প্রধান শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগকে আর্থিক দুর্নীতি নওয়াবেঁকী হাইস্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কতজন?


প্রকাশিত : আগস্ট ৩১, ২০১৮ ||

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরের নওয়াবেঁকী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে আর্থিক দুর্নীতি ও তঞ্চকতার অভিযোগ উঠায় দুই জন শিক্ষকই ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক দাবী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ, নওয়াবেঁকী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রধান শিক্ষক, অফিস সহকারী ও এমএলএসএস পদগুলো শুন্য রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে লেখাপড়াসহ বিভিন্ন কার্যক্রম দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক আলমগীর কবির কে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্বভার অর্পন করেন। আলমগীর কবির দীর্ঘদিন যাবৎ কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক অদ্যবদি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সহকারী প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান মিঠু তিনিও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে অদ্যবদি দায়িত্ব পালনের কথা পত্রিকা মোতাবেক জানা গেছে। একই প্রতিষ্ঠানে ২ জন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হওয়া কে কেন্দ্র করে এলাকায় হাস্যকার সৃষ্টি হয়েছে।এবিষয়টি উদ্দেশ্য প্রনোদিত বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। এদিকে বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ, নওয়াবেঁকী হাইস্কুলের শূন্যপদ গুলো নিয়োগ পরীক্ষা আগামী ৩ সেপ্টেম্বর দিনধার্য থাকায় নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের আমন্ত্রণ পত্রে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে আলমগীর কবিরের স্বাক্ষর আছে বলে জানা গেছে। আমন্ত্রণপত্র গুলো প্রধান শিক্ষক পদে আবেদনকারী আটুলিয়া ইউনিয়ন যুব দলের সভাপতি ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান মিঠু স্বহস্তে প্রদান করায় নিয়োগ নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ উঠছে। এ নিয়ে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় অনেক যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও উক্ত পদগুলোতে আবেদন করতে না পারায় ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক পদে ৩ জন অন্য জায়গা থেকে এবং এ বিদ্যালয় থেকে ৪ জন আবেদন করার তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক পদে বিএনপি অঙ্গসংগঠন যুব দলের আটুলিয়া ইউনিয়ন সভাপতি ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান মিঠু নিয়োগ পেতে অর্থের বিনিময়ে দৌড় ঝাপ শুরু করেছেন। তারই সমর্থন পুষ্ট কয়েক জনকে প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন করিয়ে নিজ ফাঁয়দা হাসিলের চেষ্টা অব্যহত রাখার গুঞ্জন উঠেছে। শরীর চর্চার শিক্ষক পদে যোগদান করেন আসাদুজ্জামান মিঠু। তিনি বিএড ডিগ্রীধারী নহেন এবং শিক্ষাস্তরে কয়েকটি পরিক্ষায় একাধিক ৩য় বিভাগ রয়েছে। নিয়োগ বোর্ডে যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের সদস্য না করে তঞ্চকতা করে পশুখাদ্য বিক্রেতা স্বল্প শিক্ষিত এসএমসির সদস্য সত্যরঞ্জনকে সদস্য করতে মিঠু ভূমিকায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এদিকে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য পদগুলোতেও একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সর্বত্রে মানুষের মুখরোচক হচ্ছে। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও আটুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি গাজী কামরুল ইসলাম যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সমপন্ন করতে প্রচেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন। তবে তিনি আলমগীর কবিরই ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক হিসেবে স্বীকার করেন। স্থানীয়রা জানান, সহকারী প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান মিঠু প্রভাব খাটিয়ে প্রধান শিক্ষক হওয়ার অপতৎপরতার লিপ্ত রয়েছেন। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ ভাবে নওয়াবেঁকী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ সম্পন্ন করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী।