে না। সরেজমিন পার্কিং ইয়ার্ড ঘুরে দেখা গেলো সর্বত্রই চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র। দুটি গোটাউন পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অথচ কিপিং লাইসেন্স পেতে সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীদের নাভিশ্বাস উঠলেও ভোমরা স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের নেই কোন তৎপরতা। বরং অপতৎপরতা আছে সন্ধার পরে ভারতে ঢোকার অনুমতি না থাকা সত্বেও ভারতীয় খালি ট্রাকগুলো ইয়ার্ড থেকে বাহির করে দিয়ে অহেতুক যানজট তৈরি করে দেওয়ার। একটি মাত্র শেডের পরিবেশও পচা পেয়াজ ও টমেটোর দুর্গন্ধে ভরা। একই রকম দুর্গন্ধ মাছ পয়েন্টে। পুরাতন গোডাউন (জলিল সাহেবের গোডাউন) এর ছাদে অযু করার জায়গা থেকে ড্রাইভার এবং শ্রমিকদের খাওয়ার পানি সংগ্রহ করতে হয়। শ্রমিক মোমিনুর রহমান বলেন, এ পর্যন্ত কোন দিন ট্যাংকি পরিস্কার করতে দেখিনি। পানি পিপাসা পেলে খাই। কি খাচ্ছি তা আল্লাহই জানেন। পার্কিং ইয়ার্ডের পানি নিস্কাশনের জন্য নেই কোন সুষ্ঠু ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ভেমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম গাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান ভোমরা স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্মলগ্ন থেকেই আছেন। অথচ পানি নিস্কাশনের সুন্দর কোন প্লান উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষকে এখনও পর্যন্ত দিতে পারেননি। কয়েকদিন আগে অতিবৃষ্টির পানি পার্কিং ইয়ার্ডের পশ্চিম পাশে ছেড়ে দেওয়ায় কয়েশত ঘরবাড়ি ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হাটু সমান পানিতে তলিয়ে যায়। ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী মিজানউদ্দীন রসিকতা করে বলেন, দাউদ হায়দারের একটি কবিতার বইয়ের নাম জন্মই যার আজন্ম পাপ। ভোমরা স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের অবস্থাও তাই। স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম চালু হওয়ার আগে ভোমরা বন্দরে ব্যবসা ছিল। আমরা সকলেই ভাল ছিলাম। দুদকের উচিত দ্রুত এদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা।