খোলা চিঠি


প্রকাশিত : আগস্ট ৩, ২০১৮ ||

 

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীনতার স্থপতি ও জাতির জনক প্রয়াত রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়ীত্ব পালনকারী আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আইন ব্যবসায়ী ও ১৯৭২ সনের সংবিধান প্রণেতা কমিটির চেয়ারম্যান ড. কামাল হোসেন সাহেবের কাছে আমার কয়েকটি প্রশ্ন?

প্রশ্ন ১। আপনি বিগত ১লা আগস্ট বাঙালি জাতির শোকের মাসের ১ম দিনে বাংলাদেশ প্রতিদিনের ১ম পাতায় ৩১ জুলাই তারিখে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স রুমে দেওয়া বক্তব্যে ‘মুক্তিযোদ্ধারা ব্যবসার জন্য যুদ্ধ করেননি’ বলে কি বুঝাতে চেয়েছেন তা আমরা যারা সাধারণ ঘরের তৎকালীন ছাত্র হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম তাদের ক্ষুদ্র জ্ঞানে বোধগম্য নয়।
প্রশ্ন ২। আপনি বলেছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা ‘রাজাকারের বাচ্চা নয় ওরা এদেশেরই সন্তান। ছেলেরা ন্যায্য প্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছে। এ প্রস্তাব দেওয়ার অধিকার তাদের আছে। এ অধিকার অর্জনে লাখ লাখ জীবন তারা বিসর্জন দিয়েছেন’। আমার প্রশ্ন কোটা সংস্কারের দাবী কি কেবল মুক্তি যোদ্ধার সন্তান বা তাদের পোষ্যদের জন্য নাকি আপনার মত আন্তর্জাতিক আইন ব্যবসায়ী যিনি হাইকোর্ট বা সুপ্রীম কোর্টে এদেশের একজন গরীব খেটে খাওয়া মানুষ যিনি মামলায় বাদী/বিবাদী হয়ে আপনার সেরেস্তাখানায় স্বরণাপন্ন হলে তার বিপরীতে আপনাকে দিতে হয় লক্ষ লক্ষ টাকার বিজ্ঞ ব্যারিষ্টারী ফিস। আপনি একবারও ভেবে দেখেছেন কি এদেশের শতকরা কতভাগ মানুষ আপনার মত বিজ্ঞ কৌশুলীর চাহিদা মাফিক ফিস দিয়ে বিজ্ঞ বিচারকের এজলাশে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়? আপনার মত যাদের ছেলে মেয়েরা অর্থের জোরে এদেশ বাদ দিয়ে দেশের বাইরে পড়ায়। তাদের তো কোটার দরকার হয় না ?
প্রশ্ন ৩। আপনি মাঝে মাঝে দেখি দেশে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন। কাদেরকে নিয়ে? যাদের মধ্যে একজনের নাম আমি বলি। নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক জনাব মাহমুদুর রহমান মান্না যিনি কিনা এক সময়ের তথাকথিত বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নীতিতে বিশ্বাসী এবং আপনার প্রণীত সংবিধানের অস্বীকারকারী তৎকালীন সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে বিশ্বাসী সাবেক ডাকসু ভিপি। আপনি তখন ঐ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী। এবং বঙ্গবন্ধু সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নীতি নির্ধারক। কিছু পঁচা, উচ্ছিষ্ট, দলত্যাগী, আদর্শ নৈতিকতা বিরোধী (বচৌ, জাসি, কাসি, আর, মামা) দের নিয়ে ঐক্য প্রচেষ্টা চালিয়েও এক কদম এগুতেতো পারেননি। বাস্তবে একটা ভাঁড়ে পরিণত হয়েছেন। এটা সঠিক কিনা?
প্রশ্ন ৪। আপনি অর্ধেক বাঙালি অর্ধেক পাকিস্তানী সুতরাং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি এমন অসংযত বক্তব্য রাখার দু:সাহস আপনি কোথা থেকে পান?
প্রশ্ন ৫। বক্তব্যের উপসংহারে আপনার সামনে দাড়ালে ‘২ চড় মারবেন’ বলে যে আস্ফালন করেছেন। এতটা বই লেখা পড়া মানুষ, সংবিধান প্রণেতা, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনার একথাটা কাদের উদ্দেশ্যে কিজন্য বলেছেন খোলাসা করে বলবেন কি? নাকি হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক এক সময়ের বঙ্গবন্ধুর আনুকুল্যে মন্ত্রীত্ব পাওয়া ক্ষমতার দাপুটে মন্ত্রী এখন সবকিছু হারিয়ে বয়সের ন্যুজভারে, বিকৃত মস্তিস্কের অন্ত:জ্বালায় কেবল আবোল তাবোল বলে দেশবাসিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকবেন? উত্তর দিবেন কি?

(আলহাজ্ব জিএম আব্দুল গফুর)
বীর মুক্তিযোদ্ধা (বি.এল.এফ)
সাবেক উপ-পরিচালক, বি.আরডিবি)
মুন্সীপাড়া, সাতক্ষীরা।
০১৭১৭-৬৫৮২৩০