তালায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা


প্রকাশিত : আগস্ট ২৫, ২০১৮ ||

তালা প্রতিনিধি: যৌতুকের টাকা না পেয়ে তালার জেয়ালা গ্রামে সাবিনা বেগম (২৩) নামের এক গৃহবধুকে পিটিয়ে ও বিষপান করিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনায় গুরুতর আহত গৃহবধুকে তালা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ উঠেছে মাদরাসা শিক্ষক স্বামী জিল্লুর রহমান যৌতুকের টাকা না পেয়ে তার স্ত্রী সাবিনা বেগমকে হত্যার চেষ্টা করে।
উপজেলার জেয়ালা গ্রামের আব্দুল বারীক সরদার জানান, তাঁর মেয়ে সাবিনা বেগমের সাথে ৫বছর পূর্বে বিয়ে হয় কেশবপুর উপজেলার দোরমুটিয়া গ্রামের আজগর আলী সরদারের ছেলে জিল্লুর রহমান’র সাথে। বর্তমানে জিল্লুর রহমান ও সাবিনা বেগম দম্পতির জুলিয়া খাতুন (৩) নামের এক কন্যা সন্তান রয়েছে।
আব্দুল বারিক জানান, জিল্লুর রহমান কেশবপুরের কাসতা গহর আলী দাখিল মাদরাসায় গণিত বিভাগের শিক্ষকতা করায় প্রথমে মনে হয়েছিল ভদ্র মানুষ। সেই হিসেবে তার সাথে মেয়েকে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের সময় মেয়ে-জামাই এর সুখের জন্য মটরসাইকেল, আসবাবপত্র ও নগদ টাকা সহ প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মালামাল দেয়া হয়। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পরই বেরিয়ে আসে জিল্লুর’র আসল চেহারা! সাবিনার সাথে বিয়ের আগে জিল্লুর প্রথম স্ত্রী তানজিলা বেগম যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন সইতে না পেরে পিতার বাড়িতে চলে যায়। সেই নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় শাশুড়ি ছবিরোন বেগম’র উস্কানিতে স্বামী জিল্লুর রহমান প্রতিনিয়ত সাবিনা বেগমকে মারপিট করতো। মারপিট সইতে না পেরে সাবিনা একাধিকবার পিতার বাড়িতে চলে আসে। কিন্তু আর নির্যাতন করা হবেনাÑমর্মে অঙ্গিকার করে প্রতিবারই সাবিনাকে স্বামী জিল্লুর রহমান বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
সাবিনা বেগম জানান, যৌতুকের জন্য মারপিট করে আমাকে তালাক দেয়া হয়। এসময় আমি বাবার বাড়িতে চলে আসলে আমার স্বামী জিল্লুর রহমান আবারও আমাকে তার বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যৌতুকের দাবিতে ফের মারপিট করে। আর এসব সহ্য করছিলাম আমার একমাত্র সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে!
সাবিনা আরো বলেন, শ্বশুর বাড়িতে নতুন করে পাকা বসতঘর নির্মাণের জন্য আমার শাশুড়ি ছবিরোন বেগম ও স্বামী জিল্লুর রহমান আবারও ২ লক্ষ টাকা দাবি করে। কিন্তু আমার বাবা সেই টাকা দিতে না পারায় আমাকে পিটিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। এরপর আমি গত শনিবার জেয়ালা গ্রামে বাবার বাড়িতে এসে আশ্রয় নিই। এমতাবস্থায় গত সোমবার জিল্লুর রহমান জেয়ালা গ্রামে এসে ঘর করার জন্য টাকা না পেয়ে সাবিনাকে শাবল দিয়ে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এমনকি মৃত্যু নিশ্চিত করতে এবং ঘটনার মোটিভ ভিন্নখাতে নিতে সাবিনার মুখে বিষ ঢেলে দেয়। একপর্যায়ে সাবিনার চিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন এগিয়ে আসলে জিল্লুর রহমান পালিয়ে যায়। ঘটনায় গুরুতর আহত সাবিনা বেগমকে ওইদিন তালা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এবিষয়ে মামলা দায়ের’র প্রক্রিয়া চলছে।