ঈদের তৃতীয় দিনেও জেলার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়


প্রকাশিত : আগস্ট ২৫, ২০১৮ ||

আসাদুজ্জামান সরদার/বেলাল হোসেন: মুসলমানদের দ্বিতীয় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহার তৃতীয় দিনেও সুন্দরবনসহ জেলার বিনোদন কন্দ্রেগুলোতে পর্যটকদের ভিড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। ঈদুল আযহার দিন কোরবানির মাংস কাটাকাটি নিয়ে ব্যস্ত থাকা এবং ঈদের দ্বিতীয় দিন বৃষ্টির কারণে অনেকে বের হতে পারেননি। ঈদের তৃতীয় দিন এবং শুক্রবার হওয়ায় পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকাসহ সাতক্ষীরার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে শিশুসহ সব বয়সী মানুষের ভিড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। ঈদের ছুটিতে বিভিন্ন জেলা থেকে সড়ক পথে সুন্দরবন উপভোগ করতে অনেকে পর্যটক ছুটে এসেছেন সাতক্ষীরা সুন্দরবন এলাকায়।
সুন্দরবনের কলাগাছিয়া, দোবেকি, আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজমসহ বিভিন্ন পয়েন্টে সকল বয়সের মানুষের পদচারণনায় মুখরিত হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে সুন্দরবন সংলগ্ন চুনা নদীর পাড়ে গড়ে উঠা আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজমে যেন তিল ধরার ঠাঁই ছিলো না।
এছাড়া সাতক্ষীরা শহরের মোজাফ্ফর গার্ডেন, লেক ভিউ, আব্বাস গার্ডেন, রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যাটন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলোও দর্শনার্থীদেও ভিড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। চুয়াডাঙ্গা থেকে বাস নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে আসা পর্যটক আবুল হোসেন বলেন, ঈদের ছুটিতে এলাকার বন্ধুরা মিলে সুন্দরবন বেড়াতে এসেছি। সবাই সুন্দরবন ভালো উপভোগ করেছি। আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টাররি ঘুরে খুব ভালো লেগেছে। এখানে সুন্দরবনে বিভিন্ন জীব-বৈচিত্র দেখে মুগ্ধ হয়েছি। এছাড়া এখানে অবস্থিত আব্দুস সামাদ মিউজিয়ামে দেশী ও সামদ্রিক বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জিব জন্তুর ফরমালিন দ্রবণে বড় বড় কাচের পাত্রে সাজানে আছে। এখানে এসে সুন্দরবন এবং এই অঞ্চলের জেলে ও বাওয়ালীদের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র সম্পর্কে জানাতে পারলাম। ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা একজন গণমাধ্যমকর্মী বলেন, একমাত্র সড়ক পথে সুন্দরবন দেখার সুযোগ রয়েছে সাতক্ষীরা দিয়ে। সে কারণে ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে সুন্দরবনে ঘুরতে আসা। সাতক্ষীরা অনেক ইতিহাস ঐতিহ্যবাহী এলাকা আছে সেগুলো ঘুরে ভালোই লাগছে।
শ্যামনগর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান বলেন, ঈদকে কেন্দ্রে করে সুন্দরবন ও আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারসহ এই এলাকার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীরা ভিড় করে। সুন্দরবন ভ্রমণে আসা পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে ট্রলার ও নৌকার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। কোন পর্যটক যাতে ভ্রমনে এসে হয়রানি শিকার না হয় সেদিকে সতর্ক আছে প্রশাসন।
এদিকে ঈদ আরও আনন্দময় করতে এবং সাধারণ মানুষের চলাফেরা নিবিঘœ করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলাজুড়ে ৩ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।