আশাশুনিতে বিল্ডিং কোড না মেনেই নির্মাণ হচ্ছে বিল্ডিং


প্রকাশিত : August 29, 2018 ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: আশাশুনিতে বিল্ডিং কোড না মেনেই নির্মাণ হচ্ছে বহুতল ভবন। এছাড়া সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং প্লানিং ছাড়াই ও ভূমিকম্প প্রতিরোধক নিয়ম না মেনেই অদক্ষ রাজমিস্ত্রি (কারিগর) দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ৫ থেকে ১০তলা বিশিষ্ট বিলাশবহুল ভবন। যে কোন সময় মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প হলেই ধ্বসে যেতে পারে নির্মাণাধীন এসকল বহুতল ভবন। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের মতে ৫তলা বা তার বেশি উঁচু বিল্ডিং নির্মাণ করতে হলে একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়াদের তৈরী নকশা অনুসরণ করে ভূমিকম্পরোধক বিল্ডিং নির্মাণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় দুর্যোগ প্রতিরোধ দিবসের একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সকলকে ভবন তৈরির ক্ষেত্রে জাতীয় বিল্ডিং কোড মেনে চলতে হবে। তা না হলে নিজের ঘরও নিরাপদ হবে না। অন্যদিকে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন পৃথক এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন শহর থেকে উপজেলা পর্যায়ে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে জাতীয় বিল্ডিং কোড মেনে চলতে হবে। যত্রতত্র বিল্ডিং নির্মানের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন গ্রামগঞ্জে যারা বিল্ডিং তৈরির কাজে সরসরি জড়িত, তারা খুব বেশি দক্ষ না। রাজমিস্ত্রী ও জোগাড়িদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে তাদেরকে বিল্ডিং কোড সম্পর্কে সচেতন করা জরুরী। কৃষিজমি নষ্ট না করে অকৃষি জমিতে পরিকল্পিত নগরায়ণ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন মন্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে একাধিক সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে আলাপকালে তারা এ প্রতিবেদকে বলেন বিল্ডিং ডিজাইনের আগেই অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা মাটির গুনাগুণ বিশ্লেষণ ও মাটির ধারণক্ষমতা নির্ভুলভাবে নির্ণয়পূর্বক রিপোর্ট তৈরি করতে হবে। বিল্ডিং নির্মাণের সময় অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের (সিভিল ইঞ্জিনিয়ার) তদারকির মাধ্যমে কাজের গুণগত মান, গুনগতমানের সিমেন্ট, রড, বালির ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং কংক্রিটের চাপ বহন ক্ষমতা কোনো অবস্থাতেই ৩হাজার পিএসআই-এর নিচে নামানো যাবেনা। নির্মানাধীন ভবনে ব্যবহৃত রডের বহন ক্ষমতা ৬০ হাজার পিএসআই-এর কাছাকাছি আছে কিনা এবং বিল্ডিং-এর প্যান ও এলিভেশানের দুই দিকই সামাঞ্জ্য আছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে। নির্ধারিত ডিজাইনের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত ফ্লোর নির্মাণ করা যাবে না। বিল্ডিং কোড অনুসারে এক্সপানশান ফাঁক রাখাসহ বেশি পরিমাণ সরু ও উঁচু বিল্ডিং-এর পাশ হঠাৎ করে কমাবেন না। যদি কমাতে হয় তাহলে আগেই ত্রিমাত্রিক ডাইনামিক বিশ্লেষণ করে ডিজাইন করতে হবে। বিল্ডিং-এর উচ্চতা যদি ভবনের প্রস্থের ৪ (চার) গুণের অধিক হয় তাহলে ত্রিমাত্রিক ডাইমানশন বিশ্লেষণ করে ডিজাইন করতে হবে। ওয়াল বা কংক্রিটের দেয়াল ডিজাইনের সঠিক স্থানে বসিয়ে ভূমিকম্পরোধ শক্তির পরিমাণ বাড়াতে হবে। তা না হলে বর্তমান সময়ে যে হারে প্লানিং ছাড়াই বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে, তা মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প হলেই ধ্বসে যাবে বলেন মনে করেন প্রকৌশলীগন। এছাড়া বিল্ডিং এর নিচের তলা পার্কিং-এর জন্য খালি জায়গার জন্য ঐ তলার পিলারগুলো প্রয়োজনমতো কংক্রিটের দেওয়াল দিয়ে বেষ্টনীবদ্ধ করতে হবে। তবে বিমের থেকে পিলারের শক্তি কমপক্ষে ২০% বেশি করে ডিজাইন করতে হবে। ৫ ইঞ্চি ইটের দেয়ালগুলো ভূমিকম্পের জন্য আদৌ নিরাপদ নয়। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি দেয়ালের উপরে গুনোগতমানের রড দিয়ে আড়াআড়ি ও লম্বালম্বিভাবে লিন্টল বিশিষ্ট বিল্ডিং নির্মান করতে হবে। নতুন বিল্ডিং নির্মাণে ভূমিকম্প প্রতিরোধক নিয়মাবলি প্রয়োগ করলে, শুধুমাত্র ২-৩% নির্মাণ খরচ বৃদ্ধি পায় বলে জানান সিভিল ইঞ্জিনিয়াররা।