খান বাহাদুর আহছান উল্লা ও কালিগঞ্জ কলেজ সরকারি হওয়ায় উচ্ছ্বাসিত শিক্ষক-শিক্ষাথীরা


প্রকাশিত : আগস্ট ১৩, ২০১৮ ||

আসাদুজ্জামান সরদার: দেশের ২৭১ কলেজসহ জেলার দেবহাটার খান বাহাদুর আহছান উল্লা ও কালিগঞ্জ কলেজ সরকারি হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে এই দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষাথীরা।
দীর্ঘ চার বছরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে আজ সরকারি হয়েছে খান বাহাদুর আহছান উল্লা কলেজ। এদিকে দুই বছরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে আজ সরকারি হয়েছে কালিগঞ্জ কলেজ। দুটি কলেজ সরকারি হওয়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা উল্লাসিত। তবে আগস্ট মাস শোকের তাই আনন্দ মিছিল করবে না।
খান বাহাদুর আহছান উল্লা কলেজ: খান বাহাদুর আহছান উল্লা কলেজ সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ মহাসড়কের দেবহাটার উপজেলার সখিপুর এলাকায় অবস্থিত। অবিভক্ত বাংলার শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা সংস্কারক, আত্মাধিক সাধক, সমাজ সংস্কারক শাহ্ ছুফী খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (রহ.) নামে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠাটি ১৯৮৫ সালে ৫.৭৪ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমান কলেজে ৭৩ শিক্ষক ও কর্মচারী এবং প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে মানবিক, বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও ব্যবসায়িক শিক্ষা (বিএম) কোচ চালু আছে। ডিগ্রী পর্যায়ে বিএ, বিএসসি, বিডিএস, বিএসএস। এছাড়া বাংলা, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, রাষ্ট্র বিজ্ঞান, প্রাণি বিদ্যা, হিসাব বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা সম্মান কোর্চ চালু আছে।
খান বাহাদুর আহছান উল্লা কলেজর অধ্যক্ষ মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অবহেলিত এই জেলার দুটি কলেজ সরকারি করা হয়েছে। তার মধ্যে আমাদের এই কলেজ সরকারি করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ। দেবহাটার এলাকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। দারিদ্র শিক্ষার্থীর নিজ এলাকায় থেকে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাবে। খান বাহাদুর আহছান উল্লা কলেজ সরকারি হওয়ায় এই অঞ্চলের নারী শিক্ষা মান আরও বৃদ্ধি পাবে। শোকের মাস হওয়ায় আনন্দ মিছিল বের করা হবে না বলে জানান তিনি। এছাড়া ক্যাডারভুক্ত বিষয়ে শিক্ষকের কোন ক্ষোভ নেই।
কালিগঞ্জ কলেজ: কালিগঞ্জ-শ্যামনগর মহাসড়কের বাজারগ্রাম-রহিমপুর এলাকায় অবস্থিত। এই কলেজটি ১৯৬৯ সালে ৬ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। ২৩ জন শিক্ষক ও প্রায় ১৫শ’ শিক্ষার্থী রয়েছে।
কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক মানবিক, বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও ব্যবসায়িক শিক্ষা (বিএম) কোচ চালু আছে। ডিগ্রী পর্যায়ে বিএ, বিকম, বিএসএস, বিএসসি এবং রাষ্ট্র বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা ও ইসলাম শিক্ষায় সম্মান কোর্চ চালু আছে।
সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কলেজটি সরকারি করণের মাধ্যমে এই এলাকার মানুষের অনেক দিনের দাবী পুরণ করা হয়েছে। এখনকার দরিদ্র শিক্ষার্থীরা কম খরচে নিজ এলাকায় থেকে পড়া লেখার সুযোগ পাবে। বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ক্যাডারভুক্ত হতে পারা না পারা নিয়ে কোন শিক্ষকের কোন ক্ষোভ নেই।
প্রসঙ্গত, রবিবার প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত অনুযায়ী সাতক্ষীরার ২টি কলেজসহ আরও ২৭১টি কলেজ সরকারি করা হয়েছে। রবিবার (১২ আগস্ট) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব নাছিমা খানম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সরকারি হওয়া কলেজগুলোর মধ্যে ঢাকা জেলার ৪টি, মানিকগঞ্জের ৪টি, নারয়ণগঞ্জের ৩টি, মুন্সীগঞ্জের ৩টি, গাজীপুরের ৩টি, নরসিংদীর ৪টি, রাজবাড়ির ২টি, শরীয়তপুরের ৪টি, ময়মনসিংহের ৮টি, কিশোরগঞ্জে ১০টি, নেত্রকোনার ৫টি, টাঙ্গাইলে ৮টি, জামালপুরে ৩টি, শেরপুরে ৩টি, চট্টগ্রামে ১০টি, কক্সবাজারে ৫টি, রাঙামাটি ৪টি, খাগড়াছড়িতে ৬টি, বান্দরবানে ৩টি, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ফেনীতৈ একটি করে, কুমিল্লায় ১০টি, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া ৬টি, চাঁদপুরে ৭টি, সিলেটে ৯টি, হবিগঞ্জে ৫টি, মৌলভীবাজারের ৫টি, সুনামগঞ্জে ৮টি, রাজশাহীতে ৭টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২টি, নাটোরে ৩টি, পাবনায় ৭টি, সিরাজগঞ্জে তিনটি, নওগাঁ জেলায় ৬টি, বগুড়ায় ৬টি, জয়পুরেহাটে একটি, রংপুরে ৭টি, নীলফামারীতে ৪টি, গাইবান্ধায় ৪টি, কুড়িগ্রামে সাতটি, দিনাজপুরে ৯টি লালমনিরহাটে ৩টি, ঠাকুরগাঁয়ে একটি, পঞ্চগড়ে ৪টি, খুলনায় ৫টি, যশোরে ৫টি, বাগেরহাটে ৬টি, ঝিনাইদহে একটি, কুষ্টিয়ায় দুটি, চুয়াডাঙ্গায় দুটি, সাতক্ষীরায় দুটি, মাগুরায় ৩টি, নড়াইলে একটি, বরিশালে ৬টি, ভোলায় ৪টি, ঝালকাঠিতে ৩টি, পিরোজপুরে দুটি, পটুয়াখালীতে ৬টি, বরগুনায় তিনটি। এই ২৭১টি বেসরকারি কলেজ সরকারি হওয়ার পর পর দেশে মোট সরকারি কলেজ ও সমমানের প্রতিষ্ঠান হলো ৫৯৮টি।