ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মিথ্যা মামলা করায় বাদী নাজমা আক্তারকে জেল জরিমানা


প্রকাশিত : August 29, 2018 ||

বদিউজ্জামান: ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মিথ্যা মামলা দায়ের করায় বাদী আনু ওরফে নাজমা আক্তারকে ৩ বছর সশ্রম কারাদ-, ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদ- প্রদান করেছেন আদালত। মঙ্গলবার বিকালে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক হোসনে আরা আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আনু ওরফে নাজমা আক্তার শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের মেয়ে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, আনু ওরফে নাজমা আক্তার ২০১১ সালের ২৩ আগস্ট একই এলাকার নুর আলী শেখের ছেলে কামরুল ইসলামের (৫০) বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার মিথ্যা অভিযোগ এনে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলার আসামী কামরুলকে পরদিন পুলিশ আটক করেন। দীর্ঘ প্রায় এক মাস কারা ভোগের পর ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর তিনি জামিন পান। এরমধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মনোয়ারা খাতুন তদন্ত শেষে আসামী কামরুল এ মামলায় জড়িত থাকার কোন সত্যতা না পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করেন। এ রিপোর্টর বিরুদ্ধে বাদী নাজমা আক্তার আদালতে নারাজি দেন। একপর্যায়ে আদালত তার নারাজি আমলে নিয়ে আবারও মামলাটি তদন্ত করে রিপোর্ট দেয়ার জন্য তৎকালীন ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলামকে দায়িত্ব দেন। তিনি দীর্ঘ তদন্ত শেষে এ ঘটনায় আসামী কামরুল জড়িত থাকার কোন প্রমান না পাওয়ায় তিনিও আদালতে তার বিরুদ্ধে ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করেন এবং একই সাথে এ মামলার বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানান। আদালত ওই রিপোর্ট পেয়ে আসামী কামরুলকে এ মামলা থেকে ২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর অব্যাহতি দেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি কামরুল বাদি হয়ে মিথ্যা মামলায় তাকে হয়রানি করার অভিযোগে একই আদালতে পূর্বের বাদী নাজমা আক্তারের বিরুদ্ধে ১৭ ধারায় একটি পাল্টা মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় মঙ্গলবার ৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও নথি পর্যালোচনান্তে নাজমা আক্তারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে ৩ বছর সশ্রম কারাদন্ড, ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।
সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি এড. জহুরুল হায়দার বাবু বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ রায়ের সময় আসামি নাজমা আক্তার পলাতক ছিলো।