পরিবর্তনের রাজনীতির সুবাতাস থেকে বঞ্চিত হবে বিএনপি

নিউজ ডেস্ক : গুণগত রাজনীতির পরিবর্তন এবং উদার ও গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার মত পার্থক্যের কারণে বিএনপির সাথে দূরত্ব বাড়ছে ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর। বিএনপির বিগত শাসনামলে বিরোধী দল দমনে পৈশাচিকতা, নির্মমতা, জঙ্গিবাদ বিস্তারে সরাসরি মদদের মত দেশ বিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবর্তনের রাজনীতিতে বিএনপিকে বিশ্বাস করতে পারছে না অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো। একারণেই বিএনপির রাজনৈতিক জোট গঠনের একাধিক প্রচেষ্টা বিফলে গেছে। খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নির্দেশনা সত্বেও ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলোকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি।

সূত্র বলছে, দুর্নীতির দায়ে খালেদা জিয়ার জেল-জরিমানা হওয়া, তারেক রহমানের পলাতক রাজনীতির কারণে বিএনপির অবস্থা ছন্নছাড়া আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টির মত। ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের উপর কঠিন সব প্রতিশোধ নেয় দলটি। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পর্যন্ত হত্যা করার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করে বিএনপি। এছাড়া জামায়াতের কূটবুদ্ধিতে বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং পাকিস্তানের আদর্শে কট্টরপন্থী ইসলামী রাষ্ট্র বানানোর চেষ্টায় ইসলাম বিরোধী শক্তির নামে প্রগতিশীল মানুষদের হত্যার জন্য সরাসরি জঙ্গিবাদকে উসকে দেয় দলটি। বিএনপির শাসনামলে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে পরপর পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। দেশের উন্নয়নযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছিল অসুস্থ রাজনীতির চর্চায়। তারেক রহমানের ক্ষমতার অপব্যবহার, সীমাহীন লুটপাট ও দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কিত এবং অবহেলিত ছিল। বিএনপির বিগত শাসনামলের আমলনামা চিন্তা করে ভয়ে তাদের বাড়িয়ে দেওয়া হাত ধরতে রাজি হচ্ছে না উন্নয়ন, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দলগুলো। বি. চৌধুরী, ড. কামাল হোসেনের মত বর্ষীয়ান নেতারাও বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। বিএনপির অধঃপতনের জন্য খালেদা জিয়ার নির্বুদ্ধিতা এবং তারেক রহমানের দুর্নীতিকে দায়ী করে আগামী নির্বাচনে তাই বিএনপির দুর্নীতির চুলায় নিজেদের রুটি ভাজতে রাজি নয় প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো। প্রয়োজনে তারা নিজেরাই একত্রিত হয়ে ছোট ছোট রাজনৈতিক জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায়। এরপরেও তারা বিএনপির মত পথভ্রষ্ট একটি দলের সঙ্গী হতে চায় না। এছাড়া জামায়াতের মত একটি নিষিদ্ধ এবং জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী দলের ছায়াও মাড়াতে রাজি নয় তারা। জামায়াতের মত ঘৃণ্য ও যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত দলকে পরিত্যাগ করলে হয়ত কিছু আলো দেখতে পারে বিএনপি।

এই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের একজন অধ্যাপক বলেন, বৈশ্বিক রাজনীতির পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের রাজনীতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সে পরিবর্তন অবশ্য উন্নয়ন, গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে হবে। বিএনপি-জামায়াতের মত প্রশ্নবিদ্ধ দল কখনোই সেই পরিবর্তনের সুবাতাস পাবে না। রাজনীতি মানুষের উপকারের জন্য, মানুষকে পুড়িয়ে মারার জন্য নয়। বিএনপি-জামায়াত নিশ্চিতভাবে দুর্নীতির সাথী পাবে না এই সময়ে এসে। মানুষ স্বচ্ছ রাজনীতির চর্চা দেখতে চায়। মানুষ খুঁটি-খাম্বার রাজনীতিতে বিন্দুমাত্র বিশ্বাস করে না।