রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


প্রকাশিত : আগস্ট ৪, ২০১৮ ||

আগামী ৭ আগস্ট বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। বাল্যকালেই কবির সাহিত্য প্রতিভার উন্মেষ ঘটে। বিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা সেভাবে তিনি লাভ না করলেও সাহিত্যের বিচিত্র ক্ষেত্রে তার পদচারণা এক বিষ্ময়ের ব্যাপার। তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভার অধিকারী। ১৯১৩ সালে তিনি গীতাঞ্জলি গীতিকাব্যের জন্য প্রথম এশিয়, প্রথম ভারতীয় ও প্রথম বাঙালিদের মধ্যে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। বস্তুত তার একক সাধনায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সকল শাখায় প্রভূত উন্নতি লাভ করে এবং বিশ্ব দরবারে বাংলার গৌরবের আসন প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি একাধারে সাহিত্যিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, সুরকার, নাট্য নির্দেশক ও অভিনেতা। কাব্য, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, গান, প্রবন্ধ প্রভৃতি শাখা তার অবদানে সম্মৃদ্ধ। তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলির মধ্যে মানসী, সোনার তরী, চিত্রা, কল্পনা, ক্ষণিকা, বলাকা, পুনশ্চ, জন্মদিনে, শেষলেখা, চোখের বালি, গোরা, ঘরে বাইরে, যোগাযোগ, শেষের কবিতা, বিসর্জন, ডাকঘর, রক্তকরবী, চ-ালিকা, গল্পগুচ্ছ, কালান্তর, বিচিত্র প্রবন্ধ ইত্যাদি। রবীন্দ্রনাথ ৭ মে ১৮৬১ (২৫ বৈশাখ ১২৬৮ বঙ্গাব্দ) সালে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরকে নিয়ে সাহিত্য দূতে আজ থাকছে:

 

 

রবীন্দ্রনাথ-১

 

নবীনের আহবান

সাকিবুল গাজী

 

উষার পূজা সোনার থালে

তোমায় দেবো,

ফিরে এসো বিশ্বকবি

নবীনের আহবান।

 

দিগন্তের শেষে যদি

রক্তিম গোলাপ ফোঁটে,

সে তোমায় দেবো,

ফিরে এসো বিশ্বকবি

নবীনের আহবান।

 

নিশিথ-আলোতে যত প্রেম,

দেখতে চাই তোমার চোখে।

ফিরে এসো বিশ্বকবি

নবীনের আহবান।

 

সুর-লহরী, অমৃতের-গান,

জগতের চিরন্তন-প্রেম, সব

শিখতে চাই তোমার কাছে,

ফিরে এসো বিশ্বকবি

নবীনের আহবান।

 

 

রবীন্দ্রনাথ-২

 

ভূ-ম-লে চির স্মরণীয়

রবিন দাস

 

 

কবিতার ঠাকুর তুমি হে রবীন্দ্রনাথ

প্রণাম তোমায়

নিজ প্রতিভাগুণে বিশ্ব-জনতার

হৃদয়ের মাঝে জায়গা নিয়েছ আজ

তোমায় ভুলতে পারি না,

জন্ম তোমার কলকাতায় হলেও

ছায়াঢাকা পাখিডাকা মাতুল গৃহ তোমার

খুলনার পিঠাভোগে

শ্বশুরালয় দক্ষিণডিহি ধাম,

কীর্তি তোমার বিশ্বজনের হৃদয়ে

ছন্দে আনন্দে ভূ-ম-লে চিরস্মরনীয়

বরণীয়

ভক্তির অঞ্জলি জানাই তোমায়।

 

 

রবীন্দ্রনাথ-৩

 

সোনার ছেলে

নিশিকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়

 

কোথা থেকে মেঘ কণেরা

বাদল এলো নিয়ে

ঝুপড়ি বসে ভাবছে বুড়ি

ওদের বুঝি বিয়ে।

 

বিয়ে হলে আমায় ওরা

করতো নিমন্ত্রণ

মনের সুখে আজকে বুড়ি

ভাবছে মনে মন।

 

দেখছি না তো তেমন কোনো

ভোজের আয়োজন

তা হলে কী ওসব কিছুই

হবে না এখন।

 

বুঝছি না তো আজকে কেন

সরব চারিধার

শ্রাবণ মাসে ঝুমুর তালে

ঝরছে জলধর।

 

মনের কোণে উঠছে ভেসে

বিদায় কালের গান

‘সোনার তরী’ পাল তুলে ঐ

তুলছে সোনার ধান।

 

রক্ষা করো রক্ষা করো

তোমার সোনার ধান

বিবেকটাকে রক্ষা করো

আসছে প্রবল বান।

 

কোথায় গেলে সোনার ছেলে?

তোমায় স্মরণ করি

আবার তুমি জোয়ার তোলো

বিশ্বভুবন পুরি।

 

 

রবীন্দ্রনাথ-৪

 

প্রত্যাখান

রেজা স্বপন

 

আমি আয়োজন করি শূন্যতা

নিঃসঙ্গ তরঙ্গের সাথে তা উদযাপন করি

আমার প্রত্যাশা এবং সম্ভাবনা দুটোই

গন্তব্য ভাঙা হাট।

 

দুপুরের শেষ অধ্যায়ে বাবুই বসতি

আমি মসৃন আতিথেয়তা করি ও

প্রত্যাখান করি

শুধু তোমাকে ছাড়িনে রবীন্দ্রনাথ।

 

 

রবীন্দ্রনাথ ৫

 

হৃদয় কাঁপানো করুণ আকুতি

অরুণ সান্যাল

 

অজস্র তারকারাজি ঝলমলে সবাই

কেউ বা ক্ষুদ্র কেউ বা বৃহৎ

কেউ বা উজ্জ্বল অতি

তেমনি বিশ্বকবি আমাদের তুমি

পৃথিবীতে সমুজ্জ্বল।

 

নদী যেমন হারিয়ে যায়

রেখে যায় তার স্মৃতি

অনন্তকাল ধরে রয়ে যাবে কবি

তোমার অমর কীর্তি।

 

তুমি নেই রয়েছে তোমার বিপুল জ্ঞানভা-ার

ক্ষুদ্র আমরা তোমারে করি স্মরণ,

তোমার রচনাবলি পড়ে এক জীবনে

করা যাবে কি সমাপ্তিকরণ?

 

তুমি আছ আমাদের মাঝে সব সময়

তুমি বিনে অচল প্রত্যহ সাহিত্যের পদচারণা।

 

 

রবীন্দ্রনাথ ৬

 

আলোর শহরের দিকে

সৌহার্দ সিরাজ

 

 

গভীরতর এক দু:খবোধ থেকে বেরিয়ে

আমি তোমার দিকে তাকিয়ে,

রবীন্দ্রনাথ!

 

পথে পথে তোমার কথার রাজ্য

সুর ছড়ানো রাশি রাশি

তোমায় খুঁজতে আমি

আকাশের নীলকে কাছে ডেকেছি,

কালান্তর পুরুষ!

বুকে জড়িয়ে ধরেছি মেঘের ছায়া!

 

এই আমি কখনো নিজকে চিনি

নিজকে ভুলি কখনো অন্যমনে,

অচেনা কলরব নির্বাসনে রেখে

চারুলতা আমার মন

আলোর শহরের দিকে চলে যেতে চায়

সব সময়।

 

বিকশিত হলে সততার সংস্কৃতি

মুক্ত হলে বন্ধন জড়তার

পাব কি সুন্দরের দেশ,

কবি?

নি:সঙ্কোচে ফেলে দিলে সকল সংকীর্ণতা

প্রবাহমান সত্তার উৎকীর্ণ মানস

ও স্বাভাবিক নির্ণয় পাবো?

তোমার কাছে আমি

‘হৃদয়নন্দন বন’-এর পাঠ নিতে চাই

পরান-বাউল!

 

 

রবীন্দ্রনাথ ৭

 

ইলোরা আরবী

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ

 

তুমি ছিলে, তুমি আছো

তুমি থাকবে।

কে বলে তুমি নেই!

তুমি মধ্য গগনের রবি

তুমিই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ

তুমি নিজেই এক অফুরন্ত

জ্ঞানভা-ার,

তোমার পরশে আমরা

আলোকিত,

সাহিত্যে এমন কোনো শাখা নেই যেখানে

তোমার পদচারণ ঘটেনি,

তুমি আছো আমাদের মাঝে,

তোমার সকল সৃষ্ট সাহিত্য

স্মরণ করে হচ্ছে

তোমার স্মৃতি চারণ।

আজ ২২ শে শ্রাবণ

বিন¤্র শ্রদ্ধা সম্মাণ ভক্তি

ভরে জানাই তোমায়

শত সহ¯্র প্রণাম,

জানি তুমি আছো

আমাদের মাঝেই আছো।

 

 

নো-ম্যান্স্ ল্যা-ের দিকে

কুন্তল রুদ্র

 

এ এক রেখা-পারাপারের গল্প

 

‘তাড়িয়ে দেব, সব তাড়িয়ে দেব

কথা না-শুনলে

খাতা থেকে কেটে দেব নাম-

জয় বজরংবালী !’

 

প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে মিশকালো ট্রেন

বড় হরফে গায়ে লেখা

‘অনাগরিক’।

নামকাটাদের ভিড়ে ভর্তি হয়ে এল,

ঘন্টা বাজছে –

বেড়ার ওপাড়ে ফেলেই ফিরবে আবার!

ক্যামেরার ফ্রেমে

শ’য়ে শ’য়ে ট্রাকভর্তি কাঁটাতার,

‘খুঁটি পুঁতব, বেড়া দেব

নাম কেটে তাড়িয়ে দেব’

পাইক বরকন্দাজ নিয়ে

স্বপ্নরাজ হেঁকে ফিরছে দিগবিদিকে!

 

রাজবাড়ির দপ্তরে এখন দুটো খাতা

একটা নিশুতির মত মিশকালো

মলাটে লেখা ‘অনাগরিক’,

হনুমানের ছবি দেওয়া

গেরুয়া মলাট অন্যটার।

একই খাতা-মলাটই আলাদা শুধু,

গোবিন্দরা তা জানে না।

ভেবেছিল

লোক কমলে তো ভালই

ভাগে বাড়বে কিছু!

দুই খাতাতেই সব গোবিন্দর নাম,

কখন দ্বিতীয় খাতায়

কোন্ গোবিন্দর নাম কাটা যাবে

লাখটাকার প্রশ্ন এখন সেটাই!

 

আচ্ছেদিনের আলোকমালায় সাজানো

ফ্যান্টাসির নগর,

একটা করে নাম কাটা যায়

একটা করে আলো নেভে

আর একটা অন্ধকার মুখ এসে ওঠে

কালো গাড়ির কামরায়।

বিমূর্ত না-মানুষ ওরা,

চিবুকে ঝুলন্ত এক ঝাপসা বোধ

‘স্বদেশেই উদ্বাস্তু তবে এত দিন’!

 

দেশকালের সীমানা ছাড়িয়ে

নো-ম্যান্স্ ল্যা-ের দিকে

ওদের যাত্রা শুরু,

ক্যামেরার অ্যাপার্চার কমে এসে

ডেপ্থ্ অফ ফিল্ড বাড়ে,

তখন আকাশের তারারা ঘসা কাঁচ

চারিদিকে কাঁটাতারের বাহারি চারুকলা